kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমি আমার চাকরিটি ঘৃণা করি, এটা কি ছাড়ব?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৫:৫৭



আমি আমার চাকরিটি ঘৃণা করি, এটা কি ছাড়ব?

অনেকেই চাকরি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেন। আর এ হতাশা অনেকের ক্ষেত্রেই এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে আর এক মুহূর্তও চাকরিতে থাকতে চান না।

যদিও জীবনধারণের জন্য এ চাকরিটি খুবই প্রয়োজন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কী করা উচিত? ফোর্বসের কন্ট্রিবিউটর লিজ রায়ানের কাছে এক নারী চিঠি লিখে প্রশ্ন করেন, তিনি বর্তমানে যে চাকরি করছেন তাতে অত্যন্ত বিরক্ত। আর এ বিষয়টি থেকে কিভাবে বের হওয়া যায় তাও ছিল তার প্রশ্নে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস।
‘আমার জীবনযাপনের তিন-চারটি প্রধান চাহিদা মেটানোর জন্য একটি নতুন চাকরি দরকার। কারণ আমি বর্তমান চাকরিটি বাদ দিতে চাই।
কিছুদিন আগেই আমি অপারেশন্স-এ একটি মানসম্মত চাকরি চাইছিলাম, যেখানে আমি সম্মানজনক বেতন ও ভাতা পাব, যা দিয়ে নিজের চাহিদাগুলো মেটানো সম্ভব হবে। এরপর তিন মাস হায়ারিং ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগের পর আমি সেই চাকরিটি পাই। আমি চাকরিটি পেয়ে খুবই খুশী হয়েছিলাম।
চাকরিতে যোগদানের সাত সপ্তাহ পর আমার সে চাকরির বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে আসে। আমি কাজের সময় দীর্ঘশ্বাস ছেড়েই শুধু সে যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি  খুঁজতে পারি। কারণ প্রতিষ্ঠানটিতে তিনজন মালিক রয়েছেন। আর তাদের মাঝে বিভিন্ন ধরনের জটিলতা বিরাজ করছে। আর তারা প্রত্যেকে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনার কারণে কর্মীদের অবস্থা দুর্বিসহ করে তুলেছেন।
এ বিষয়টিকে আপনি যদি আগ্রহ-উদ্দীপক বিষয় বলে মনে করেন তাহলে ভুল করবেন। কারণ এ কম্পানির ব্যবস্থাপনার জট কোনোভাবেই খোলার নয়। ক্রমে আরও বেড়ে চলেছে এ জট।
এখানে আমার কাজকে প্রতিনিয়ত সমালোচনা করা হয়। আমার কাজ যতই ভালো হোক না কেন, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কখনোই তা পছন্দ করে না। আর আমি সবকিছু মিলিয়ে প্রতিষ্ঠানে থাকতে একেবারেই চাইছি না।
এখানে আমার চাকরির সাত সপ্তাহ হয়েছে। আর এখনই কি আমার চাকরিটি ছাড়া উচিত, নাকি আরও কিছুদিন অপেক্ষা করা উচিত?-- বিনীত, মিরেইল।
এ প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন লিজ রায়ান। তিনি বলেন,
প্রিয় মিরেইল, আপনি একটি কঠিন স্থানে রয়েছেন যা অনেকের চোখেই খুব কঠিন এবং দুঃখজনক। তবে বিষয়টি বিশ্লেষণ করতে দিন।
