kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মাত্র ১০ মাসেই ২ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন তিনি, উপায়গুলো জেনে নিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৩:৫০



মাত্র ১০ মাসেই ২ বিলিয়ন ডলার কামিয়েছেন তিনি, উপায়গুলো জেনে নিন

সফল ব্যবসায়ীর একজন রোল মডেল হতে পারেন তিনি। কারণ তার সাফল্যের ইতিহাস অন্য সবাইকে অবাক করছে।

সফল ব্যবসায়ী মাইকেল গাস্টাউয়ার তার আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে রাতারাতি সফল করে তুলেছেন। কিন্তু কিভাবে? সফল ব্যবসার কিছু তথ্য জানিয়েছেন মাইকেল। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তার সেই বিশেষ গুণগুলো। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে বিজনেস ইনসাইডার।

মাইকেল গাস্টাউয়ারের সাফল্যের কথা বলতে গেলে অনেক বিষয়ই বলতে হবে।  তার প্রতিষ্ঠান ডব্লিউবি২১ নামে ডিজিটাল ব্যাংকের মাধ্যমে এ সফলতা পেয়েছেন তিনি। তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব ও অসাধারণ কৌশলের মাধ্যমে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে মাত্র ১০ মাসেই ২.২ বিলিয়ন ডলারের অধিকারী করেছেন। এ ছাড়া খুব দ্রুত গ্রাহক সংখ্যা বেড়ে চলেছে তার প্রতিষ্ঠানের। যে কৌশলগুলোর মাধ্যমে তিনি এ সাফল্য লাভ করেছেন, তা আলোচনা করার বদলে এখানে তার ব্যক্তিত্বের বিষয়গুলোই তুলে ধরা হলো।

১. অন্যদের অভিভূত করার ক্ষমতা
যে কোনো মানুষ মাইকেল গাস্টাউয়ারের সঙ্গে দেখা করতে গেলেই অভিভূত হবেন তার ব্যক্তিত্বে। তার ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলেন সাংবাদিক ক্রেইগ কুলকার্নি। তিনি জানান, ইন্টারভিউয়ের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার সঙ্গে অবস্থানের সময়টি ছিল অসাধারণ। তার সঙ্গে অবস্থানের সময় অন্যরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে সে জন্য অদ্ভুত দক্ষতা রয়েছে মাইকেল গাস্টাউয়ারের।

তিনি বলেন মাইকেলের কয়েকটি গুণ রয়েছে। এ গুণের মধ্যে দুটি হলো, তার প্রশ্ন করার দক্ষতা ও শিথিল দেহের ভাষা। এ ক্ষেত্রে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পাশাপাশি আন্তরিকভাবে তিনি নিজেও নানা বিষয়ে প্রশ্ন করতে থাকেন। আর এতে উভয়ের সংযোগটি হয়েছিল দারুণ। এ ছাড়া রয়েছে তার তাড়াহুড়ো বিহীন শিথিল দেহের ভাষা। আর এ কারণে তার সঙ্গে দেখা করতে আসা যে কেউ স্বস্তিতে থাকে।

২. কাজের কঠোর নীতি
মাইকেল সর্বদা কাজের জন্য কঠোর নিয়মনীতি মেনে চলেন। তার কাজ যেমন কঠিন তেমন সঠিকভাবে করার ফলে তা সফল হতেও সময় লাগেনি। যেমন বর্তমানে প্রতিমাসে তিনি ১৫টি দেশে ব্যবসায়িক কাজে সফর করছেন। আর এ সফরের কারণে প্রচণ্ড ব্যস্ত থাকতে হচ্ছে তাকে। এ জন্য প্রায়ই বিশ্রামের সময়ও পাচ্ছেন না তিনি। এ ছাড়া দৈনিক কর্মঘণ্টাও কম নয়। কারণ অন্য সহকর্মীদের তুলনায় তিনি যেমন দুই ঘণ্টা আগেই কাজ শুরু করেন তেমন মাঝরাত পর্যন্ত কাজ নিয়েই ব্যস্ত থাকেন তিনি।

৩. লক্ষ্য যখন উচ্চ
একটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উচ্চ লক্ষ্য থাকলে তা সফল হতে সহায়তা করে। মাইকেল বলেন তার সাফল্যের এ বিষয়টি ধরা দিত না যদি তিনি অত্যন্ত আগ্রহ নিয়ে কাজ শুরু না করতেন। বিষয়টি অনেকটা অসম্ভব ছিল। কিন্তু তিনি চাইছিলেন এশিয়ার দরিদ্র মানুষের কল্যাণে ব্যবসা করতে। আরও বেশি নারীদের ক্ষমতায়নে কাজ করতে। আর এ বিষয়টিতে আগ্রহই আরও সামনে এগিয়ে নেয় মাইকেলকে।

৪. জনপ্রিয়তা নয়, অর্থবহ কিছু করা
যে বিষয়গুলো সবার কাছে জনপ্রিয়, সেগুলোতে আপনি সফল নাও হতে পারেন। কারণ এ বিষয়গুলোতে ইতিমধ্যেই বহু মানুষ কাজ করছেন। কিন্তু আপনি যখন অর্থবহ ও ব্যতিক্রমী কিছু করতে পারবেন তখন তা আপনাকে সফল করতে সহায়তা করবে। আর এ বিষয়টিই সফল হতে সহায়তা করেছে মাইকেলকে।

৫. ব্যক্তিগত জীবনযাপনের প্রতিফলন
মাইকেল জানান, তার জীবনযাপনও ব্যবসায় সফলতা অর্জনে সহায়ক হয়েছে। তিনি অ্যালকোহল পান করেন না বললেই চলে। এ ছাড়া পার্টিতেও প্রায় যান না। ব্যবসাকে তিনি ভালোবাসেন। আর অধিকাংশ সময় এ কাজেই ব্যয় করতে চান। এ ক্ষেত্রে অন্য সবাই কী করছে, তা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। কারণ অধিকাংশ মানুষ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করছে না।


মন্তব্য