kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পার্টি মাদক কেটামিনে মানসিক রোগ প্রতিরোধ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৫৮



পার্টি মাদক কেটামিনে মানসিক রোগ প্রতিরোধ!

গত পাঁচ বা ১০ বছরে উদ্দাম পার্টি করতে ব্যবহৃত মাদক কেটামিন মানসিক রোগের চিকিৎসকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই ওষুধ আমরা যেভাবে মানসিক রোগ নিয়ে ভাবি তার পক্রিয়াকে বিপ্লবায়িত করেছে।

এমনটাই বলেছেন, কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টারের মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ক্রিস্টিন ড্যানি।
কারণ বড় ধরনের মানসিক অবসাদের চিকিৎসায় ক্যাটামিন লক্ষণীয়ভাবে কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়েছে। কিন্তু এটি শুধু অবসাদের চিকিৎসার চেয়েও বড় কিছু করতে সক্ষম। মস্তিষ্কে এটি প্রতিরক্ষামূলকভাবে বেশ কিছু কার্যকর ভুমিকাও রাখতে সক্ষম। যা অন্যান্য মানসিক সমস্যাও আগেভাগেই প্রতিরোধ করবে।
মানসিক অবসাদের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধগুলো ইতিমধ্যেই বিদ্যমান রোগের লক্ষণগুলো দমিয়ে রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু সে ক্ষেত্রে চিকিৎসা বন্ধ করার পর মানসিক অসুস্থতা পুনরায় ফিরে আসতে পারে।
আর মানসিক অবসাদ বা অন্যান্য মানসিক বিশৃঙ্খলাজনিত সমস্যা আগে থেকেই প্রতিরোধ করা গেলে তা হবে সম্পুর্ণতই নতুন একটি বিষয়। যা গভীর ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে সক্ষম।
এটি রহস্যময়ও বটে। তবে এটি ঠিক কীভাবে কাজ করে তা এখনো জানা যায়নি।
ইরাকে আহত মার্কিন সেনাদের চিকিৎসার সময় এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, কেটামিন প্রয়োগের ফলে সেনাদের ট্রমা পরবর্তী মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। এই ওষুধটি ইতিমধ্যেই বেদনানাশক হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
প্যাটেন্ট করতে না পারার কারণে কেটামিন নিয়ে এখন আর ওষুধ কম্পানিগুলোর বিশেষ গবেষণা চালানোর সুযোগ নেই। তবে এর ভিত্তিতে নতুন ওষুধ তৈরি করতে পারবে কম্পানিগুলো।
ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে কেটামিন গ্রহণ করা হয়। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত চাপমূলক বা ট্রমার পরিস্থিতিতেও মানসিক বিশৃঙ্খলা থেকে রেহাই পাওয়া যায়।
মেজাজ মর্জির বিশৃঙ্খলা পুরোপুরি সারিয়ে তোলার মতো কোনো ওষুধ এখনো আবিষ্কার হয়নি। শুধু এর লক্ষণগুলো দমিয়ে রাখার মতো ওষুধ আবিষ্কার হয়েছে। কিন্তু আগে ভাগেই যদি ওষুধ প্রয়োগে মানসিক বিশৃঙ্খলা প্রতিরোধ করা যায় তাহলে এর লক্ষণগুলো দমিয়ে রাখার জন্য কোনো ওষুধ প্রয়োগ করারও দরকার হবে না।
তবে কেটামিনের কিছু নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও রয়েছে। এর ফলে মানসিক বিভ্রম এবং মাতাল হওয়ার মতো অনুভূতিরও সৃষ্টি হতে পারে।
ফলে গবেষকরা কেটামিন থেকে এমন কোনো ওষুধ তৈরির চেষ্টা করছেন যার প্রয়োগে এই নেতিবাচক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলোও সৃষ্টি হবে না। এই ওষুধ বানানো গেলে বিশ্বব্যাপী প্রচুর সংখ্যক মানুষের উপকারে আসবে। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই ২০১৫ সালে তরুণদের ৭% অবসাদজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে এই ওষুধ বিশ্ব জনসংখ্যার মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ও বিশাল ভুমিকা পালন করবে বলেই বিশেষজ্ঞদের অভিমত।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য