kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পোশাকের ৯ ভুলে আটকে যায় পদোন্নতি

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৫০



পোশাকের ৯ ভুলে আটকে যায় পদোন্নতি

আপনি যথেষ্ট পেশাদার। বিভাগের জন্য যথেষ্ট নিবেদিতপ্রাণ আপনি।

প্রতিষ্ঠানের জন্যেও সচেতন। কিন্তু তারপরও বহু বছর ধরে কোনো পদোন্নতি মিলছে না। কখনো ভেবে দেখেছেন, এমন কেন হয়?

আসলে এটাই সত্য যে, আপনার পেশাদার সফলতা কর্মকাণ্ড, কর্মআদশ ও পারফরমেন্সের ওপর নির্ভর করে না। ক্যারিয়ার বিল্ডারের এক জরিপে বলা হয়, উচ্চ পদে কর্মীকে আসীন করার আগে কর্মকর্তারা তার দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যকেও প্রাধান্য দিতে চান।

আসলে এমনটাই মনে করা হয় যে, মানুষের কাজ দেখেই তাকে প্রমোশন দেওয়া হয়। কিন্তু বাস্তবে তা হয় না। বিশেষ করে কর্পোরেট দুনিয়াল মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ অর্থাৎ বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এ জরিপে অংশ নেয় আমেরিকার প্রায় ২ হাজার হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজার। সেই ফলাফল দেখে বুঝে নিন অবস্থা।

১. উত্তেজক পোশাক পরে অফিসে আসা কর্মীদের পদোন্নতি দিতে চান না ৪৪ শতাংশ ম্যানেজার।

২. কোঁচানো পোশাক পরা কর্মীদের প্রমোশন দিতে চান না ৪৩ শতাংশ ম্যানেজার।

৩. প্রচলিত পদ্ধতিতে কানের দুল বা নাকফুল ছাড়া অন্যান্য স্থানে পিয়ার্সিং করা কর্মীদের প্রমোশন দিতে অনিচ্ছুক থাকেন ৩২ শতাংশ মানুষ।

৪. অফিসের তুলনায় একটু বেশি ক্যাজুয়াল ধাঁচের পোশাক যারা পরেন, তাদের প্রমোশন দেওয়ার বিপক্ষে ২৭ শতাংশ ম্যানেজার।

৫. গায়ে ট্যাটু দৃশ্যমান হলে প্রমোশন দিতে চান না ২৭ শতাংশ কর্মকর্তা।

৬. অপেশাদার চুলের সাজ দিয়ে যারা আসেন তাদের প্রমোশন দিতে চান না ২৫ শতাংশ ম্যানেজার।

৭. মুখে দুর্গন্ধ থাকলে ২৪ শতাংশ ম্যানেজার প্রমোশন দিতে নারাজ থাকেন।

৮. অতিরিক্ত পারফিউম বা কোলন যারা ব্যবহার করেন তাদের প্রমোশনের বিপক্ষে থাকেন ২১ শতাংশ ম্যানেজার।  

৯. অতিরিক্ত মেকআপ ব্যবহারকারীদের বিপক্ষে থাকেন ১৫ শতাংশ ম্যানেজার।

এর আগে ওয়েল সেইড এর প্রেসিডেন্ট এবং লেখক ডারলেন্স প্রাইস বলেন, প্রতিষ্ঠানের ড্রেস কোড মেনে চলাটাই সবচেয়ে ভালো। একে গুরুত্বের সঙ্গেই নিতে হবে। কর্মক্ষেত্রে অসামঞ্জস্য পোশাক পরে যাওয়ার কারণে ক্যারিয়ারে বহু বাধার সম্মুখীন হওয়ার কথা বলেন তিনি। এখানে সঠিক পোশাক সম্পর্কে ধারণা দিয়েছেন তিনি।

১. বিজনেস ক্যাজুয়াল : এর কোনো নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। প্রতিষ্ঠানের ধরন, আকার, কর্মীদের সংখ্যা এবং কাজের ধরন অনুযায়ী বিজনেস ক্যাজুয়াল পোশাক নির্ধারণ হতে পারে। সাধারণত আবহাওয়ার ধরন অনুযায়ী পোশাক বেছে নিতে হয়। নারী-পুরুষের খাকি প্যান্ট, শার্ট, টপস, পোলো শার্ট, স্পোর্ট কোট, হাঁটুর নিচ পর্যন্ত স্কার্ট, ব্লেজার এবং মানানসই জুতা বিজনেস ক্যাজুয়াল হিসাবে আদর্শ হতে পারে।

২. স্মার্ট ক্যাজুয়াল : এর সংজ্ঞাও ভিন্ন হয়ে থাকে। বিজনেস ক্যাজুয়ালের আরেকটি সংস্করণকে স্মার্ট ক্যাজুয়াল বলা যায়। এটা নিরেট পেশাদার পোশাক। গাঢ় রংয়ের প্যান্ট, ফরমাল শার্ট, টপস, জ্যাকেট, স্কার্ফ বা স্পোর্ট কোট এ তালিকায় রয়েছে। কেতাদুরস্ত প্যান্ট, সুয়েটার, ভেস্ট, টাই, মানাননসই জুতা। পরের প্রমোশন দ্রুত করতে এসব পোশাক বেশ কাজের।

৩. বোর্ডরুম ফর্মাল : 'দ্য ইমেজ অব  লিডারশিপ' বইয়ের লেখক সিলভি ডি গুস্তো বলেন, ব্যবসায়ী ও নেতাদের এসব পোশাক বেশ শক্তিশালী ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীদের চূড়ান্ত পেশাদারিত্ব দেখাতে হয়। কোনো মিটিং বা কনফারেন্সে এসব পোশাক খুবই কার্যকর। সাধারণত ক্লায়েন্ট, ম্যানেজমেন্টের সিনিয়র কর্মকর্তা, শেয়ারহোল্ডার এবং ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মিটিংয়ের ক্ষেত্রে বোর্ডরুম ফর্মাল পোশাকের তুলনাই চলে না। নীল, কালো, চারকোল ইত্যাদি রংয়ের স্যুট বোর্ডরুম ফর্মাল পোশাক হিসাবে বিবেচিত হয়। এর সঙ্গে সাদা শার্ট, মানানসই টাই ও মোজা এবং সাধারণত কালো এক্সিকিউটিভ জুতা এ তালিকায় আসে। এর সঙ্গে উচ্চমানের সজ্জা বেছে নেওয়া যেতে পারে। একটা দামি ঘড়ি অনেক কিছু প্রকাশ করবে। নারীদের নেবি ব্লু, ধূসর, বাদামী রংয়ের কলারড শার্ট বা টপস মানানসই। ক্লোজড-টো জুতা বা পাম্প সু অনেক ভালো। সূত্র : বিজনেস ইনসাইডার

 


মন্তব্য