kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুরুষের ভঙুর অহংবোধের কারণেই কি সম্পর্ক ভেঙে যায়?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৫৬



পুরুষের ভঙুর অহংবোধের কারণেই কি সম্পর্ক ভেঙে যায়?

প্রেমিকের গাড়িতে বসেছিলেন থিয়ের্সা উকপো। চিন্তা করছিলেন কোন ভুলটি করে ফেললেন।

তিন মাস ধরে সম্পর্ক তার। রাতে বের হলেন দুজন। হাই হিল পরে বেশ সাজগোজ করেছেন তিনি। সবই ঠিক ছিল, শুধু গাড়ির একটি চাকার হাওয়া চলে গেলো।

প্রেমিক গাড়ির চাকা ঠিক করতে সংশ্লিষ্ট জায়গায় ফোন দিলেন। এরপর অপেক্ষা। রাত হয়ে গেছে। চারদিকে অন্ধকার। মোটেও নিরাপত্তাবোধ করছিলেন না উকপো। অপেক্ষায় না থাকলে উকপো নিজেই গিয়ে চাকাটি বদলে ফেলতে পারেন। এই চিন্তা করে তিনি প্রস্তাবও দিয়ে দিলেন। কারণ কাজটি দুজন মিলে ঠিকই করতে পারবেন। এতে সময়ও বাঁচবে। কিন্তু করতে পারলেন না। কারণ মেয়ে হিসাবে কাজটি করা শোভন দেখায় না। আবার প্রেমিকও কাজটি করছিলেন না। অপেক্ষা করতে লাগলেন। এ কাজ কি তার অহংবোধে বাধা দেয়?

উকপোর মতো এমন অনেক গল্প ছড়িয়ে রয়েছে চারদিকে। পুরুষদের পৌরষত্ব নিয়ে যে ইগো কাজ করে তা নিয়ে মনোবিজ্ঞানের ব্যাখ্যা খুঁজছিলেন অ্যান্ড্রু স্মিলার। তিনি নিজে পুরুষদের এমন অহংবোধের কথা অহরহ শুনেছেন এবং দেখেছেন। ডেটিংয়ে সততা নিয়ে যাওয়া একজন নারী সহযোগী হয়ে উঠতে চান। কিন্তু পুরুষরা কেমন থাকেন?

স্মিলার ব্যাখ্যা করে বলেন, লিঙ্গভেদে মানুষের আচার-আচরণ সম্পর্কে আমাদের মাঝে অনেক ভুল তথ্য ছড়িয়ে রয়েছে। এমনকি একবিংশ শতকের সংস্কৃতিতেও পুরুষদের এমন ধারণা দেওয়া হয় যে, তারা নিজের কোনো দুর্বলতা প্রকাশ করা উচিত নয়। সম্পর্কে নিজেকে জাহির করতে সে বিভিন্ন উপায় গ্রহণ করে থাকে।

এই শিক্ষাই দেয় উকপোর ডেটিংয়ে রাতটি। উকপো নিজেই চাকা বদলাতে চাইছিলেন যেন দেরি না হয়। নিশ্চয়ই প্রেমিক তা বিশ্বাস করতে পারতেন না যে উকপো হয়তো কাজটি করতে পারবে। কাজেই সে সহায়তাকারীদের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। গাড়ি ঠিক হওয়ার পর বাড়ি পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত প্রেমিক কোনো কথাই বলেননি।

উকপো বুঝতে পারছিলেন না তিনি কি ভুল করেছেন। জানান, চাকা বদলাতে চেয়ে সম্ভবত তিনি প্রেমিকের পৌরষত্বে আঘাত করেছেন। কিংবা প্রেমিক ভেবে নিয়েছিলেন, সাহায্যের জন্য আসা মানুষগুলো অপেক্ষাতেও থাকতে চান না উকপো। এ জন্য বিরক্ত হয়েছেন প্রেমিক।

পরে উকপো তার ছেলে বন্ধুদের জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তার কি ভুল হয়েছিল। সর্বসম্মতিক্রমে উত্তরটি ছিল, উকপো তার প্রেমিককে কাপুরুষ মনে করেছিলেন। এ নিয়ে প্রেমিক হীনমন্যতায় ভুগছিলেন।

স্মাইলার জানান, একজন পুরুষ কোনো নারীর সামনে নিজেকে বীর্যবান বলেই ধরে নেন। যেকোনো পরিস্থিতি নিজেই সামলে নেওয়ার ক্ষমতাসম্পন্ন হয়ে থাকতে চান। এটাই তার অহং। যেকোনো ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো নেতিবাচক হয়ে উঠতে পারে। অসংখ্য ডেটিং ভেস্তে গেছে পুরুষদের এই অহংবোধের কারণে। একে সামলে চলা মাইনফিল্ডে হাঁটার মতোই। পুরুষদের এই পৌরষত্ব-বিরোধী কথা বলা নারীদের এক সময় চুপ করিয়ে দেয়। একটা সময় নারী অসহায় হয়ে পড়েন। পুরুষরা ভাবেন, ওই নারী নিয়ন্ত্রণ নিতে চাইছে।

পুরুষদের এই অহং এক ধরনের সমস্যা। একে নিয়ে পুরুষের নিজেকেই কাজ করতে হবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ দায়িত্ব যেন নারীর ওপরই বর্তায়। কেন?  

সম্পর্ক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আন্দ্রিয়া সির্তাশ বলেন, ভঙুর অহং নিয়ে যে পুরুষরা চলেন তারা সামাজিকভাবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। তাদের শক্ত-সমর্থ হয়ে থাকতে হয়। দুর্বলতা প্রকাশ করা যাবে না। এ কারণে তারা সব আবেগ প্রকাশ করতে চান না। ভুল বোঝাবোঝি থেকে পুরুষের এমন ভঙুর অহংবোধ তৈরি হয়।

এমন ইগোকে সামাল দিতে নারীদের পরামর্শ দিয়েছেন আন্দ্রিয়া। জানান, এমন পুরুষদের এড়িয়ে চলাই ভালো। আর যদি সময় বেশি দিয়ে থাকেন, তবে একে সামলে নেওয়ার জন্য আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে হবে। নারীরাও সব সময় বোঝেন না যে, আপনার সঙ্গী সব আবেগ প্রকাশ করতে পারেন না। কিন্তু শুনতে চান যে, তিনি দারুণ ভালো করছেন। তার আচরণ ও সক্ষমতার প্রশংসা করেন আপনি।

পুরুষদেরও এ বিষয়ে সচেতন হতে বলেন তিনি। যদি আবেগ নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তো নিজের কাছেই প্রশ্ন করুন। সঙ্গিনী কি আমাকে আসলেই ছোট করতে চাইছে? সে আমার সম্মানহানী করছে? নাকি আমিই নিজের অক্ষমতা নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগছি?

এমনকি পুরুষরা আরো একধাপ এগিয়ে যেতে পারেন। তারা যে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন তা প্রকাশ করতে পারেন সঙ্গিনীর কাছে। এতে করে দুজনের মধ্যে আবেগের বিষয়ে পারস্পরিক বোঝাপড়ার দ্বার উন্মোচিত হবে। আর তাই দরকার। সম্পর্কে এই বোঝাপড়া না ঘটলে পরিপূর্ণতা আসবে না। পুরুষরা যদি নিজের দুর্বলতা প্রকাশ না করে, তবে অনেক কিছুই অপ্রকাশিত থেকে যাবে। এর মূল্য ঠিকই দিতে হবে নিজেকেই। সূত্র : ওয়াশিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য