kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১২ লক্ষণে বুঝবেন সহকর্মীরা আপনাকে বোকা ভাবছে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:০৩



১২ লক্ষণে বুঝবেন সহকর্মীরা আপনাকে বোকা ভাবছে

আপনার যদি এমন মনে হয় যে আপনার সহকর্মীরা আপনাকে বোকা ভাবছে তাহলে বুঝবেন: ১. আপনি হয়তো এমনভাবে আচরণ করছেন যা লোককে ভাবতে বাধ্য করে যে আপনি বোকা। ২. বা আপনার সহকর্মীরা মানুষ হিসেবে ভালো নন।

৩. অথবা দুটিই সত্য।
যে লক্ষণগুলো দেখে বুঝবেন সহকর্মীরা আপনাকে বোকা ভাবছে সেগুলো হলো:
১. তারা সবসময়ই আপনার সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক করেন
কিছু লোক আছেন যারা শুধু ঝগড়া করেই আনন্দ পান। কিন্তু আপনার যদি এমন মনে হয় যে, আপনার সহকর্মীরা আপনাকে ছোটখাটো বিষয় নিয়েও অযথাই বিরক্ত করছেন তাহলে তা খুবই বাজে লক্ষণ। তারা সারাক্ষণই আপনার পেছনে লেগে থাকেন কারণ তারা হয়তো আপনাকে দূর্বল মনে করেন। তারা হয়তো ভাবেন আপনি হলেন এমন একজন যাকে সহজেই কাবু করে নিজেদের বুদ্ধিমত্তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করা সম্ভব।
যাইহোক, একটা কথা মনে রাখবেন, রুঢ়, নীচ এবং হুমকিমূলক আচরণের মধ্যে পার্থক্য করতে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আগ্রাসী তর্কবিতর্ককে একমাত্র তখনই সত্যিকার অর্থে একটি সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করতে হবে যখন তা বারবার করা হবে এবং ক্ষমতার ভারসাম্য থাকবেনা।
২. চাঁছাছোলা এবং ব্যাঙ্গাত্মক উত্তর দেন
সহকর্মীরা যদি আপনাকে কোনো জিজ্ঞাসার জবাবে সংক্ষিপ্ত এবং ব্যাঙ্গাত্মক উত্তর দেন তাহলে বুঝবেন যে তারা আপনার বুদ্ধিমত্তাকে খাটো করে দেখছেন। এবং তারা আপনার অন্তদৃষ্টিকে খুব একটা মূল্যায়ন করছেন না।
৩. দেহভঙ্গি রুঢ়
নাক সিটকানো। অগ্নিদৃষ্টি। কৃত্রিম হাসি। চোখ পাকানো। সহকর্মীদের মধ্যে যদি আপনি এই অবজ্ঞাসূচক দেহভঙ্গীগুলো লক্ষ্য করেন তাহলে বুঝবেন যে আপনি কর্মস্থলের বিদ্রুপের শিকার।
৪. আপনাকে অগ্রাহ্য করেন
কর্মস্থলে একঘরে হয়ে থাকার অনুভূতি কোনো ভালো লক্ষণ নয়। লোকে যদি আপনাকে বোকা আখ্যা দেয় তাহলে বুঝবেন তারা হয়তো ভাবেন না যে আপনার সঙ্গে কোনো প্রকল্প নিয়ে পরামর্শ করা যায়। এমনকি তারা আপনাকে এর যোগ্যই মনে করেন না।
আমাদেরকে এই শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, কাউকে অগ্রাহ্য করা সামাজিকভাবেও বাঞ্ছনীয়। কারণ আপনার কাছে যদি ভালো কিছু বলার না থাকে তাহলে আদৌ কোনো কিছু না বলাটাই উত্তম।
কিন্তু একঘরে হয়ে থাকার অনুভূতি লোককে আরো বেশি অসহায়ত্বের অনুভূতিতে আক্রান্ত করে। যেনবা তারা কোনো মনোযোগই পাওয়ার যোগ্য নন।
৫. আপনাকে নিয়ে হাসাহাসি করেন
আপনার সহকর্মীরা কি আপনি কিছু বলার পর হাসাহাসি করেন? অথচ আপনি কৌতুককর কিছু বলেন নি? আপনাকে নিয়ে কি প্রতিনিয়তই হাসিতামাশা এবং কৌতুক করা হয়? হতে পারে আপনার সহকর্মীরা আপনার অনন্য রসবোধের মূল্যায়ন করেন। অথবা এমনও হতে পারে আপনি আপনার অফিসের বিদ্রুপের পাত্রে পরিণত হয়েছেন।
আপনার যদি এমন অনুভূতি হয় যে, অন্যরা আপানকে নিয়ে হাসিতামাশা করছেন তাহলে এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোটা গুরুত্বপূর্ণ। আপনি নিজেও কি তামাশা বোধ করেন এবং মুখ টিপে হাসেন? আপনার কর্মস্থলের পরিবেশটাই কি এমন যে সেখানে সবাই সবাইকে নিয়ে হাসি-তামাশা করা হয়? জ্বালাতনের ফলে কি নিজেকে আপনার অপমানিত ও অপদস্থ অনুভূত হয়?
