kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলা উচ্চ বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:০৩



উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলা উচ্চ বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ!

আপনি যদি প্রায়ই উদ্বেগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন তাহলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনার এই উদ্বেগ হতে পারে উচ্চ বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ।


কানাডার অন্টারিওর লেকহেড বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০০ শিক্ষার্থীর ওপর চালানো এক জরিপে এর প্রমাণ মিলেছে। মনোবিজ্ঞানী আলেক্সান্দার পেনি জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরকে প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে তাদের উদ্বেগের মাত্রা সম্পর্কে জানাতে বলেন।
ওই গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ বেশি তাদের বুদ্ধিমত্তাও বেশি। উদাহরণত, জরিপে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা “আমি সবসময়ই কোনো না কোনো বিষয়ে উদ্বেগে ভুগি” এমন বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন তারা মৌখিক বুদ্ধিমত্তা পরীক্ষায় উচ্চ স্কোর করেছেন।
ইসরায়েলের ইন্টারডিসিপ্লিনারি সেন্টার হার্জলিয়ার মনোবিজ্ঞানী সাচি আইন ডোর এবং অর্গাড টাল ২০১২ সালে পরিচালিত একটি পরীক্ষা চালান। ওই পরীক্ষা থেকে এই ধারণা আরো দৃঢ় হয়, কারণে অকারণে উদ্বেগে আক্রান্তরা অন্যদের তুলনায় বেশি স্মার্ট। ওই পরীক্ষায় ৮০ জন শিক্ষার্থীর ওপর কৃত্রিমভাবে সাজানো দুর্ঘটনার মাধ্যমে মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।
গবেষণাটিতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদেরকে বলা হয়, তাদের কাজ হবে একটি সফটওয়্যার প্রোগ্রামের মাধ্যমে উপস্থাপিত শিল্প কর্মের মূল্যায়ন করা। কিন্তু কাজটি করতে গিয়ে তারা ভয়ানক একটি কম্পিউটার ভাইরাস ওপেন করে ফেলেন। ফাঁদটি আগে থেকেই পাতা ছিল। এরপর তাদেরকে জরুরিভাবে প্রযুক্তিগত সহায়তা চাওয়ার জন্য আহবান জানানো হয়।
ওই আহবানে যাদের উদ্বেগ সংক্রান্ত স্কোর বেশি তারাই সবচেয়ে বেশি স্থিরভাবে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। তারা একান্ত মনে মৌলিক কম্পিউটার ভাইরাস ত্রুটি সারানোতে মনোনিবেশ করেন। এবং কোনো দেরি না করেই একটি সতর্কবার্তা প্রেরণ করেন। গবেষকরা জানান, ওই ঘটনায় যারা সহজেই স্নায়বিক দূর্বলতায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদেরকেই সবচেয়ে বেশি দ্রুত সতর্ক হতে দেখা গেছে এবং তাদের কার্যকারিতা বেশি বলে মনে হয়েছে।
এর আগের আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, সহজেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এমন লোকেরা শান্তদের চেয়ে অনেক দ্রুত কোনো হুমকি শনাক্ত করতে পারেন এবং ধোঁয়ার গন্ধ পান। ওই দুই গবেষকের দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিপ্রেক্ষিতে, আপনি যদি স্বভাবগতভাবেই অস্থির হয়ে থাকেন তাহলে বুঝতে হবে আপনি একজন “অতন্দ্র প্রহরী”; শুধুই বৈকল্যগ্রস্ত একগুচ্ছ স্নায়ুর অধিকারী নন।
নিউইয়র্কের সানি ডাউনস্টেট মেডিক্যাল সেন্টার এর মনোচিকিৎসক জেরেমি কপলান উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্তদের নিয়ে একটি গবেষণা চালান। এতে তিনি এবং তার সহকর্মীরা দেখতে পান, যাদের উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলার তীব্রতা বেশি তারা উচ্চ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী।
সহজেই বেশি বেশি উদ্বেগে আক্রান্ত হন যারা তারা অনুসন্ধানী মনের অধিকারী হন। আর এই ধরনের লোকেরা যে কোনো পরিস্থিতি ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোন থেকেও বিচারে সক্ষম। পেনি এবং সহগবেষকরা জানান, “মৌখিক কথপোকথনে বুদ্ধিমান লোকেরা অতীত এবং ভবিষ্যত ঘটনাবলী বিস্তারিতভাবে বিচার বিশ্লেষণ করতে পারেন। যা তাদেরকে তীব্রভাবে চিন্তিত এবং উদ্বেগে আক্রান্ত করে।
যারা ভবিষ্যতের কোনো পরিণতি নিয়ে সহজেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তারা হয়তো ভবিষ্যত কোনো দুর্যোগের আগাম অনুমান করতেও সক্ষম। এর ভিত্তিতে কোনো বিষয়ে অগ্রিম নিরাপত্তা পদক্ষেপ গ্রহণও সম্ভব। যাতে হয়তো ভবিষ্যত কোনো দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।
তবে অনেকের মতে, যারা সহজেই উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হন তারা পরিষ্কার করে কোনো কিছু নিয়ে ভাবতে পারেন না।
অবশ্য, নিকোলা তেসলা, চার্লস ডারউইন এবং কুট গোডেলের মতো ইতিহাসের বিখ্যাত মেধাবী চিন্তাবিদরা উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় ভুগতেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কনও এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত ছিলেন।
এডভার্ড মাঞ্চ এর মহাকাব্যিক শিল্পকর্ম ‘দ্য স্ক্রিম’ এর ধারণা তার মাথায় এসেছিল যখন তিনি একবার তীব্র আতঙ্কজনিত উদ্বেগ এবং মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেসময় তার মানসপটে একটি রক্তলাল আকাশের চিত্র ভেসে উঠেছিল। তিনি তার অভিজ্ঞতার বর্ণনা দেন এভাবে, “আমি সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম ও উদ্বেগে কাঁপছিলাম- আর প্রকৃতির ভেতর দিয়ে এক অনন্ত আর্তনাদ বয়ে যাওয়ার অনুভূতি লাভ করছিলাম। ”
আপনার সৃজনশীলতার মাত্রা যাই হোক না কেন আপনি যদি আশঙ্কার ওপর জেদ ধরে পদক্ষেপ গ্রহণ করেন তাহলে আপনি বিপদ এড়িয়ে চলতে সক্ষম হবেন। স্বস্তির ঢেকুর তুলতে তুলতে মৃত মানুষের মতো থাকার চেয়ে বরং উদ্বিগ্ন এবং প্রাণবন্ত থাকাই ভালো।
সুতরাং কেউ যদি আপনাকে পরেরবার মানসিকভাবে শিথিল হওয়ার কথা বলেন, তাহলে তাকে বুঝিয়ে বলুন যে, স্নায়বিক দৌর্বল্যের কিছু সুবিধাও আছে। ভীতিগ্রস্ততা অনেক সময় কর্মক্ষেত্রেও কৌশলগত সুবিধা অর্জনে সহায়ক হয়। যা কাজের গুনগত মানের ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা এবং উচ্চমাত্রার বুদ্ধিমত্তারও একটি লক্ষণ। আর এতে অতি আত্মবিশ্বাসের ফলে বিপদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য