kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হাসপাতালের অন্য রোগীদের ওপরেও প্রভাব ফেলে অ্যান্টিবায়োটিক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:৩৬



হাসপাতালের অন্য রোগীদের ওপরেও প্রভাব ফেলে অ্যান্টিবায়োটিক

হাসপাতালের বেডে যে রোগী থাকেন তাকে যদি অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান  করা হয় তাহলে তা যে শুধু তার ওপরই প্রভাব ফেলে তা নয়, এমনকি পরবর্তী রোগীর ওপরেও তা প্রভাব ফেলে। আর এ অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে সে বেডে অবস্থানকারী পরবর্তী রোগীর দেহেও সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায় বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
সাম্প্রতিক গবেষণায় জানা গেছে, হাসপাতালের বেডে কোনো রোগীর যদি অ্যান্টিবায়োটিক নিতে হয় তাহলে তা পরবর্তী রোগীর ডায়রিয়া কিংবা সংক্রমণের আশঙ্ক অনেকাংশে বেড়ে যায়।
গবেষকরা এ বিষয়টি নিণয় করার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালের রোগীদের ওপর গবেষণা করেন। এতে তারা প্রায় ২৭ হাজার মৃত্যুর পরিসংখ্যান ব্যবহার করেন। এরপর গবেষকরা এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়ার আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। হাসপাতালে কোনো রোগীর অবস্থানের পর তার সেই বেডে কিছু ব্যাকটেরিয়া থেকে যায়। এরপর অন্য কোনো রোগী সে বেডে আসলেও সেই শক্তিশালী ব্যাকটেরিয়া তাকে সংক্রমিত করতে পারে। আর এতে সে রোগীর মৃত্যুও হতে পারে।
এ বিষয়ে গবেষণাটি করেছেন মার্কিন গবেষকরা। গবেষণাপত্রটির লেখক কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটি মেডিকেল সেন্টারের গবেষক ড. ড্যানিয়েল ফ্রিডবার্গ বলেন, ‘অন্য গবেষণাতেও এ বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে যে, এক রোগীর ওপর প্রয়োগ করা অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে অন্য রোগীদেরও প্রভাবিত করে। যে রোগীদের অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয় না তাদেরও  এটি প্রভাবিত করে। ’
এ গবেষণায় ফ্রিডবার্গ প্রায় লক্ষাধিক রোগীর নানা তথ্য বিশ্লেষণ করেন, যারা ২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে হাসপাতালে অবস্থান করেন। তিনি জানান, প্রায় এক শতাংশের বেশি রোগী সি.ডিফ-এ সংক্রমিত হন দ্বিতীয় পর্যায়ের বেডে।
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক ও রোগীদের প্রয়োজনের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা উচিত নয় ‘
তিনি আরও বলেন, ‘প্রায়ই সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই অ্যান্টিবায়োটিক প্রদান করা হয়। ’
অতিরিক্ত অ্যান্টিবায়োটিক শুধু সেই রোগীর ওপর প্রভাব ফেলে, তা নয় পরবতী রোগীরও ওপরও তা প্রভাব ফেলতে সক্ষম। এ বিষয়ে গবেষণাটির ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে জেএএমএ ইন্টারনাল মেডিসিন জার্নালে।


মন্তব্য