যাদেরকে সবসময় অপমানিত ও অপদস্থ করা হয় তারা সাধারণত স্তব্ধ এবং নির্বাক হয়ে পড়েন। আর এর চেয়েও বড় কথা হলো তাদের বাকরুদ্ধ করা হয়।
৬. আপনার সাফল্য দেখে বিস্মিত হওয়ার অভিনয় করেন
আপনি যখন অফিসে কোনো সাফল্য প্রদর্শন করেন তখন কি আপনাকে স্বাগত জানানো হয়? নাকি সবাই চোখ বড় বড় করে আপনার দিকে বিস্ময় নিয়ে তাকান? আপনার সাফল্য দেখে যদি সহকর্মীরা বিস্মিত হওয়ার অভিনয় করেন তাহলে বুঝে নিবেন তারা আপনার সক্ষমতা সম্পর্কে খুবই নীচু ধারণা পোষণ করেন।
৭. তারা কখনোই আপনার কাছে সহযোগিতা চান না আপনি কি প্রায়ই সহযোগিতা করার প্রস্তাব দিয়েও প্রত্যাখ্যাত হন? এমনকি যখন আপনি নিশ্চিতভাবে জানেন যে, আপনার সহকর্মীদের আরো সহযোগিতার হাত দরকার?
এটাও কোনো ভালো লক্ষণ নয়। তারা হয়তো ভাবতে পারেন যে, আপনি হাত লাগালে তাদের কাজ আরো এলোমেলো হয়ে যাবে।
৮. আপনাকে সহযোগিতা করতেও অস্বীকার করেন
আপনি সাহাজ্যের আবেদন জানানোর পর কেউ একটি আঙ্গুলও তোলেন না। হতে পারে আপনার সহকর্মীরা ব্যস্ত, বা বাজে লোক। আবার এমনও হতে পারে তারা হয়তো আপনার সমস্যাকে খুবই তু্চ্ছ মনে করেন বা এতোটাই সহজ মনে করেন যা নিয়ে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার কোনো মানে হয় না।
৯. আপনি নিজেই নিজেকে হেয় করছেন
নিজেকে বোকা মনে করলে আপনি দুষ্ট চক্রে আটকা পড়বেন। আপনি যদি নিজেকে বোকা ভাবেন তাহলে অন্যরাও আপনার এই আত্মসমালোচানমূলক মনোভঙ্গির সুবিধা গ্রহণ করবেন। ফলে আপনি নিজেকে আরো কম বুদ্ধিমান ভাবতে বাধ্য হবেন।
সুতরাং, আপনি যদি নিজের ওপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নাও প্রতিষ্ঠা করতে পারেন তথাপি কিছুটা হলেও আত্মবিশ্বাসীর ভান করতে হবে। আর নয়তো লোকে আপনার ওপর ছোঁ মারবে এবং সুবিধা গ্রহণ করবে।
১০. তবে নিজের সম্পর্কে অতিমূল্যায়ন করার চেয়ে বড় বোকামি আর নেই। তার মানে, শুধু নিচু বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হলেই লোকে আপনাকে বোকা বলে গণ্য করবেন তা নয়। বরং আপনি যদি নিজের সক্ষমতা সম্পর্কে ভুল অনুমান বা ধারণা পোষণ করেন তাহলেই লোকে আপনাকে বেশি বোকা ভাববে।
নিজেকে যদি আপনার তেমনটাই মনে হয় তাহলে এখনই সময় কিছু আত্মসচেতনতা চর্চার।
১১. আপনি কর্মস্থলে প্রচুর অভিশাপ দেন
কর্মস্থলে শাপ-শাপান্ত করে হয়তো কিছুটা মানসিক প্রশান্তি লাভ করা যায়। কিন্তু তা বেশি করতে গেলে সহকর্মীরা আপনার ব্যাপারে ভুল ধারণা লালন করবেন।
১২. বোকা গণ্য হওয়া নিয়ে সবসময়ই আতঙ্কে থাকেন
আমরা প্রায়ই কোনো বিষয়ে অক্ষম বলে বিবেচিত হওয়ার ব্যাপারে এতোটাই আতঙ্কগ্রস্ত থাকি যে, আমরা সাহাজ্য প্রার্থনা বা অন্তদৃষ্টি লাভের চেষ্টা থেকেও বিরত থাকি। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, যারা কোনো বিষয়ে অন্যদের পরামর্শ চান তাদেরকে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বলে গণ্য করা হয়। অন্তত যাদের কাছে তারা সাহাজ্য প্রার্থনা করেন তারা তাদেরকে বেশি যোগ্যতা সম্পন্ন বা সক্ষম বলে গণ্য করেন।
সূতরাং আপনার যদি কোনো কিছু নিয়ে গোলমাল পাকানোর অভ্যাস থাকে তাহলে পরেরবার অবশ্যই বিশ্বস্ত ও আস্থাভাজনদের কাছে সহযোগিতা প্রার্থনা করুন। এতে আপনার সহকর্মীরা আপনার বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে উচ্চ ধারণা পোষণ করতে অভ্যস্থ হবেন।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য