kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন কিনা বুঝে নিন ছয় লক্ষণে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৫৩



দাম্পত্য সম্পর্কে আবেগগতভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছেন কিনা বুঝে নিন ছয় লক্ষণে

একদিনেই কেউ কারো কাছ থেকে দূরে সরে আসেন না। অসাবধানী আচরণের কারণে আপনি যে পুরুষটির সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তার সঙ্গে আপনার একটি অনতিক্রম্য দেয়াল তৈরি হতে যেতে পারে।

বিষয়টি আপনি ততক্ষণ পর্যন্ত বুঝতে পারবেন না যতক্ষণ না আপনি তার সঙ্গে একটি বিস্তীর্ণ আবেগগত দূরত্ব অনুভব করছেন।
আপনি হয়তো এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী। তবে সেসব যোগাযোগ বাধাগুলো সরিয়ে আপনি চাইলে পুনরায় তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হতে পারেন। এখানে আচরণগত কয়েকটি লাল পতাকার উল্লেখ করা হলো যা ঝুলন্ত আবেগগত বিচ্ছিন্নতা সম্পর্কে সতর্কতা সঙ্কেত দেবে।
১. সমালোচনা বজায় রাখেন
সুযোগ পেলেই তাকে আঘাত করেন। এভাবে নিয়মিত সমালোচনার বানে বিদ্ধ করার ফলে তার আত্মসম্মানবোধ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে তিনি নিজেকে একটা সময়ে সরিয়ে নেবেন। এরপর আপনি লড়াইয়ের ময়দানে নামেন। প্রতিটি নেতিবাচক মন্তব্যের পাশাপাশি পাঁচটি মিষ্টি মন্তব্য করেন।

২. কখনোই যৌন মিলনে হ্যাঁ বলেন না
আপনি যদি তাকে নিয়মিতভাবে ফিরিয়ে দেন তাহলে তিনি আপনাকে প্ররোচিত করার চেষ্টা বাদ দেবেন। আপনি হয়তো ক্লান্ত। আপনি হয়তো বাচ্চা-কাচ্চা এবং চাকরিতে সময় দিতে গিয়েই অবসাদে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। আবার এমনও হতে পারে আপনি হয়তো তাকে ইচ্ছাকৃতভাবেই দূরে সরিয়ে দিচ্ছেন না। কিন্তু তিনি যে বার্তাটি পাচ্ছেন তা হলো আপনি হয়তো তাকে আর যৌন আকর্ষণীয় মনে করছেন না।

৩. ফোন নামিয়ে রাখেন
পুরুষটিকে আপনার মনোযোগ ভিক্ষা করতে বাধ্য করবেন না। আপনি যদি সারাক্ষণ ইনস্টাগ্রামে পড়ে থাকেন তাহলে তার এই অনুভূতি হবে যে আপনি তাকে অগ্রাহ্য করছেন। তিনি যখন কথপোকথন শুরু করার চেষ্টা করেন আপনি ফোন নামিয়ে রাখেন।
কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষটি যতবার নারীটির মনোযোগ পাওয়ার চেষ্টা করেন তার ৮৬ শতাংশবার যদি নারীটি সাঁড়া দেন তাহলেই একটি বিয়ে টিকে থাকে। আর নারীটি যদি সাঁড়া দেওয়ার পরিমাণ ৩৬ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনেন তাহলে বিয়ে বিচ্ছেদের সম্ভাবনা বাড়তে থাকে।

৪. মানসিক চাপের কারণে সম্পর্ক ধ্বংস করছেন
কর্মক্ষেত্রেই কাজের চাপ ত্যাগ করে আসা খুবই কঠিন। স্কুলে কঠিন সময় পারকারী একটি শিশু হতে পারে ঝামেলাপূর্ণ। অনেক বেশি সংখ্যক চাহিদার বিপরীতে অনেক কম সম্পদ আপনাকে আপনার জীবনসঙ্গীকে বাদ দিয়ে শুধু নিজের ওপরই মনোযোগ নিবদ্ধ করতে প্ররোচিত করতে পারে। কিন্তু আপনার দাম্পত্য সম্পর্কটি ধ্বংস হওয়ার আগেই আপনি আপনার মানসিক চাপের মাত্রা কমিয়ে আনার চেষ্টা করুন। এজন্য শরীচর্চা কেন্দ্রে গিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম অথবা মেডিটেশন বা ধ্যান করুন।

৫. তাকে শিশু গণ্য করে ভুল শুধরে দেন
আপনার মা সুলভ স্বরটি আপনি আপনার বাচ্চার জন্যই সংরক্ষণ করুন। আপনার যদি মনে হয় যে, আপনি আপনার স্বামীর সঙ্গে নিজের চার বছরের বাচ্চাটির মতোই কথা বলেছেন তাহলে এখনই থামুন। এতে তার প্রতি আপনি শুধু ঘৃণার বার্তাই পৌঁছে দেবেন। আর তিনিও এতে তীব্র অসন্তোষ নিয়ে পাল্টা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করবেন। তারচেয়ে বরং স্বামীর সঙ্গে যখন আপনার কোনো সমস্যা হবে তখন তার সঙ্গে একজন প্রাপ্তবয়স্কের মতোই কথা বলুন।

৬. বাচ্চারা যখন ছোট তখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছেন
বাচ্চাদের লালন-পালনের ক্লান্তিকর বছরগুলোতে যোগাযোগ শক্তিশালি রাখুন। কখনোই এমনটা ভাববেন না যে, বাচ্চারা বড় হওয়ার পর বা তারা ঘর ছেড়ে যাওয়ার পর আপনি তার সঙ্গে সংযোগ পুনঃস্থাপন করতে পারবেন। যখন ঘরটি খালি হবে এবং বাচ্চারা আর আপনার মনোযোগ দখল করে রাখবে না তখন টের পাবেন আপনি এবং আপনার স্বামী ইতিমধ্যেই পরস্পরের কাছ থেকে অনেক দূরে সরে গেছেন এবং ভিন্ন ভিন্ন দিকে পথ চলতে শুরু করেছেন।
দুই মিনিটের একটি চর্চা স্বামীর সঙ্গে আপনার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের পথ খুলে দেবে। প্রতিদিনের শুরুতে তার যে বিষয়গুলো আপনি মূল্যায়ন করেন সেসব নিয়ে দুই মিনিট ধরে ভাবুন। ওই প্রথম দুই মিনিটে দিনশেষে আপনি তাকে একটি সমালোচনামুক্ত অঞ্চলে কল্পনা করুন।
সূত্র: ইউবিউটি ডটকম


মন্তব্য