kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যৌন প্রতারণার পেছনে বিশ্বাসঘাতক স্বামী বা স্ত্রীদের যুক্তি কী?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:৫৮



যৌন প্রতারণার পেছনে বিশ্বাসঘাতক স্বামী বা স্ত্রীদের যুক্তি কী?

একঘেয়েমি, নিপীড়ন এবং 'অল্প বয়সী ও বোকা' হওয়া। যৌন প্রতারণার পেছনে এগুলোই বিশ্বাসঘাতক জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনীদের প্রধান যুক্তি।

আস্ক রেড্ডিট ফোরামে সম্প্রতি 'যারা তাদের জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে প্রতারণা করেছেন' তাদের এই প্রতারণার পেছনে যুক্তি কী এমন একটি প্রশ্ন করা হয়। এর উত্তরে প্রায় ২ হাজার লোক তাদের জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে প্রতারণার পেছনের কারণ প্রকাশ করেছেন।

পরবর্তীতে ওই জরিপের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৫ শতাংশ নারী বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ থাকা অবস্থায়ই জীবন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সাথে যৌন বিশ্বাসঘাতকতা করেন। আর প্রতি তিনটি যুগলের একটি যুগল সঙ্গী বা সঙ্গিনীর অবৈধ যৌন সম্পর্কের কারণে সমস্যায় পড়ে।

ওই গবেষণায় প্রমাণিত হয়, নারী-পুরুষের দাম্পত্য সম্পর্ক খুবই জটিল একটি বিষয়। আর কে যে বিপথগামী হবে তা আগে থেকেই অনুমান করা সম্ভব নয়।

মন্তব্য করে সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত এক ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বলেছেন, "এর পেছনে আসলে কোনো যুক্তি নেই,'' এটি সম্পূর্ণতই যুক্তিহীন একটি বিষয়।

তিনি লিখেছেন, "তখন আমার বয়স ছিল ১৭। বিছানায় শোয়া একটি নগ্ন মেয়ে আমাকে ডেকে বলল, 'আস, আমার সঙ্গে মিলিত হও'। সুতরাং আমি তাই করি। কাজটি হয়ত ঠিক হয়নি। কিন্তু আমি এ নিয়ে একটুও চিন্তিত ছিলাম না। ''

লোগানব্যাড১০১ নামের এক ইউজার একই রকম একটি সাহসী পোস্টে লিখেছেন, "আমি উত্তেজিত ছিলাম। "

সোমব্রাব্ল্যাঙ্কা নামের আরেক ইউজার লিখেছেন, তিনি ও তার জীবনসঙ্গী 'ধীরে ধীরে ভালোবাসা হারান'। এবং 'রুমমেটের' মতো জীবনযাপন করতে থাকেন। যারা মাঝেমেধ্যে দৈহিকভাবে মিলিত হতো।

এরপর ওই যুগলের পুরুষ সঙ্গীটি কর্মস্থলে এক সহকর্মিণীর সঙ্গে খাতির জমান। কয়েক সপ্তাহ ধরে ওই নারীকে পটানোর চেষ্টার পর একটি হোটেলে গিয়ে তারা পরস্পরের সঙ্গে এক অবিশ্বাস্য রাত কাটান।

পুরুষটি বলেন, "সে সময় আমার মেয়ে বন্ধুটির চেহারা কল্পনা করে আমি আঁতকে উঠি। কিন্তু সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে তা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার ছিল। পরদিনই আমি আমাদের সম্পর্ক ভেঙে দিই। তবে আমি তাকে কোনোদিনই বলিনি কী ঘটেছে। পরে ওই সহকর্মিণীর সঙ্গে আমি আরো টানা দু্ই বছর ধরে মাঝে-মধ্যেই ডেটিং করেছি। "

অনেকে আবার তাদের নিপীড়ক সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ব্যাপারে লিখেছেন, কী করে তারা তাদের কাছে নিজের জীবনটাকেই অসহ্য করে তুলেছিল।

