kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দেহঘড়ির ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্বের লোকদের আদর্শ ঘুমের রুটিন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৩০



দেহঘড়ির ভিত্তিতে ভিন্ন ভিন্ন ব্যক্তিত্বের লোকদের আদর্শ ঘুমের রুটিন

যখন স্বাস্থ্য এবং উৎপাদনশীলতার কথা এসে যায় তখন শুধু আপনি কী করেন তা নিয়ে ভাবলেই চলবে না বরং কখন করছেন তাও বিবেচনায় রাখতে হবে। সঠিক খাবার খাওয়া, ব্যায়াম করা এবং কঠোর পরিশ্রম করা পরস্পরের সঙ্গে একসুত্রে গাঁথা।


ক্রোনোবায়োলজি হলো কারো আভ্যন্তরীণ দেহঘড়ি সম্পর্কিত পাঠমূলক বিষয়। লোকের দেহঘড়ি কীভাবে পরস্পর থেকে আলাদা এবং কীভাবে আপনি নিজের দৈনিক কর্মসূচির সঙ্গে আপনার অনন্য দৈহিক ছন্দের সমন্বয় সাধন করবেন এসব নিয়েই আলোচনা করা হয় ক্রোনোবায়োলজিতে। প্রতিটি ব্যক্তির দেহঘড়ি বা দৈহিক ছন্দ আলাদা।
মনোবিজ্ঞানী এবং ঘুম বিশেষজ্ঞ ড. মিখায়েল ব্রেউস এর মতে, দেহঘড়ির ভিত্তিতে মানুষদের ব্যক্তিত্বের প্রতিনিধিত্ব করে চারটি পশু- ডলফিন, সিংহ, ভাল্লুক এবং নেকড়ে।
ব্রেউস এর ওয়েবসাইটে একটি ডায়াগনস্টিক কুইজ আছে যার উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে যে কেউ তাদের দেহঘড়ি বা দৈহিক ছন্দটি কী তা নির্ণয় করতে পারবেন।
ব্রেউস তার “দ্য পাওয়ার অফ হোয়েন” নামক বইয়ে ভিন্ন ভিন্ন দেহঘড়ি বা দৈহিক ছন্দের অধিকারী লোকদের জন্য আদর্শ দৈনিক রুটিন এর একটি খসড়া উপস্থাপন করেছেন।
আর মনে রাখবেন প্রতিটি দিনকেই নিখুঁত দিন হিসেবে কখনোই পাওয়া সম্ভব নয়। সুতরাং বাস্তবানুগভাবে কর্মসুচি তৈরি করুন।
১. ডলফিন: ডলফিনরা খুবই হালকা ঘুম ঘুমান। এরা প্রায়ই নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত হন। এরা সকাল ৬টা ৩০মিনিটে বিছানা ছাড়েন। ৭টা ৩০মিনিটে নাস্তা করেন। ৯টা ৩০মিনিটে কফি পান করেন। ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে মস্তিষ্ক খাটান এবং সৃষ্টিশীল প্রকল্পে কাজ করেন। ১২টায় দুপুরের খাবার খান। বেলা ১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে ক্লান্তি কাটানোর জন্য হাঁটাহাঁটি করেন। ৪টা ৬টার মধ্যে বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সৃষ্টিশীল কাজ করেন এবং পেশাসংশ্লিষ্ট ইমেইল করেন। সন্ধ্যা ৬টায় ধ্যান বা যোগ ব্যায়াম করেন। ৬টা ৩০মিনিটে রাতের খাবার খান। ১০টা ৩০মিনিট থেকে ১১টা ৩০মিনিটের মধ্যে সকল ধরনের স্ক্রিন বন্ধ করে দেন। ১১টা ৩০মিনিটে ঘুমাতে যান।