আপনি নতুন একটি চাকরি নিয়েছেন এবং দেখছেন প্রতিষ্ঠানটিতে কোনো কাঠামো নেই। প্রতিষ্ঠানটির কোনো কাজের গুরুত্ব ঠিক করা নেই। ফলে কোন কাজটি আগে করতে হবে এবং কোনটি করতে গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই, সে বিষয়গুলো অস্পষ্ট। আর প্রতিষ্ঠানটির আয়ের উৎস ও নেতৃত্ব খুবই ধোঁয়াশায় পরিপূর্ণ। প্রতিষ্ঠানটির সংস্কৃতি খুবই বিষাক্ত। প্রতিষ্ঠানের কর্তারা আপনার সঙ্গে যোগাযোগ করেন না। ফলে আপনার সঙ্গে তাদের দূরত্ব তৈরি হয়েছে।
ধরুন আপনি একজন ডিরেক্টর। আপনি চাইলেই যে কোনো মানুষের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। আপনি যদি বড় হতে চান তাহলে পালিয়ে যাওয়ার বদলে যে কোনো বিষয়ে অনুশীলন করতে পারেন। কক্ষের বিশৃঙ্ক্ষলা এক মুহূর্তেই দূর করতে পারেন।
আপনার চিঠিতে যে বিষয়গুলো লিখেছেন, ঠিক সেই বিষয়গুলোই উত্থাপন করুন। প্রশ্ন করুন, রিপোর্টটি কোথায়? প্রতিষ্ঠানের কাঠামো কোথায়? ব্যবসা কিভাবে চলছে?
আমি বুঝতে পারছি আপনার অস্বস্তির কারণ। নতুন চাকরিতে অনেকেই নানা ধরনের সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে ব্যবসার বিভিন্ন প্রক্রিয়াগুলো জানা না থাকয় এবং সম্পর্কগুলো সঠিকভাবে বুঝতে না পারায় এটি হয়।
তবে আপনি এ প্রতিষ্ঠান থেকেই বহু বিষয় শিখতে পারবেন। এতে আপনি নিজে চলার শক্তি অর্জন করবেন এবং স্বনির্ভর হয়ে উঠবেন। আর এজন্য আপনার প্রতিষ্ঠানটিকে এড়িয়ে না গিয়ে বরং আরও বেশি করে সংযুক্ত হতে হবে।
আপনার চাকরি এখনও নিশ্চিত নয়। আর এ সময়েই আপনি কেন চাকরিটিকে টেস্ট কেস হিসেবে নেবেন না? আপনার নিজের শক্তি সম্পর্কে ধারণা পাবেন এ চাকরিতেই। আপনার চাকরি হয়ত চলে যাবে। আর এটিই হতে পারে চাকরিটির সবচেয়ে বাজে দিক। তবে আপনি যদি তার আগে তাদের এবং নিজের জন্য কিছু করতে পারেন তাহলে মন্দ কী?
এখন আপনার কাজ হবে চাকরিটিকে নতুন করে দেখার জন্য একটি পরিকল্পনা করা। একে পরিত্যাগ না করে বরং নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করুন। একটি নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে বিষয়টি এগিয়ে নেওয়ার জন্য এগিয়ে যান। আপনার প্রতিষ্ঠানের আয়ের উৎস জানুন। একে কিভাবে আরও বাড়ানো যায় সেজন্য উদ্যোগী হোন।
প্রতিষ্ঠানের ডিরেক্টর ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহ করুন। তাদের কোন কাজে আপনার প্রয়োজন হবে, সে বিষয় জেনে নিন। শুধু বসে থেকে নয়, সত্যিকার অর্থেই এগিয়ে যান। প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক ও শেয়ারহোল্ডারদের খোঁজখবর নিন।
আপনি এ প্রতিষ্ঠানে কতদিন রয়েছেন, এটি খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। আপনি যখনই এ পদক্ষেপগুলো নিয়ে এগিয়ে যাবেন তখনই আপনার ক্ষমতা বৃদ্ধি শুরু হবে। আর এক্ষেত্রে প্রথম পদক্ষেপটি হলো সবচেয়ে বড়। আপনি এ কাজে যতই এগিয়ে যাবেন, ততই প্রতিষ্ঠানটিতে নিজের গুরুত্ব তুলে ধরতে পারবেন। পরবর্তীতে আপনি যখন নতুন চাকরি সন্ধান করবেন তখন আপনার এ অভিজ্ঞতা বহু কাজে লাগবে। -- লিজ


মন্তব্য