kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্পোরেট কালচারে কেন সবচেয়ে অযোগ্যরা প্রমোশন পায়?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৪০



কর্পোরেট কালচারে কেন সবচেয়ে অযোগ্যরা প্রমোশন পায়?

বহু প্রতিষ্ঠানেই শিক্ষিত ও প্রশিক্ষিত মানুষের বদলে কিছুটা অযোগ্য মানুষেরা প্রমোশন পেয়ে দ্রুত ওপরের দিকের পদে চলে যায়। কিন্তু যোগ্য মানুষেরা সঠিকভাবে প্রমোশন পায় না।

সম্প্রতি ফোর্বসে এক ব্যক্তি চিঠিতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন লিজ রায়ান। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস।
প্রিয় লিজ,
আমি একটি শিক্ষামূলক প্রকাশনা সংস্থাতে কাজ করি। এ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে গিয়ে আমি বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যাদের থেকে অনেক বিষয় শেখার আছে। আর আমি এতে যা দেখেছি, তাতে আমি খুবই হতাশ।
ম্যানেজারদের যে বিষয়গুলো পালন করা উচিত- অন্যদের কাজে উৎসাহিত করার জন্য সেসব কাজের কোনোটিই তারা করেন না। অন্যদের ভালো কাজের প্রশংসা কিংবা স্বীকৃতি তারা দেন না।
এখানে কেউই ভালো কাজে উৎসাহিত করেন না। আর সবচেয়ে বাজে ব্যাপার হলো, আমি কখনোই কোনো কর্মীকে কাজে উৎসাহিত করার মতো কোনো বাক্য শুনিনি।
অবশ্য আগের চাকরিতে আমার একজন ভালো ম্যানেজার ছিলেন। কিন্তু আমি সে চাকরিটি ছাড়ার আগে বিষয়টি বুঝতে পারিনি। অবশ্য সেখানে চাকরির তুলনায় কিছু ভালো বেতন দেওয়ায় আমি এ চাকরিতে এসেছি। কিন্তু এখানে আসার পর বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়েছে।
আমি বর্তমান চাকরিতে অনেক বেশি দায়িত্ব পেয়েছি। কিন্তু  এ দায়িত্বের সবই কাগজে-কলমে। অর্থাৎ আমার সব কাজই অনুমোদন নিতে হয়। আর এ কারণে বিষয়টি অনেকটা আমি যেন ‘শিশু’- এমন অনুভূতি যোগাচ্ছে।
তবে এ প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বাজে যে দিকটি আমার দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে তা হলো তাদের প্রমোশনের বিষয়টি। এক্ষেত্রে তারা সর্বদা সবচেয়ে মানসিকভাবে অসুস্থ মানুষকেই প্রমোশন দেয়।
আমি এ প্রতিষ্ঠানে তিন বছর ধরে রয়েছি। বিষয়টি আমার জন্য ঠিক হিংসার নয় কিন্তু আশ্চর্যজনক।   এখানে অবস্থানকালে আমি দেখতে পাচ্ছি, যারা সবচেয়ে অযোগ্য, তারাই ওপরের পদে প্রমোশন পাচ্ছে। এর কারণ কী হতে পারে? কী কারণে তারা সবচেয়ে অযোগ্য মানুষকে প্রমোশন দিচ্ছে? --ইতি জসুয়া
প্রিয় জসুয়া,
কর্মক্ষেত্রে কর্পোরেট সংস্কৃতির একটি বিষয় রয়েছে। এটি অনেকটা গাড়ির স্পিডোমিটারের মতো।
কর্পোরেট এ স্পিডোমিটারের একদিকে রয়েছে বিশ্বাসের কাটা। এ মিটারের অন্যদিকে রয়েছে ভয়ের কাটা। প্রত্যেক কর্পোরেট সংস্কৃতিতেই এ দুই কাটার মাধ্যমে দিক পরিবর্তন করা হয়। আর এ অবস্থার মধ্যেই কয়েকজন ওপরের বিশ্বাস অর্জন করে আর কয়েকজন কখনোই সে বিশ্বাস অর্জন করে না। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানই নিজের ভয়ের মধ্যে বসবাস করে। আর এ ভয় থেকেই তারা নানা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে কতখানি ভয় পাওয়া যাবে তা কিভাবে নির্ণয় করা হয়? এ বিষয়ে বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। তারা এ বিষয়টি দেখতে পান না। আপনি চাইলে এ ভয় দূর করার চেষ্টা করতে পারেন। আবার চাইলে নাকমুখ গুজে নিরবে কাজ করে যেতে পারেন।
আপনি যদি চাকরির মধ্যে থেকেই এ ডায়ালগুলো পরিবর্তন করতে চান তাহলে প্রচেষ্টা চালাতে হবে আগেই। নিজের অর্জনগুলোকে পূর্ণ শক্তিতে প্রকাশ করতে হবে। আপনি যদি চাকরি ছেড়ে এ বিষয়টি নিয়ে মনোযোগী হন তাহলে বিশ্বাসের কাটা ওঠাতে পারবেন না। এজন্য আপনার চাকরির একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থেকেই চেষ্টা করতে হবে। যারা এ মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হয়েছেন, তারাই ওপরের পদে উঠতে পারে। আর অন্য যারা এ বিশ্বাসের মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ হতে পারে না তারা পেছনের দিকে পড়ে থাকে।
--শুভকামনা রইলো, লিজ


মন্তব্য