টিটসম্যাকিনটোশ বলেছেন, তার দীর্ঘ ১৬ বছরের দাম্পত্য জীবন ভেঙে গেছে কারণ তার স্বামী তার সাথে যৌনমিলন না করে বরং পর্নোগ্রাফি দেখে হস্তমৈথুন করতেন।

ওই নারী বলেন, "প্রতি ১০ থেকে ১২ মাস পরপর সে আমার প্রতি আগ্রহী হতো এবং আমরা দৈহিকভাবে মিলিত হতাম। এ ছাড়া পুরো বছরজুড়ে কোনো দৈহিক সম্পর্ক থাকত না। কোনো জড়িয়ে ধরার ঘটনা ঘটতো না। কোনো চুমু ছিল না, হাত ধরাধরি ছিল না। আমি যেন শুকিয়ে মরছিলাম। "

এরপর একদিন তীব্র ঝগড়া-ঝাটির পর তার স্বামী তাকে অন্য কোনো পুরুষকে খুঁজে নিতে বলেন। কিন্তু তিনি এ বলেও সতর্ক করেন যে, কোনো পুরুষই তাকে জীবন সঙ্গিনী হিসেবে পেতে আগ্রহী হবেন না।

"আমি তার কথা মতোই কাজ করি। এ থেকে আমি অনেক মূল্যবান শিক্ষা লাভ করেছি। আর সে শিক্ষার ওপর ভিত্তি করেই আমি যৌনতা, আর্থিক ও শারীরিক দিক থেকে নিপীড়নমূলক ওই বিয়ের সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসি। "

"আমার কি বরং প্রতারণা করাই উচিত ছিল। কিন্তু কোনো যুগলের একজন সদস্যই সে যুগলের যৌনজীবনের গতি-প্রকৃতি নির্ধারণ করে দিতে পারেন না। আমি ছিলাম আতঙ্কিত, আঘাতপ্রাপ্ত ও বিধ্বস্ত। "

লুনানুবলাডো নামের একজন বলেছেন, তিনি তার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রেমিকের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধেন এবং বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হন। কারণ সকলে তাই করে।

কিন্তু কিছুদিন না যেতেই তিনি নিজেকে প্রশ্ন করা শুরু করেন, কেন তিনি এমন একজন পুরুষের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছেন যিনি তারচেয়ে পুরোপুরি ভিন্ন একজন মানুষ। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, আর্থিক মনোভাব, রাজনীতি, ভিন্ন সংস্কৃতি মেনে নেওয়ার মানসিকতা, ভালোবাসা প্রকাশে ভঙ্গির ভিন্নতা সবদিক থেকেই তারা পরস্পর থেকে আলাদা ছিলেন।

এরপর ওই নারী তার এক সহকর্মীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে থাকেন। এভাবে একদিন একসঙ্গে মদপান করার পর তারা পরস্পরের প্রতি অনুরাগের কথাও প্রকাশ করেন। এর কিছুদিন পর তার স্বামী একদিন একটি চাকরিতে যোগদানের জন্য তার কাছ থেকে ২০০ মাইল দূরে চলে যান। আর তখনই ওই নারী তার স্বামীর সঙ্গে যৌন বিশ্বাসঘাতকতা করেন।

ওই নারী লিখেছেন, "স্বামীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করার পর আমি অনুতপ্ত হই। এই ঘটনা আমকে যেন ছিড়েখুঁড়ে খাচ্ছিল। কারণ আমি জানি এমন একটি জঘন্য কাজও আমি করতে সক্ষম। ''

কিন্তু আমি নিজেকে শুধু একটি কথাই মনে করিয়ে দিলাম। প্রায় সকলেই জীবনে কখনো না কখনো ভুল করেন। কিন্তু মানুষের পক্ষেই আবার ভুল শোধরানো বা স্বভাব বদলে ফেলা সম্ভব।
সূত্র : দ্য ইনডিপেনডেন্ট


মন্তব্য