kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রথম ডেটিংয়ে উদ্বেগ কাটাবেন যেভাবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:০৪



প্রথম ডেটিংয়ে উদ্বেগ কাটাবেন যেভাবে

উদ্বেগে আক্রান্ত লোকরা অতিবেশি আত্মসমালোচক হয়ে থাকেন। নিজের সঙ্গে নেতিবাচক কিছু ঘটার ব্যাপারে তারা সব সময়ই অতিমূল্যায়ন করেন।

আর তাদের প্রায়ই এই অনুভূতি হয় যে, অন্যরা বুঝি সব সময়ই তারেদকে নিয়ে মাথা ঘামান বা বিচার বিশ্লেষণ করেন।

অনেক সময় কোনো একটি সামাজিক পরিস্থিতি নিয়ে শুধু ক্ষণিকের ভাবনার ফলেই কেউ কেউ উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হতে পারেন। এই ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার মনে হবে যে, আপনি বুঝি হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বা নিয়ন্ত্রণহীন অথবা পাগল হয়ে যাচ্ছেন। গুরুতর কোনো সামাজিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগে আক্রান্ত হওয়া লোকরা শ্বাসকষ্ট, ঝিমুনি, ঘামানো, চেহারা আরক্তিম হওয়া, তোতলানো এবং পাকস্থলিতে অস্বস্তি বোধ করার মতো সমস্যা অনুভব করতে পারেন।

প্রায় প্রতি ১৪ জনের একজনই জীবনের কোনো না কোনো সময়ে উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হন। নারী এবং তরুণরা এ ধরনের সমস্যায় বেশি আক্রান্ত হন।

তবে উদ্বেগ কাটিয়ে সফলভাবে ডেটিং করা সম্ভব। এখানে রইল এ সম্পর্কিত কয়েকটি বিজ্ঞানসম্মত পরামর্শ।

১. সব সময়ই চরম মন্দ কিছু ঘটার আশঙ্কা করবেন না
উদ্বেগে আক্রান্ত লোকরা সাধারণত কোনো পরিস্থিতিতে মন্দ কিছু ঘটার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার প্রবণতা দেখান। আর তারা এই ভয়েও থাকেন যে, তারা হয়ত এমন কিছু বলে বা করে বসবেন যা তাদেরকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে দেবে। এসব চিন্তা শুধু উচ্চমাত্রার নেতিবাচক মানসিক অবস্থারই সৃষ্টি করে না বরং তীব্র আতঙ্ক এবং অসহায়ত্বও তৈরি করে। এ ছাড়া ক্ষতিকর শারীরবৃত্তীয় দৈহিক রূপান্তরও ঘটায়। যেমন উচ্চমাত্রায় স্ট্রেস হরমোন নিঃসরণ।

এমন নেতিবাচক অবস্থায় আপনি কখনোই আপনার নিজের সেরা সংস্করণটিও প্রদর্শন করতে পারবেন না। এ থেকে মুক্তির কার্যকর উপায়টি হলো মন্দ কিছু ঘটার ব্যাপারে আগে থেকেই চিন্তা করার বদ অভ্যাসটি ত্যাগ করা। সুতরাং আপনার মনে কোনো উদ্বেগজনক চিন্তার উদয় হলে সঙ্গে সঙ্গেই সেটিকে ঝেড়ে ফেলুন। ভাবুন যে এটি নিছকই এমন একটি চিন্তা যা অন্যান্য ক্ষণস্থায়ী চিন্তার মতোই দ্রুত মিলিয়ে যাবে। গবেষণায় দেখা গেছে, এতে উদ্বেগ কমে আসে।

উদ্বেগমূলক চিন্তা কমানো বা দূর করার আরেকটি সহজ উপায় হলো কয়েক মিনিটের বিরতি নিয়ে গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করুন। এটা করার সময়ও যদি আপনার মাথায় উদ্বেগমূলক চিন্তা আসে তাহলে সে সবে মনোযোগ দেবেন না। বরং শ্বাস গ্রহণেই মনোযোগ ধরে রাখুন। ধ্যানমগ্নতার কৌশল আপনাকে আরামবোধ এবং প্রশান্তির অনুভূতি এনে দেবে।

