kalerkantho


বিজনেস ডাইনিংয়ে আদব-কায়দা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২৭



বিজনেস ডাইনিংয়ে আদব-কায়দা

বাড়িতে ডাইনিং টেবিলে বসে যেমন ইচ্ছা খেতে পারেন। সেখানে আয়েশ করে হাসি-ঠাট্টা করতে করতে খাওয়াট হয়তো অভ্যাস হয়ে গেছে আপনার।

কিন্তু বিজনেস ডাইনিং ভিন্ন বিষয়। অথচ পেশাজীবনে এটা শিখে রাখা দরকার। এখানে বসে আপনার সম্পর্কে মানুষের ইতিবাচক বা নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয়। বাবা-মাও সন্তানকে বিজনেস ডাইনিংয়ের আচার-ব্যবহার সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন না। কোনো অফিসিয়াল আয়োজনে খাবার টেবিলে বসে কি করতে হবে সে সম্পর্কে ধারণ দিয়েছেনেন প্রোটোকল অ্যান্ড এটিকোয়েটি ওয়ার্ল্ডওয়াইড এর প্রতিষ্ঠাতা এবং ইন্টারন্যাশনার প্রোটোকল এক্সপার্ট শ্যারন শ্যুউইৎজার। এখানে আপনি নিন কিছু পরামর্শ।

১. যদি আপনি সবাইকে নিমন্ত্রণ করে থাকেন, তবে গোটা বিষয় সামলে ওঠার দায়িত্ব আপনারই। অর্থাৎ মেহমানদের আপ্যায়ন থেকে শুরু করে খাবারের বিল দেওয়া সব আপনাকেই করতে হবে। বন্ধুত্বপূর্ণ কথার মাধ্যমেও নিমন্ত্রণ দেওয়া যায়।

সে ক্ষেত্রে সবাই আপনার মেহমান হয়ে যাবেন।

২. যদি আপনি কারো অতিথি হয়ে যান, তবুও অনেক কিছুই মেনে চলতে হয়। ব্যবসার কাজে যদি কেউ আপনাকে দাওয়াত করেন, তবে তার আন্তরিকতা নষ্ট হয় এমন কোনো কথা বলবেন না। আবার সম্পর্ক ও পরিস্থিতির খাতিরে আপনিও খরচের ভাগীদার হতে পারেন। যেমন একটি ফিটনেস কম্পানির সিইও জানান, একবার আমাকে একজন দাওয়ার করলেন। সেখানে আমাদের ভালো সম্পর্ক হলো। সারাদিন দুজন একসঙ্গে থাকলাম। তো একটা বেলা আমি সঙ্গীকে খাওয়ানোর প্রস্তাব দিলাম। যার অতিথি হয়ে গিয়েছি তিনি তো সারাদিন সব নিজেই করছেন। একটাবার আমিও এগিয়ে যেতে পারি। আবার অনেক প্রতিষ্ঠানের নিয়ম থাকতে পারে যে, তার কোনো কর্মী অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের খাবার খেতে পারবে না বা উপহার নিতে পারবে না। এ অবস্থায় নিমন্ত্রণকারীকে বিনয়ী কণ্ঠে নিজ প্রতিষ্ঠানের নিয়মের কথা জানাতে পারেন। বলতে পারেন, আমি অবশ্যই দাওয়াতে যাবো। কিন্তু আমার খাবারের বিল দয়া করে আমাকেই দেওয়ার অনুমতি দেবেন।

৩. যদি মেহমান হয়ে যান, হবে নিমন্ত্রণকারীকে পর্যবেক্ষণ করুন।

ক. বড় টেবিল বসলে আগে নিমন্ত্রণকারীকে খাবার শুরুর ঘোষণা দেওয়ার সুযোগ দিন। তিনি শুরু করলে আপনি শুরু করুন।  
খ. বিভিন্ন কোর্সের খাবারের ফাঁকে ন্যাপকিনটি নিজের আসনে বিছিয়ে রাখুন।
গ. খাবারের শেষে ন্যাপকিনটি প্লেটের বামপাশে ঢিলেঢালা ভাঁজে রেখে দিন। একে সুন্দর করে ভাঁজ করে রাখতে যাবেন না।
ঘ. নিমন্ত্রণকারী খাবার শেষে ডেজার্ট অর্ডার না করা পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। নিজে আগে থেকে তা করতে যাবেন না।

