kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পেশাগত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে...

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:১০



পেশাগত সীমাবদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে...

ইউএস সেনসাস ব্যুরো এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০১৫ সালে মধ্যবিত্তদের বাৎসরিক আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৫১৬ ডলারে। তথ্যটি সবার জন্য আশার সঞ্চার করলেও একটি বিষয় অনেকের মনে মাথাচাড়া দিচ্ছে।

তা হলো, আমাদের আরো বেশি উদ্যোক্ত দরকার।

আরো বেশি মানুষ যখন চাকরি করছেন, দারিদ্রতা কমে আসছে এবং অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটছে তখন সবাই আশাবাদী। কিন্তু আসল কথা হলো, এই পরিমাণ অর্থ কিছু খুব বেশি কিছু নয়। এ দিয়ে কোনভাবে টিকে থাকা যায়। এটা দিয়ে অবসরের জন্য তেমন সঞ্চয় করা যায় না।

তাই আরো বেশি উপার্জন করা দরকার। আর এ জন্য অনেক কিছুই করতে হবে। এ কারণেই উদ্যোক্তা হয়ে ওঠাটা গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ভয়টা থেকেই যায়। জীবনটাকে বদলাতে হয়তো কোনো উপায়ের দিশা মিলবে না। এখানে বিশেষজ্ঞরা এই ভয় জয় করতে ৫টি বিষয় তুলে ধরেছেন। এগুলো নিজের মধ্যে ধারণ করুন।

১. অর্থ বিষয়ে ধারণা বদলে ফেলুন : অনিশ্চিত ভবিষ্যতের আশঙ্কা নিয়ে সবাই তার অর্থ বাঁচিয়ে রাখতে চান। কিন্তু স্বল্পমেয়াদে ভালো থাকার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদে পরিকল্পনা করুন। অর্থকে সব সময় অনর্থের উপলক্ষ হিসাবে দেখেছি আমরা। একে নিয়ে অধিকাংশ মানুষের বাজে অভিজ্ঞতা রয়েছে। কিন্তু অর্থ শত্রু নয়। একে ইতিবাচকভাবে দেখুন। অর্থ দিতে পার স্বাধীনতা, সুযোগ, সম্ভবনা এবং প্রাচুর্যতা।

২. চাকরি নয়, আসল বিষয় পারফরমেন্স : অনেকের মতে, চাকরি ব্যবাসার চেয়ে নিরাপদ। কিন্তু বিষয়টি মোটেও তা নয়। একটা ব্যবসা চাকরির চেয়ে বরং কম ঝুঁকিপূর্ণ। ব্যবসা মানে নিজের জন্য করে যাওয়া এবং ক্রমেই আয় বৃদ্ধি হওয়া। তবে মধ্যবিত্তরা চাকরির প্রতি আগ্রহী। কিন্তু উদ্যোক্তরাই জানেন যে তাদের পণ্য ও ব্যবসার সফলতা নির্ভর করে কর্মীদের পারফরমেন্সের ওপর। যত বেতই দেওয়া হোক বা যেই দিক না কেন, বড় চাকরিজীবীর পারফরমেন্স ভালো না হলে তিনি কখনোই নিরাপত্তার সঙ্গে চাকরি করতে পারবেন না।

৩. আরামদায়ক অবসরের লোভ ত্যাগ করুন : মধ্যবিত্তদের মাঝ এ সমস্যা দেখা দেয়। তারা একটা আয়েশী অবসর জীবনের কথা চিন্তা করেই জীবন চালান। এর আশায় তারা কষ্ট করতে থাকেন। কিন্তু এই ধারণা মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। চরম মুহূর্তের মধ্য দিয়েও আপনাকে আরাম খুঁজে নিতে হবে। সফলরা জানেন, বড় কিছু পাওয়ার জন্য মূল্য দিতে হবে। আপাতত যন্ত্রণা সহ্য করে নিতে পারলে ভবিষ্যতের ফল সুমিষ্ট হবে। আপনার চারদিকে নেতিবাচক, জটিল এবং সমর্থনযোগ্য নয় এমন ঘটনায় ভরপুর। কিন্তু এর মধ্য থেকেই শুভ কিছু সামনের দিকে নিয়ে যাবে।

৪. আশাবাদী হওয়াটা কৌশল : অধিকাংশ মানুষ আশাবাদী থাকেন না। কারণ তারা ব্যর্থতা দেখতে চান না। কিন্তু আত্মবিশ্বাসীরা জানেন, তারা যেখানেই হাত দেবেন সেখানেই সোনা ফলবে। যদি না হয়, তবে আশাবাদী থাকেন যে পরবর্তিতে হবে। আশাবাদ এমন এক মানসিক অবস্থা যা তাদের এগিয়ে নিতে থাকে। সত্যিকার ক্ষমতা সেখানেই বিরাজ করে।

৫. অর্থের উৎস অসীম : প্রায় সবাই মনে করেন, অর্থের জোগান সীমাবদ্ধ। তাই এদের হস্তগত করতে প্রচুর সংগ্রাম করতে হবে। তারা এমন এক দুনিয়ায় বাস করেন যেখানে অর্থ উপার্জন অনেক কঠিন বিষয়। কিন্তু মুদ্রার ওপিঠ দেখার চেষ্টা করুন। বুঝতে থাকুন যে অর্থ প্রবাহিত হয় আইডিয়া থেকে। আর যতদিন আইডিয়া সমীমাহীন থাকবে, অর্থের জোগান ততদিন ফুরাবে না। গড়পড়তা সবাই যে অর্থ আছে তা ধরার প্রতিযোগিতায় নামেন। কিন্তু সফলরা নতুন কোনো আইডিয়া বের করেন। এতে করে অর্থ আসতে থাকে তার কাছে।

কাজেই যদি চাকরিতে নিরাপত্তাহীনতা, অর্থের অভাব এবং অনিশ্চতি জীবন থেকে বেরিয়ে আসতে চান, তো নতুন আইডিয়া নিয়ে উদ্যোক্ত হয়ে উঠতে হবে। অর্থ বিষয়ে বস্তপচা ধারণাগুলো ত্যাগ করুন। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য