kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডায়েটিংয়ে শুধু স্যুপ-সালাদ খাওয়ার খারাপ দিক

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:০১



ডায়েটিংয়ে শুধু স্যুপ-সালাদ খাওয়ার খারাপ দিক

ওজন কমাতে ডায়েটিং করতে গিয়ে অনেকে সারাদিন শুধু স্যুপ আর সালাদ খেয়ে থাকেন। এর ফলে যে ভয়ঙ্কর ক্ষতি হতে পারে তা অনেকেই জানেন না।

এর ফলে শরীর তার প্রয়োজনীয় পুষ্টি হারায়। এমনটাই জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

লাঞ্চ বা ডিনারের কথা বললেই স্বাস্থ্যসচেতন মানুষদের অবধারিতভাবে একটি ক্লাসিক কম্বিনেশনের কথা মাথায় আসে। এটি হল স্যুপ আর সালাদ। লাঞ্চে যদিও বা ভরপেটে খেলেন, কিন্তু দিনের শেষে ‘হালকা’ ডিনার বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বাটিভর্তি স্যুপ আর ডিশে সাজানো সালাদ। হালকা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর বলেই এরা খ্যাত! কিন্তু প্রায়দিনই স্যুপ-সালাদ সহযোগে ডিনার করলে, এর কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

সালাদে যে সবজি আর ফল সাধারণত আমরা খাই, সেগুলো অনেকসময়ই দীর্ঘক্ষণ আগে কেটে রাখা থাকে। এতে কিন্তু পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। আবার অনেকেই সালাদে লো ফ্যাট ড্রেসিং করেন। আপাতদৃষ্টিতে মনে হবে, শরীরে ক্যালরি অনেক কম ঢুকছে! কিন্তু এধরনের লো ফ্যাট ড্রেসিংয়ে প্রিজ়ারভেটিভের পরিমাণ থাকে অনেক বেশি। আর নুনও প্রয়োজনের থেকে বেশিই থাকে। বলাই বাহুল্য, শরীরে অতিরিক্ত নুন আর প্রিজ়ারভেটিভ রোজ রোজ ঢুকলে সেটা আদৌ স্বাস্থ্যকর নয়। এবার আসি স্যুপের কথায়। স্যুপের সবজিগুলো কেটে, ধুয়ে, মিশিয়ে, সিদ্ধ করে রান্না করতে হয়। তারপর ছেঁকেও নিতে হয়। এই দীর্ঘ পদ্ধতিতে সবজির মধ্যে থাকা পুষ্টিগুণ আর বিশেষ অবশিষ্ট থাকে না। স্যুপ খাওয়ার পরে পেট ভরে গেলেও, অনেকেরই একটু পরে ছোটখাটো কিছু খাওয়ার ক্রেভিং শুরু হয়। যেমন ধরুন, স্যুপ খাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই কফি বা পেস্ট্রি খেয়ে ফেলেন অনেকে। এটা পুরোপুরি ডায়েট ডিজ়াস্টার। তবে স্যুপ-সালাদের শর্ট টার্ম সাইড এফেক্টগুলো এড়িয়ে চলতে পারলেও, এর দীর্ঘকালীন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এড়িয়ে চলা মুশকিল।

স্বাস্থ্যকর ডায়েট অপশন মানে হল প্রতিটা ফুড গ্রুপ থেকে খাবার খাওয়া। শুধু স্যুপ বা সালাদের উপর নির্ভর করে থাকলে, আপনার শরীর পরিপূর্ণ মিল থেকে বঞ্চিতই থেকে যাবে। শুধুমাত্র লো ক্যালরির জন্য এরকম কম্প্রোমাইজ় করাটা মোটেও সমর্থনযোগ্য নয়। লো ক্যালরি নয়, এধরনের ডায়েট প্ল্যানে লো নিউট্রিয়েন্ট থাকে। ফলে, শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টির অভাব থেকেই যায়। লো ক্যালরির চক্করে এই বিষয়টি খুব একটা ভেবে দেখেন না কেউই। আর দিনের পর দিন পুষ্টির অভাব হতে থাকলে ভবিষ্যতে ফলাফলটা কী হবে, তা বুঝতেই পারছেন। শরীর তার প্রয়োজনীয় ভিটামিন আর মিনারেল থেকে বঞ্চিত হবে। শরীরে যে জিনিসগুলোর অভাব খুব বেশি দেখা যায় সেগুলো হল ক্যালশিয়াম, ভিটামিন বি ১২ আর ডি ৩। ক্যালশিয়ামের অভাবে হাড়ের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে নারীদের একটু বয়স বাড়লেই অস্টিওপোরেসিসের সমস্যায় ভুগতে দেখা যায়। এর পিছনেও অন্যতম কারণ কিন্তু ক্যালশিয়ামের অভাব। আবার ভিটামিন ডি ৩-র অভাবে থাইরয়েড আর পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিনড্রোমের সমস্যা হতে পারে। আর ভিটামিন বি ১২-এর অভাবে হতে পারে অ্যানিমিয়া। ফলে, ব্যালেন্সড ডায়েট না খেলে অতিপ্রয়োজনীয় ভিটামিন আর মিনারেলের ঘাটতি দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। ফলে, শুধু স্যুপ আর সালাদ খেয়ে দিনযাপন করলে ওজন তো কমবে দ্রুত, কিন্তু একইসঙ্গে ঘাটতি দেখা দেবে ত্বকের জেল্লায়, শরীরের এনার্জি লেভেলে। পর্যাপ্ত ঘুমেরও ব্যাঘাত ঘটবে। আর এসবের মিলিত ফলাফল খিটখিটে মেজাজ, কাজে উত্‌সাহ হারানো ইত্যাদি। তাই, আপনি কী খাচ্ছেন তার দিকে খেয়াল রাখুন। সবসময় ক্যালরি মাপতে গেলে শরীর তার পর্যাপ্ত পুষ্টি হারাবে।


মন্তব্য