৪. সঠিক সংকেত প্রদান করতে হবে। যেমন-

ক. মেনু দেওয়া হলে অর্ডার ঠিক করে তা বন্ধ করুন। এতে বোঝা যাবে আপনি অর্ডার করতে প্রস্তুত। যদি ভুলে যান, তো অর্ডার করতে করতে আবারো তা খুলে দেখুন।
খ. চামচ বা চাকু একবার ব্যবহার করলে তা কখনোই টেবিলে রাখবেন না। এগুলো প্লেটেই রাখতে হবে। অব্যবহৃতগুলো টেবিলেই থাকবে।
গ. মুখে খাবার পুরে চাবানো অবস্থায় হাতে ধরা চামচ প্লেটের ওপরের দিকের কিনারে রাখুন।
ঘ. খাওয়া শেষ হলে চাকু ও চামচ প্লেটের মাঝখানে এমনভাবে রাখুন যে তা ঘড়ির কাঁটায় ৫টা বেজেছে বলে মনে হয়।

৫. খাবার অর্ডারের ব্যবস্থা থাকলে কাণ্ডজ্ঞান বজায় রেখে অর্ডার করুন। অনেকে সবচেয়ে বেশি দামি খাবারগুলো অর্ডার করতে চান। নিমন্ত্রণকারী বলতেই পারেন যে, যার যা ইচ্ছা বেছে নিন। কিন্তু আপনি স্বাভাবিক অর্ডার করুন। প্রয়োজনে নিমন্ত্রণকারীর কাছ থেকে মেনু সম্পর্কে ধারণা নিতে পারেন। তার পছন্দের ডিশ সম্পর্কে প্রশ্ন করতে পারেন। বলতে পারেন যে, রেস্টুরেন্টটি খুবই সুন্দর। খাবারও চমৎকার হবে আশা করছি। আপনার কাছে কোন খাবারগুলো পছন্দের তালিকায় রয়েছে? এতে কিছু ধারণা পাবেন।

৬. আর যদি আপনি নিমন্ত্রণকারী হয়ে থাকেন, তবে অতিথিদের অর্ডার করার সময় কিছুটা কাণ্ডজ্ঞান রাখার জন্য ধারণা দিতে পারেন। বলতে পারেন, এখানকার কোন খাবারটি ভালো এবং তা সবাই খেয়ে দেখতে পারেন। এতে করে অতিথিরাও ধারণা পাবেন।

৭. পানীয়ের ক্ষেত্রে একেক জনের একেক পছন্দ সামলে নেওয়াটা ঝামেলা তৈরি করতে পারে। সে ক্ষেত্রে সবার জন্য আগে থেকেই নির্দিষ্ট পানীয়ের অর্ডার দিয়ে রাখুন। নিজের বাজেট অনুযায়ী কাজটি করুন।

৮. ডিনার পার্টিতে খাওয়ার পর পরই প্রয়োজনীয় আলাপে চলে যাবেন না। ব্যবসা সংক্রান্ত কথা-বার্তা শুরু করুন কফির মগ হাতে নিয়ে। আর খেতে খেতে পণ্য, দাম বা চুক্তি নিয়ে হালকা কথা বলতে পারেন।

৯. কোনো রেস্টুরেন্টে দাওয়াতে গেলে যারা সেবা দিয়েছেন তাদের টিপসের বিষয়টি চলে আসে। আপনি নিমন্ত্রণকারী হয়ে থাকলে আগেই বলে দিতে পারেন যে, টিপসের দায়িত্ব আপনার। আবার অতিথি হয়েও নিমন্ত্রণকারীকে গিয়ে প্রস্তাবটি দিতে পারেন। তবে তার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক, পেশার বৈশিষ্ট্য ইত্যাদির ওপর বিষয়টি নির্ভর করে।

১০. মনে রাখবেন, খাবার একটি সার্বজনীন অভিজ্ঞতা। খাবার মানুষকে খেতেই হয়। এর আয়োজন সবাইকে এক স্থানে আনে। আপনি নিয়ন্ত্রণকারী বা অতিথি যাই হন না কেন, মনে রাখবেন, সবাই এক হওয়ার জন্যেই এই আয়োজন। কাজেই সবার সঙ্গে পরিচিত হতে ও খাবার উপভোগ করার আশা নিয়েই এখানে অংশ নিন। কেউ যেন আপনার উপস্থিতি ও আচরণে বিরক্ত না হন। সূত্র : ইনক

 


মন্তব্য