kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমার মা আমাকে বড় হতে দিতে চান না, সমাধান কী?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:৪৫



আমার মা আমাকে বড় হতে দিতে চান না, সমাধান কী?

কৈশোর পেরিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই বড় হওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যান। কিন্তু নানা প্রতিবন্ধকতা গ্রাস করে।

আর এ ধরনের এক সমস্যার কথা জানিয়েছেন এক তরুণ। সে তরুণের এ সমস্যার সমাধান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ গ্রাহাম নর্টন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে টেলিগ্রাফ।
প্রিয় গ্রাহাম,
আমি ছোটবেলা থেকেই আমার মায়ের ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর নির্ভরশীল। তিনি আমাকে বলে দেন, কী পরতে হবে, কোথায় যেতে হবে এবং কেমন আচরণ করতে হবে। আর তার এ কর্মকাণ্ড আমাকে লজ্জিত করে। অন্য বন্ধুরা আমাকে নিয়ে হাসাহাসি করে। তারা অনেকেই বলে, আমি কেন তাদের মতো থাকতে পারি না।
আমার মা আমার প্রাইভেসি বলতে কোনো কিছুই রাখেনা। তিনি মনে করেন আমার প্রাইভেসি বলতে কিছু নেই। একই বিষয় তার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। নিজের পোশাক পরিবর্তনের সময়েও তারা আমাকে গুরুত্ব দেন না। আমার উপস্থিতিকে তারা কোনো বিষয়ই মনে করেন না।
একইভাবে তারা আমার নানা বিষয়ে নিজস্ব মতামত চাপিয়ে দেন। এতে আমি ব্যক্তি হিসেবে নিজেকে বিকশিত করতে পারছি না। মাঝে মাঝে তাদের এ স্বেচ্ছাচারিতার কারণে আমি কান্নায় ভেঙে পড়ি।
তিনি আমাকে বলেন যে, তিনি আমাকে ভালোবাসেন। তবে আমি কখনোই বাস্তবে এটি অনুভব করি না। কারণ আমি তার নিকট বাঁধা। আমি যখনই মুক্ত হতে চাই, একটু শ্বাস নিতে চাই তখনই তিনি আমার সামনে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেন।
আমি এ অবস্থা থেকে বের হতে চাই। আমি মুক্ত মানুষ হতে চাই। আমি জানি তিনি আমাকে বড় করছেন। কিন্তু তিনি আমার স্বাধীনতাও যে হরণ করছেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
একজন পুরুষের মতো আমি বড় হতে চাই। আমি একজন ছোট বালক হিসেবে থাকতে চাই না। এজন্য কী করা উচিত?
--ইতি, টম
------------------------

প্রিয় টম,
বহু বাবা-মাই সন্তানকে সেই ছোট্ট বালকের মতোই দেখতে চান। আর এটি কখনো কখনো সন্তানকে স্বাভাবিক জীবনযাপনে প্রতিবন্ধকতাও সৃষ্টি করে।
তুমি তোমার বয়সের কথাও জানাওনি। তবে এটা ধারণা করা যায় যে, তুমি এখনও স্কুলেই পড়। তোমার মায়ের কখনোই উচিত নয়, তোমার স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা দেওয়া। তোমার বড় হয়ে ওঠার জন্য একজন মানুষের মতো করেই তোমাকে দেখা উচিত।
আমি এ সমস্যা সমাধানে তোমাকে তাড়াহুড়ো করে কোনো কিছু করতে নিষেধ করব। এক্ষেত্রে তোমার উচিত হবে ধীরে ধীরে একটি একটি করে পদক্ষেপ ফেলে এগিয়ে যাওয়া। রাগের মাথায় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া তো একেবারেই অনুচিত হবে।
এটা ধারণা করা যায় যে, এ পরিস্থিতি পাল্টানোর জন্য তুমি আগে কোনো চেষ্টা করনি। আর এক্ষেত্রে অবস্থাটি পাল্টানোর চেষ্টা করতে থাকলেই তোমার মা তোমাকে মেনে নেবেন।
তোমার যে ধরনের শার্ট পছন্দ হয়, তা হয়ত তোমার মা পছন্দ করেন না। এক্ষেত্রে তোমার পদক্ষেপ হতে পারে টাকা জমিয়ে তেমন একটি শার্ট কিনে নেওয়া। এরপর তা পরতে থাকলেই তোমার মা তোমার রুচির সঙ্গে পরিচিত হওয়া কিংবা মানিয়ে চলার চেষ্টা করবেন।
এটি কোনো ঝগড়াঝাটি কিংবা চিৎকার চেঁচামেচির বিষয় নয়। উভয়ের মাঝে বোঝাপড়াটা ধীরে ধীরে নতুন করে সাজিয়ে নিতে হবে।
অনেকের কাছেই এ বিষয়টি কঠিন মনে হতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে পরিস্থিতি পাল্টাবে। তোমার নিজের যদি বড় হয়ে ওঠার ইচ্ছা থাকে তাহলে তোমার মা নিজেই তোমাকে সহায়তা করবেন।
--ইতি গ্রাহাম নর্টন


মন্তব্য