kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাবধান: ব্যায়াম ও রাগ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:২৭



সাবধান: ব্যায়াম ও রাগ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়

রাগ বা ক্ষোভ প্রশমনে শরীরচর্চা করতে গেলে একঘণ্টার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায় অন্তত তিনগুণ। নিয়মিত শরীরচর্চা মানসিক অবসাদ কমাতে এবং হৃদরোগ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, আপনি যখন রাগান্বিত হবেন তখন শরীরচর্চা করতে গেলে হিতেবিপরীতও হতে পারে। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন এর স্বেচ্ছাসেবক এবং ফিলাডেলফিয়ার শহরতলী এলাকার ক্রোজার-কিস্টোন হেলথ সিস্টেমের মনোবিজ্ঞানী ব্যারি জ্যাকবসও এমনটাই মত দিয়েছেন।

গবেষণাটি করেছে ওন্টারিওর হ্যামিলটনের ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন হেলথ রিসার্চ ইনস্টিটিউট। হার্ট অ্যাসোসিয়েশন জার্নাল সার্কুলেশনে গত সোমবার ওই গবেষণার ফলাফল সংবলিত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, রাগের পর কঠোর পরিশ্রমের ফলে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তবে ওই গবেষণা ছিল খুবই সীমিত পরিসরে। কিন্তু এবারের গবেষণায় বিশ্বের ৫২টি দেশের ১২ হাজার ৪৬১ জনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এদের গড় বয়স ছিল ৫৮ এবং বেশির ভাগই পুরুষ।

গবেষণায় তাদেরকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, হৃদরোগের লক্ষণে আক্রান্ত হওয়ার আগে তারা রাগান্বিত হয়েছিলেন কিনা বা কঠোর পরিশ্রম করেছিলেন কিনা।

এবারের গবেষণায় দেখা গেছে, রাগান্বিত হওয়ার ফলে এক ঘণ্টার মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। একইভাবে কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ফলেও হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আর একই সঙ্গে রাগ ও কঠোর পরিশ্রমের সম্মিলন ঘটলে হৃদরোগের ঝুঁকি তিনগুণ বেড়ে যায়।

সন্ধ্যা ৬টা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে এই ঝুঁকি সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। ধূমপান, উচ্চরক্তচাপ বা স্থূলতা এ ক্ষেত্রে কোনো ভুমিকা পালন করে না।

গবেষণায় প্রাপ্ত এই তথ্য শারীরিকভাবেও যুক্তিযুক্ত। কারণ আবেগগত চাপ এবং কঠোর শারীরিক পরিশ্রমের ফলে রক্তচাপ, হৃৎকম্পন, শিরা-উপশিরায় রক্তের প্রবাহ পরিবর্তন, হৃৎপিণ্ডে রক্তের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া গেছে। আর ইতিমধ্যেই অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এমন ধমনীতে হার্ট অ্যাটাকের ফলে রক্ত চলাচলও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

গবেষণাটির অর্থায়ন করেছে, কানাডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ হেলথ রিসার্চ। এ ছাড়া যেসব দেশ এই গবেষণায় অংশগ্রহণ করেছে সেসব দেশের সরকার এবং বেশ কয়েকটি ওষুধ কম্পানিও এতে অর্থায়ন করেছে।
সূত্র : এনডিটিভি


মন্তব্য