২. সিংহ: সিংহরা খুব সকালে প্রচুর শক্তি নিয়ে ঘুম থেকে ওঠেন। তবে সন্ধ্যাবেলাতেই তারা পুরোপুরি ক্লান্ত হয়ে পড়েন। সকাল ৫টা ৩০মিনিটে ঘুম থেকে উঠেই নাস্তা করেন। ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে কর্ম পরিকল্পনা এবং বড় কোনো দৃশ্যপটের চিন্তা করেন। ধ্যান করেন। ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে কফি পান করেন। ১০টা থেকে ১২টার মধ্যে জরুরি বৈঠকগুলো সম্পন্ন করেন। ১২টায় দুপুরের খাবার খান। ১টা থেকে ৫টার মধ্যে মস্তিষ্কের কসরত করেন এবং জার্নাল পড়েন। ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে ব্যায়াম করেন। ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে রাতের খাবার খান। রাত ১০টায় সকল স্ক্রিন বন্ধ করে দেন। ১০টা ৩০মিনিটে ঘুমাতে যান।
৩. ভাল্লুক: ভাল্লুকদের আভ্যন্তরীন দেহঘড়ি সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত অনুসরণ করে। প্রতিরাতে তাদের পুরো ৮ঘন্টার ঘুম দরকার হয়। সকাল ৭টায় ঘুম থেকে উঠে কয়েকমিনিট ব্যায়াম করেন। ৭টা ৩০মিনিটে নাস্তা খান। ৯টা ১০মিনিটে দিনের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। ১০টায় কফি পান করেন। ১০টা থেকে ১২টায় কঠিন কাজগুলো সম্পন্ন করেন এবং পেশাগত ইমেইল করেন। ১২টায় একটু হাঁটাহাঁটি করেন, দুপুরের খাবার খান এরপর পুনরায় হাঁটাহাঁটি করেন। ২টা ৩০মিনিট থেকে ২টা ৫০মিনিটের মধ্যে দিবা নিদ্রা যান অথবা মেডিটেশন বা ধ্যান করেন। ৩টা থেকে ৬টার মধ্যে প্রয়োজনীয় ফোন কল করেন এবং ইমেইল পাঠান। ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে ব্যায়াম করেন। ৭টা ৩০মিনিটে রাতের খাবার খান। ৮টা ১০মিনিটে মস্তিষ্কের কসরত করেন। রাত ১০টায় সকল ধরনের স্ক্রিন বন্ধ করে দেন। ১১টায় ঘুমাতে যান।
৪. নেকড়ে: নেকড়েদের সকালে ঘুম থেকে উঠতে খুবই কষ্ট হয়। আর সন্ধ্যাবেলাতে এরা সবচেয়ে শক্তিশালি থাকেন। এরা সকাল ৭টা থেকে ৭টা ৩০মিনিটের মধ্যে ঘুম থেকে ওঠেন; অন্তত দুবার অ্যালার্ম বাজার পর। ঘুম থেকে উঠেই মস্তিষ্কে চিন্তার জট পাকান। ৭টা ৩০মিনিটে নাস্তা করেন। ৮টা ৩০মিনিটে ঘরের বাইরে ব্যায়াম করেন। ৯টায় দিনের কর্মপরিকল্পনা করেন। ১১টা থেকে ১টায় কফি পান করেন। ব্যস্ত কাজের যত্ন নেন। ১টায় দুপুরের খাবার খান এবং হাঁটাহাঁটি করেন। বিকেল ৪টা থেকে ৬টায় মিটিংগুলো সম্পন্ন করেন এবং সহকর্মীদের সঙ্গে নিজের ধারণাগুলো ভাগাভাগি করেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টায় ব্যায়াম করেন। রাত ৮টায় রাতের খাবার খান। ১১টায় সকল স্ক্রিন বন্ধ করে দেন। মেডিটেশন বা ধ্যান করেন। হালকা গরম পানিতে গোসল করেন। ১২টায় ঘুমাতে যান।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য