kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


'রাগী আর অত্যাচারী প্রেমিককে ছেড়ে যেতে ভয় লাগে, কি করবো?'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৫৩



'রাগী আর অত্যাচারী প্রেমিককে ছেড়ে যেতে ভয় লাগে, কি করবো?'

সম্পর্ক বিষয়ে অনেক ঝামেলায় পড়ে মানুষ। অনেক ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞের পরামর্শের প্রয়োজন হয়।

এখানে দেখে নিন এমনই এক জটিল সমস্যার কথা এবং বিশেষজ্ঞের মতামত।

প্রশ্ন : আমার বয়স ২২। একটা ছেলের সঙ্গে ৬ বছর ধরে সম্পর্ক আমার। প্রেমিক ৩১ বছর বয়সী, পেশায় ব্যবসায়ী। সে খুবই রাগী মানুষ। ধনী পরিবারের সন্তান। তার সঙ্গে ডেটিং শুরুর আগে আমার অনেক বন্ধু ছিল। ডেটিং শুরুর পর আমার সব বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিতে হয়। এমনকি আমার কলেজের কোনো ছেলে আমার সঙ্গে কথা বলবে না বিষয়টি নিশ্চিত করতে হয়। উল্টো সে অন্য এক মেয়ের সঙ্গে জড়ায়। আমি তার সঙ্গে দেখা করা বন্ধ করে দেই। তবে বুঝতে পারি, তাকে আমি অনেক ভালোবাসি। এক সময় আমাদের আবারো সব ঠিক হতে থাকে। কিন্তু সমস্যা থামে না। ব্যাঙ্গালোরে কাজ করি আমি। সে আমাকে সব সময় সন্দে করে। সে তার মুখের কথা দিয়ে আমাকে দারুণ অত্যাচার করতে থাকে। এক সময় তার বন্ধুদের সামনে আমাকে আঘাত করে। আমি জানি ওর সঙ্গে সম্পর্কে রাখার কোনো প্রয়োজন নেই আমার। কিন্তু মনে হচ্ছে, আমি এখানে আটকে গেছি। তা ছাড়া চলে যেতেও আমার ভয় লাগছে। চলে যাওয়ার পর কি হবে জানি না। এখন কি করতে পারি?

পরামর্শ : ক্লিনিক্যাল সাইকোথেরাপিস্ট ড. গৌরব দেকা মেয়েটিকে দিচ্ছেন পরামর্শ। বলেন, এমন বিষাক্ত সম্পর্কে জড়িয়ে থাকার যে কারণগুলো রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো ভীতি। মনে হয়, চলে গেলে অবস্থা আরো খারাপ হয়ে যাবে। আসলে পরিবর্তনের ভয়ে ভীত হয়ে আমরা এমন নির্যাতন সহ্য করে নিই। প্রতিদিন অপমান, বাজে ব্যবহার আর নীপিড়ন সহ্য করে আমরা আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলি। এমন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাওয়ার সময় একটা পর্যায়ে মানুষ ধরে নেয়, কেউ তাকে ভালোবাসে না।

যারা এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার হন তাদের মনে সাধারণত এটি চিন্তা ঘুরে ফিরে আসে। তা হলো, এই মানুষটি আমাকে নির্যাতন করে। মাঝে মাঝে ভালোবাসাও প্রকাশ করে। তাকে ছেড়ে গিয়ে যদি এমন হয় যে, কেউ আমাকে ভালোবাসছে না, তখন কি হবে?

একবার এক নারী আসতেন আমার কাছে, বলেন বিশেষজ্ঞ। সে জানায় যে তার স্বামী তাকে প্রতিদিন গায়ে হাত তোলেন। একদিন এসে বললেন, স্বামী আর এমন করেন না। কিন্তু এতে তিনি ভয় পেয়ে গেলেন। তার মনে হতে থাকলো, কেন স্বামী আর গায়ে হাত তোলেন না?

সবাইকে একটা জিনিস মনে রাখতে হবে যে, মানুষ হিসাবে আপনার স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। আপনার ভালোর জন্য যা হবে সেদিকেই এগিয়ে যান। সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

 


মন্তব্য