kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঘাড় ও পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:২৪



ঘাড় ও পিঠের ব্যথা থেকে মুক্তির উপায়

মোবাইলে দীর্ঘক্ষণ ঘাড় নিচু করে টেক্সট লেখা বা সামনের দিকে ঝুঁকে ল্যাপটপ দেখা ও বই পড়া। এগুলোই পিঠের ওপরের এবং নিচের অংশে ব্যথার সবচেয়ে বড় কারণ।

দীর্ঘ সময় ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে থাকার ফলে মেরুদণ্ডের হাড়গুলো স্থানচ্যুত হয়ে পড়ে, মাংসপেশিতে খিঁচুনি ধরে এবং তরুণাস্থি ও কশেরুকার ক্ষয় হয়। যার ফলে পেশি শক্ত হয়ে যায় এবং ব্যথার সৃষ্টি হয়।

নয়া দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালের মেরুদণ্ড ও জোড়া প্রতিস্থাপন বিশেষজ্ঞ ডা. যশ গুলাটি বলেন, লোকে যাকে স্পন্ডিলোসিস বলে আখ্যায়িত করে সেটি মূলত আথ্রাইটিস। বুড়িয়ে যাওয়া সহ নান কারণে আথ্রাইটিস হয়। তরুণদের মধ্যে এই রোগ দেখা দেয় মূলত বাজে দেহভঙ্গির কারণে। লোকে আজকাল দীর্ঘক্ষণ ঝুঁকে থেকে স্মার্টফোনে কাজ করেন। ফলে স্বাভাবিক ঘোরাফেরা করা বা দাঁড়িয়ে থাকার সময়ের পরিমাণ কমে এসেছে। এতে যে শুধু মেরুদণ্ডের ওপরই অতিরক্ত চাপ পড়ে তা নয় বরং ওজনও বেড়ে যায় অস্বাস্থ্যকরভাবে।

মানুষের মাথার ওজন প্রায় ৫ কেজি। কিন্তু সামনের দিকে ঝুঁকে বা বাঁকা হয়ে থাকলে মেরুদণ্ডের ওপর ভার ও চাপ বাড়ে। মাথা সামনের দিকে মাত্র ১৫ ডিগ্রি বাঁকা করলেই এর ওজন ৫ কেজি থেকে দ্বিগুণ বেড়ে ১০ কেজিতে দাঁড়ায়। সারাদিন ঘাড়ের ওপর একটি আলুর বস্তা বয়ে বেড়ালে যে চাপ পড়ে এর ফলেও একই সমান চাপ পড়ে।

নয়া দিল্লির ফোর্টিস এসকর্টস এর বোন অ্যান্ড জয়েন্ট ইনস্টিটিউটের ফিজিওথেরাপি বিভাগের প্রধান কল্পনা আগারওয়াল বলেন, "সংক্ষিপ্ত মেয়াদে পুনরাবৃত্তিমূলক চাপের ফলে মাংসপেশি শিথিল হওয়া এবং পেশিতে ব্যাথা দেখা দিতে পারে। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় এটি মেরুদণ্ডে জখম এবং ক্ষয়ও করতে পারে। "

আগারওয়াল বলেন, গত একদশক ধরে স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটারের অতি ব্যবহারের ফলে আমরা এখন ৩০ বছর বয়সীদের এমন একটি প্রজন্ম দেখছি যারা দূরারোগ্য মেরুদণ্ডের ব্যথায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মূলত দীর্ঘ সময় ধরে বাজে অঙ্গভঙ্গির কারণে তাদের এই রোগের সৃষ্টি হয়েছে।

ড. গুলাটি বলেন, "তবে প্রাথমিক পর্যায়েই সতর্ক হয়ে গেলে এ রোগ থেকে সহজেই মুক্তি সম্ভব। এ জন্য দেহভঙ্গির রুপান্তরমূলক উন্নয়ন ঘটাতে হবে। কশেরুকার ওপর চাপ কমানোর জন্য ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। মেরুদণ্ডকে সমর্থন যোগানোর জন্য ব্যায়ামের মাধ্যমে মাংসপেশির উন্নয়ন ঘটাতে হবে। "

দেহভঙ্গির উন্নয়নের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে রয়েছে- দাঁড়িয়ে, বসে, মোবাইলে ম্যাসেজ লেখা, গেম খেলা, কোনো কিছু টেনে তোলা বা বাঁকানোর সময় সঠিক দেহভঙ্গি বজায় রাখা। এতে মেরুদণ্ড এবং কশেরুকার হাড়গুলোর অবস্থানের ভারসাম্য বজায় থাকবে।

এ ছাড়া আইসোমেট্রিকস নামের একটি ব্যায়াম করতে পারেন। বিচ্ছিন্নভাবে মাংসপেশি নমনীয় ও শিথিলকরনের মাধ্যমে এই ব্যায়াম করা হয়। এতে হাড় এবং কশেরুকার ওপর অতিরিক্ত চাপ ছাড়াই মাংসপেশিগুলো শক্তিশালী করা যায়।

মেরুদণ্ডের সমস্যা প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করতে পারলে ক্ষয় এবং বাড়তি জখম থেকে একে রক্ষা করা সম্ভব। সুতরাং মেরুদণ্ডে কোনো ধরনের ব্যথা দেখা দেওয়ার সাথে সাথেই ডাক্তারের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। ব্যথা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় তাহলে মেরুদণ্ডের ক্ষয় দূর করা নাও সম্ভব হতে পারে।

পিঠের ব্যায়াম
কাঁধ কুচকানো। বেঞ্চ বা নিচু চেয়ারে বসুন। হাতগুলো রানের ওপর রেখে কাঁধ সোজা করে বসুন। কাঁধ দুটো ধীরে ধীরে পেছন দিকে বাঁকান এবং কাঁধের দুই প্রান্ত কুঁচকে এক করুন। এভাবে এক থেকে পাঁচ গোনা পর্যন্ত কাঁধ দুটো এক করে বসে থাকুন। এভাবে একে একে ছয়বার ব্যায়মটি করুন।

দেহের ওপরের অংশের সম্প্রাসরণ। ঘরের একটি কোণে হাতের কনুইগুলো কাঁধ সমান উঁচুতে রেখে দেয়ালের মুখোমুখি হয়ে দাঁড়ান। বাহুগুলো উঁচিয়ে রাখুন। আর হাতগুলো দেয়ালের বিপরীতে সমতলে স্থাপন করুন। সামনের হাঁটু বাঁকান। এরপর পিঠ সোজা রেখে এবং মাথা উঁচু করে সামনে হেলে পড়ুন এবং শ্বাস ত্যাগ করুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন এবং আরাম করুন। এভাবে ছয়বার ব্যায়ামটি করুন।
বাহু সম্প্রসারণ। মেঝে বরাবর ডান বাহু তুলে ধরুন এবং কনুই বাঁকিয়ে ডান কাঁধে স্পর্শ করুন। বাম হাত দিয়ে কনুইটি ধরে রাখুন। আলতোভাবে বুক বরাবর ভাঁজ করুন। ওপরের বাহু এবং ডান কাঁধ সম্প্রসারিত করুন। এভাবে ৩০ সেকেন্ড থাকুন, আরাম করুন। অন্য পাশের জন্যও একই ব্যায়াম করুন। এভাবে প্রতিটি পাশে তিনবার করে ব্যায়ামটি করুন।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস


মন্তব্য