kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আপনি সর্বনিম্ন কত টাকা বেতনে কাজ করতে আগ্রহী, এর উত্তরে কী বলব?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:১০



আপনি সর্বনিম্ন কত টাকা বেতনে কাজ করতে আগ্রহী, এর উত্তরে কী বলব?

প্রিয় লিজ,
চলতি মাসে দুজন নিয়োগদাতা আমাকে একই প্রশ্ন করেছেন: আপনি সর্বনিম্ন কত টাকা বেতনে চাকরি করতে আগ্রহী আছেন?
প্রশ্নটি আমার পছন্দ হয়নি। কারণ আমি বুঝতে পারছিনা কেন একটি খ্যাতিমান  কম্পানি কর্মীদেরকে যতটা সম্ভব ততটা কম বেতন দেওয়ার নীতি অবলম্বন করবে।

তবে উপায়ান্তর না দেখে আমি প্রশ্নটির উত্তর দিয়েছি।
আমি বলেছি, আমি বর্তমানে ৭৩ হাজার ডলার বেতন পাই। সুতরাং ৮০ হাজার ডলার না পেলে আমি কর্মস্থল বদল করব না।
আমার উত্তর শুনে প্রথম নিয়োগকর্তা বলেছেন, তাদের পক্ষে আমাকে এই বেতন দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু অপর নিয়োগকর্তা বলেছেন, তাদের পক্ষে আমাকে এতো বিশাল পরিমাণ বেতন দেওয়া সম্ভব নয়। অথচ তাদের কেউই বলেননি যে তাদের কম্পানি সর্বনিম্ন কত টাকা বেতনে আমাকে নিয়োগ দিতে পারবে।
কিন্তু আমি জানি আমার দক্ষতানুযায়ী আমি ৮০ হাজার ডলার বেতন পাওয়ার যোগ্য। আমার কথা শুনে দ্বিতীয় নিয়োগ কর্তা এলিসার মাথা খারাপ হওয়ার যোগাড় হয়ে গিয়েছিল।
প্রশ্নটির উত্তরে আমি কি এরচেয়ে ভালো কোনো কৌশল অবলম্বন করতে পারতাম?
ধন্যবাদ,
কলিন

উত্তরে দিচ্ছেন লিজ রায়ান
প্রিয় কলিন,
আজকাল অনেক কম্পানিই কর্মপ্রার্থীদেরকে এ ধরনের প্রশ্ন করে থাকেন। যদিও এটি মারাত্মক রুঢ় এবং বেমানান একটি প্রশ্ন।
আপনি উল্লেখ করেছেন যে, কোনো নিয়োগকর্তাই আপনার পদটির জন্য তাদের সর্বনিম্ন বাজেট কত তা বলেন নি। তাহলে আপানার কাছে কেন আপনার সর্বনিম্ন বেতন চাহিদা জানতে চাইছে?
আসলে এই ধরনের প্রশ্ন যারা করে তাদের কম্পানিতে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ না করাই ভালো। তবে এমনও হতে নিয়োগকর্তাকে হয়তো তার কম্পানি এ ধরনের প্রশ্ন করতে বলেনি। এটি হয়তো ওই নিয়োগকর্তার ব্যক্তিগত অভ্যাস বা তার নিয়োগ ফার্মের নীতি।
এ ধরনের প্রশ্ন শোনার পর আপনি নিয়োগকর্তাকে পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন, “আপনার কম্পানি কি আপনাকে আমার সর্বনিম্ন বেতন চাহিদা কত তা জানতে প্রশ্ন করতে বলেছে?”
“আমি আপনাকে পাল্টা প্রশ্ন করছি কারণ এই ধরনের প্রশ্ন আমার কাছে আক্রমণাত্মক এবং অনধিকার চর্চামূলক মনে হয়েছে। যে কম্পানি আমার কর্মজীবনের লক্ষ্য না জানতে চেয়ে বরং আমার সর্বনিম্ন বেতন চাহিদা জানতে চায় সেটি আমার জন্য সঠিক কাজের জায়গা হতে পারে না। আমার কাজের সঠিক জায়গা হবে সেটি যেটি আমার কর্মজীবনের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য জানতে চাইবে এবং আমার সঙ্গে তাদের কম্পানির লক্ষ্য-উদ্দেশ্য মিলে কিনা তা পরখ করে দেখতে আমাকে সহযোগিতা করবে। ”
প্রতিভার বাজারে এখন নতুন দিন এসে গেছে। পুরোনো নিয়োগকর্তাদের যারা কর্ম অনুসন্ধানকারীদেরকে ভর্ৎসনা বা জ্বালাতন করবে তারা এই প্রতিভা-সচেতন বাজারে টিকে থাকতে পারবেন না। কর্মানুসন্ধানকারী হিসেবে কাউকেই আপনি নিজেকে হুমকি দেওয়ার সুযোগ করে দেবেন না। নিয়োগকর্তারা বাস্তবতা সম্পর্কে যত বেশি সচেতন হবে ততই সত্যিকার প্রতিভাবানরা চালকের আসনে বসতে পারবেন।
আর আপনি নিজেও যতক্ষণ নিয়োগের সমীকরণে আপনার ক্ষমতাটুকু স্মরণে রাখবেন ততক্ষণই আপনি চালকের আসনে আসীন থাকবেন!
শুভ কামনায়,
লিজ


মন্তব্য