kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কেমন হওয়া উচিত আপনার বর্জ্য পানিটির রং?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৩৭



কেমন হওয়া উচিত আপনার বর্জ্য পানিটির রং?

অনেকেই মূত্রের রং একটু গাঢ় হয়ে গেলেই দুশ্চিন্তায় পড়ে যান। কিন্তু কোনো চিকিৎসকের কাছে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করাও বিব্রতকর।

আর এ কারণে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিও কম নয়। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হাফিংটন পোস্ট।

মূত্রের সঠিক রং কোনটি
কোন রং হওয়া উচিত মূত্রের? এ ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা বলেন, মূত্রের সঠিক রং বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট নিয়ম নেই। বিভিন্ন খাবারের কারণে মূত্রের রং পরিবর্তিত হতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন ওষুধের কারণেও মূত্রের রং পাল্টে যেতে পারে। বিটমূল খেলে আপনার মূত্রের রং যেমন পাল্টে লালাভ হয়ে যেতে পারে তেমন অ্যাসপারাগাস খেলে তা সবুজাভ হয়ে যেতে পারে। আর এতে স্বাস্থ্যের ওপর কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ে না। তবে পর্যাপ্ত পানি পান করা হচ্ছে, এ বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।

কতক্ষণ পর পর মূত্র ত্যাগ করা উচিত?
প্রতিদিন একজন মানুষ দুই লিটার পর্যন্ত মূত্র ত্যাগ করতে পারে। স্বাভাবিক একজন মানুষের ব্লাডারে ৩০০ থেকে ৪০০ কিউবিক সেন্টিমিটার মূত্র ধারণ করা যায়। এ হিসাবে প্রতিদিন পাঁচবার মূত্র ত্যাগ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানুষের মাঝে পার্থক্য থাকতে পারে। আপনার যদি মনে হয় আপনি বেশিমাত্রায় মূত্র ত্যাগ করছেন তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ এটি কোনো জটিল রোগেরও লক্ষণ হতে পারে।

মূত্রের সঙ্গে রক্ত
কারো যদি বিটমূল খাওয়ার পর মূত্র লালাভ হয়ে যায় তাহলে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু মূত্রের সঙ্গে যদি সত্যিই রক্ত নির্গত হয় বা লাল রংয়ের মূত্র ত্যাগ করতে হয় তাহলে তা সত্যিই বিপজ্জনক। এটি প্রস্টেট ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ ও অন্য কোনো জটিল রোগেরও লক্ষণ হতে পারে। তাই দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

মূত্রত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া
মূত্রত্যাগের সময় আপনার যদি জ্বালাপোড়া করে তাহলে এটি যৌন রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ছাড়া মূত্রতন্ত্রের সংক্রমণ কিংবা অন্য কোনো রোগেরও লক্ষণ হতে পারে। আর এ কারণে বিষয়টিকে অবহেলা করার উপায় নেই। এ সমস্যা পুরুষের তুলনায় নারীর বেশি হয়।

মূত্র ধরে রাখা কি ক্ষতিকর?
মূত্র ধরে রাখা ক্ষতিকর কি না, এটি অনেকেরই প্রশ্ন। তবে এ প্রশ্নের উত্তরে বিশেষজ্ঞরা বলেন, বাসযাত্রায় কয়েক ঘণ্টা মূত্র ধরে রাখা খুব বড় কোনো সমস্যা নয়। তবে এটি যদি সারাদিন হয়ে যায় তাহলে বিপজ্জনক। এতে শরীরের ক্ষতি হতে পারে।

আমি কি অতিরিক্ত মূত্র ত্যাগ করি?
অতিরিক্ত মূত্র ত্যাগ করা অনেক সময় বিপজ্জনক রোগের লক্ষণ হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আপনার যদি এমন সমস্যা থাকে তাহলে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করুন। এ ছাড়া আপনার যদি সত্যিই বিষয়টি অন্যদের থেকে অতিরিক্ত মনে হয় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।

মূত্র কি বিশুদ্ধ? পান করা যায়?
মানুষের মূত্র স্টেরাইল। অর্থাৎ আপনি এটি জরুরি জীবনরক্ষার প্রয়োজনে (খাবার পানির অভাবে) পান করতে পারেন। তবে স্বাভাবিক অবস্থায় এটি পান করা উচিত নয়।

মূত্র যদি না হয়
অনেক রোগী বলেন, আমার মূত্রত্যাগের ইচ্ছে হয় কিন্তু মূত্র হিসেবে কিছুই নির্গত হয় না। এ ক্ষেত্রে কী করা উচিত? এ প্রশ্নের জবাবে বিশেষজ্ঞ ড. বেনজামিন ডেভিস বলেন, বহু রোগীরই এমনটা হতে দেখা যায়। পুরুষ ও নারী উভয়ই এ সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারেন। স্বাভাবিকভাবে ব্লাডার যদি ওভারঅ্যাকটিভ বা সংবেদনশীল হয়ে পড়ে তাহলে এ সমস্যা হতে পারে। এ ছাড়া এটি রোগীর বয়স ও ইতিহাসের ওপর নির্ভরশীল। তবে সমস্যাটি দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।


মন্তব্য