kalerkantho


'প্রথম বই প্রকাশ করে যা শিখেছি'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:০০



'প্রথম বই প্রকাশ করে যা শিখেছি'

মাঝে মধ্যে লেখালেখি করেন ক্রিস মেয়ার্স। একজন সিইও হিসাবে অভিজ্ঞতার কথা লেখেন তিনি।

বলেন, প্রথমে বই প্রকাশের বিষয় নিয়ে বেশ অস্বস্তিতে ভুগতেন তিনি। তাই 'আমার একটা বই লেখা উচিত' কথাটা মাথায় আসলেও সাহস পেতেন না।

শত ভয় ও অস্বস্তি জয় করে তিনি অবশেষে লিখে ফেলেছেন 'এনলাইটেন্ড এন্টারপ্রেনারশিপ'। তবে যা ভেবেছিলাম তার কিছুই ঘটেনি, বলেন লেখক। প্রথম বইটি বের করে তিনি ৩টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পেয়েছেন। এগুলো জানিয়েছেন সবাইকে। তার ভাষাতেই আপনারাও নিন সেই শিক্ষা।

১. বই প্রকাশ সহজ কাজ : বই প্রকাশকে কেন্দ্র করে আমার জ্ঞানের পরিধি খুব ছোট ছিল। কোনো ব্লগের জন্য লেখা এক বিষয়।

আর বই প্রকশ ভিন্ন বিষয়। আমার অনেক বন্ধ রয়েছেন যারা অতীতে বই বের করেছেন। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো একজন ভালো প্রকাশকের দেখা মেলা। কিন্তু কাজটিকে সহজ করতে আমি নিজেই প্রকাশ করতে চাইছিলাম।

অতীতে ভাবতাম নিজের প্রকাশ করা বই পেশাদার প্রকাশকের প্রকাশ করা বইয়ের চেয়ে খারাপ হয়ে থাকে। তবে নিজের প্রকাশ করা বই সহজে মূল ধারায় প্রবেশ করতে পারে না।

তবে আগে এমন অবস্থা ছিল। কিন্তু এখন সময় পাল্টেছে। মূল ধারার লেখকরা এখন নিজেই নিজের বই প্রকাশ করেন। যেমন- জেমস অ্যাল্টুচার। তিনি এ বিষয়ে অনুপ্রেরণাদায়ক হতে পারেন। এ কাজে আমাজনের একটা সমাধানব্যবস্থা রয়েছে। এর নাম ক্রিয়েটস্পেস। এরা নিজের বই প্রকাশ বিষয়ে নানা পরামর্শ ও সহায়তা দেয়।

২. প্রচারণা কঠিন : বই প্রকাশটা সহজ হলেও প্রচারণার কাজটি বেশ কঠিন। বইটি বের করে আমি তা বিক্রির জন্য অপেক্ষায় থাকতাম। কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমি নিশ্চিত হয়ে গেলাম যে, যাই লেখেন না কেন, সবাই যে পড়তে চাইবে তা নয়। আমাজন বা অন্যান্য মাধ্যমের সহায়তায় যে বই বিক্রি বাড়বে, সে বিষয়ে আমি বিশ্বস্ত নই।

বছরখানেক লেগে গেছে এটা বুঝতে যে, পণ্য কিভাবে বাজারে চালাতে হয়? আসলে আমি যেভাবে ভেবেছিলাম সে উপায়ে বই কেনে না মানুষ। প্রতিমাসে আমার ৪-৫টি বই বিক্রি হচ্ছিল। আমি বুঝতে পারি, অধিকাংশ ক্রেতারাই কম পড়েন এবং তারা দামের বিষয়ে স্পর্শকাতর।

আমাজন মাঝে মাঝে কিছু সময়ের জন্য কম দামের অফার দিয়ে থাকে। এই অফারগুলো বেশ গ্রহণ করে মানুষ। আমার ক্ষেত্রে তাই ঘটলো। অর্থাৎ যদি কিছু কম দামে বই ছাড়া যায়, তবে মানুষ তা কেনে।

এত কিছুর পরও কিন্তু বই বিক্রি করে যাওয়া একটা কঠিন বিষয়। এ কাজে লেখকের অনেক সৃষ্টিশীল হতে হয়। প্রত্যেকটা সুযোগ চিহ্নিত করে তা নিতে হয়।

৩. আশাবাদকে সামলে রাখা দরকার : সময় ও বাস্তবতার ভিত্তিতে বই বিক্রি নিয়ে আশা ধরে রাখা উচিত। একটি বই লিখেই কি আপনি তা বিক্রি করে ধনী হতে চান? এটা বাস্তবতা নয়। খুচরা বিক্রেতারাও আপনার হয়ে প্রচারণা চালাবে না।

লেখালেখি করতে হয় এর প্রতি ভালোবাসা থেকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটা এমন এক সফর যা অনেক কঠিন ও প্রাপ্তিশূন্য। খ্যাতি ও অর্থের জন্য লেখালেখি করলে চলবে না। যতদিন আশাবাদের সঙ্গে বাস্তবতার ভারসাম্য রাখতে পারবেন, ততদিন আপনি সফলতা খুঁজে পাবেন। সূত্র : ফোর্বস  

 


মন্তব্য