২. ভয়গুলোর মুখোমুখি হন
উদ্বেগ কাটানোর সবচেয়ে ভালো উপায়গুলোর একটি হলো যেসব পরিবেশ-পরিস্থিতি আপনার মধ্যে আতঙ্ক জাগায় বারবার সেসবের মুখোমুখি হওয়া। আর এটা শুধু ডেটিংয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়। যেসব পরিস্থিতি এবং লোকের কারণে আপনার মাঝে উদ্বেগ সৃষ্টি হয় বারবার তাদের মুখোমুখি হলে আপনার আতঙ্ক কমে আসবে। আর এ থেকে আপনি এও বুঝতে পারবেন যে, আপনি নিজেকে যতটা স্বাভাবিক ভেবেছিলেন তার চেয়েও বেশি স্বাভাবিক আছেন।

যেসব সামাজিক পরিস্থিতি আপনার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে সেসব পরিস্থিতিতে লোকের সঙ্গে কথা বলার অভ্যাস গড়ে তুলুন। প্রথমে অল্প সংখ্যক লোকের সঙ্গে এরপর আস্তে আস্তে আরো বেশি সংখ্যক লোকের সঙ্গে কথা বলুন। এতে কোনো সামাজিক পরিস্থিতিকেই আর আপনার আতঙ্কজনক মনে হবে না। আর লোকারণ্যের মাঝে থেকেও নিজের ওপর আপনার যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকবে।

৩. মাথার ভেতরে কোনো কথপোকথনের পুনরাবৃত্তি করবেন না
কারো সঙ্গে সাক্ষাতের পর আপনি হয়ত 'আমার এই মাত্র একজনের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে' অনুভূতিতে আক্রান্ত হলেন। এরপর তার সঙ্গে কথোপকথনের সময় ব্যবহৃত বাক্যগুলো মাথার ভেতর পুনরাবৃত্তি করতে থাকলেন। গবেষণায় দেখা গেছে, এভাবে পুনরাবৃত্তির ফলে আপনার মনের উদ্বেগ শুধু বাড়বেই। কোনো ইস্যুর মোকাবিলা করতে হলে সেটি ঠিকঠাক করার বা সেটি নিয়ে বাস্তবিক কিছু করার ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করুন। কিন্তু কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এটা করতে পারেন তাদের মানসিক স্বাস্থ্য অনেক ভালো থাকে। সমস্যা মোকাবিলায় যারা আবেগতাড়িত হয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তাদের চেয়ে এরা জীবনে অনেক বেশি ইতিবাচক অনুভূতির অধিকারী হন এবং ইতিবাচক ফলাফল অর্জনে সক্ষম হন। যেমন কেউ যদি আপনাকে বিরক্ত করার মতো কিছু করেন তাহলে তাকে শুধু সেটা না করতে বলুন। কিন্তু পরে সেটি মনের ভেতর বারবার পুনরাবৃত্তি করবেন না।

৪. তারা কি এর যোগ্য?
নিজের ব্যাপারে সব সময়ই সমালোচনামূলক মনোভঙ্গি লালনের পরিবর্তে বরং অন্যদের বিষয়ে ভালো করে জানুন। আপনি যার পেছনে সময় ব্যয় করতে চাইছেন তিনি আসলেই তার যোগ্য কিনা সেটা বুঝার চেষ্টা করুন। এতে আপনি হয়ত একসময় দেখতে পাবেন তিনি হয়ত শুধু মিথ্যা বলেন, নির্ভরযোগ্য নন কিংবা এমন কিছু বলেন যা তিনি নিজেও বিশ্বাস করেন না। এ ধরনের কোনো লোক কি তার সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক স্থাপনের জন্য যোগ্য? একবছর কোনো বাজে সম্পর্কের ফাঁদে আটকে পড়ে থাকার চেয়েও খারাপ বিষয়টি হলো কোনো বাজে সম্পর্কের ফাঁদে একবছর একদিন আটকে থাকা।
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য