kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্ত্রী-বান্ধবীসহ পরিবারের সদস্যদের ছবি ফটোশপে পর্ন করার অন্ধকার জগত

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৫০



স্ত্রী-বান্ধবীসহ পরিবারের সদস্যদের ছবি ফটোশপে পর্ন করার অন্ধকার জগত

ইন্টারনেটের অন্ধকার তলপেটে হাজার হাজার লোক তাদের বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যসহ পরিচিতজনদের ছবি ফটোশপ করে পর্ন করাতে চাইছেন।
কুখ্যাত ইমেজবোর্ড ওয়েবসাইট ফোরচ্যান এর অ্যাডাল্ট রিকোয়েস্ট সেকশনে নামহীন কিছু ইউজার ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম থেকে ছবি শেয়ার করছেন।

এরপর “এক্স রে” বা ন্যুড ফটোশপিংয়ে দক্ষতা সম্পন্ন লোকদের কাছে বিস্তারিত এবং খোলাখুলিভাবে সেসব ছবির পর্ন করার জন্য আহবান জানাচ্ছেন।
এমনই এক নামহীন ইউজার এক নারীর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “দয়া করে কেউ এই সুন্দরীর এক্স-রে করবেন? ইনি আমার মা”। তবে চাচাতো-মামাতো-ফুফাতো ভাই বোনদের ছবি শেয়ার করে সেগুলো দিয়ে পর্ন তৈরির অনুরোধই বেশি দেখা গেছে। নামহীন এক নারী ইউজার লিখেছেন, “আমার ভাইটিকে ন্যাংটা করতে সাহাজ্য করুন”।
ফোরচ্যান এর অ্যাডাল্ট রিকোয়েস্ট সেকশনের নারী ইউজারদের জনপ্রিয় অনুরোধগুলোর মধ্যে শীর্ষে রয়েছে তাদের জীবন সঙ্গী বা তাদের পুরোনো প্রেমিকের ছবি পর্ন করার অনুরোধ।
আরেক নামহীন ইউজার এক নারীর ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “তার টপস খুলে ফেলুন: দয়াকরে কেউ আমার বন্ধুর মাকে নগ্ন করুন। ”
আরেকজন লিখেছেন, “দয়াকরে আমার মেয়ে বন্ধুটিকে নগ্ন করুন। দেখতে গড়পড়তা সুন্দরী মেয়েদের প্রতি আমার একটা বিশেষ আকর্ষণ আছে। ”
আরেকজন একটি ছবি শেয়ার করে জিজ্ঞেস করেছেন, কেউ তার বন্ধুর বোনের ছবিটি বিকৃত করতে পারবেন কিনা।
অনেকে এমনকি তাদের নিজেদের স্ত্রী এবং প্রেমিকাদের ছবি দিয়েও পর্ন করার অনুরোধ করেছেন। এমনই একজন লিখেছেন: “কেউ কি আমার এই চাঁদমুখো প্রেমিকাটির স্ক্রিনশটের ফটোশপ করে পর্ন করতে পারবেন। ”
আরেকজন লিখেছেন, “এটি আমার স্ত্রীর ছবি। আমি তার দেহটিকে ভালোবাসি। কিন্তু তোমরা নোংরা প্রযুক্তিবিদরা মেয়েদের ছবি দিয়ে যা করতে পারো তা আমি আরো বেশি ভালোবাসি। ”
আরেকজন সরাসরি প্রতিশোধমূলক পর্ন তৈরি করার আহবান জানিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “রিভেঞ্জ শপ রিকোয়েস্ট: আমার প্রেমিকা একটি বেশ্যা। কেউ একজন তাকে দিয়ে পর্ন বানান। ”
গত বছর যুক্তরাজ্য সরকার প্রতিশোধমূলক পর্ন ঠেকাতে একটি নতুন আইন প্রণয়ন করেছে। ওই আইনে যৌন তৎপরতায় লিপ্ত অবস্থায় বা জননাঙ্গ খোলা অবস্থায় ওঠানো কোনো লোকের ছবি ইন্টারনেটে গণপ্রদর্শনীর জন্য ছাড়লে সর্বোচ্চ দু্ই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান করা হয়।
২০০৩ সালে নামহীন প্রাণবন্ত ইমেজ ম্যাসেজিং বোর্ড হিসেবে যাত্রা শুরু করে ফোর চ্যান। কিন্তু যেহেতু এর ইউজাররা তাদের পরিচয় গোপন রেখেই এতে ছবি শেয়ার করতে পারেন সেহেতু এটি ইন্টারনেটের সবচেয়ে মুক্ত এবং সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ হিসেবে গড়ে ওঠে। আর এখান থেকেই ইন্টারনেট অ্যাকটিভিস্ট গ্রুপ অ্যানোনাইমাস এর উৎপত্তি হয়।
ওয়েবসাইটের বহুমুখি বৈশিষ্ট তুলে ধরার পাশাপাশি আই ক্লাউডের তারকাদের নগ্ন ছবি ফাঁস কেলেঙ্কারির কেন্দ্রেও ছিল এই সাইট। তবে অতিসম্প্রতি পশ্চিম কেন্দ্রীয় যুক্তরাষ্ট্রের জ্যাকসন হোল শহরের এক ট্রাফিক স্টপ থেকে ওয়েবক্যামে নগ্ন ফুটেজ সরাসরি সম্প্রচারের একটি ঘটনা থেকে সাইটটি হাজার হাজার লোককে আকৃষ্ট করে।
সূত্র: দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট


মন্তব্য