kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


প্রেমে পড়ার অদ্ভুত কিছু কারণ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:২১



প্রেমে পড়ার অদ্ভুত কিছু কারণ

ভালোবাসর সংজ্ঞা কেউ-ই দিতে পারবেন না। এটা সুখকর অনুভূতি, প্রতিশ্রুতি, সেরা বন্ধুত্ব এবং আনন্দদায়ক এক পরিবেশ।

সত্যিকার ভালোবাসা খুঁজে পাওয়াটা সহজ কথা নয়। আবার কারো প্রেমে পড়ার কারণেরও অভাব নেই। কেউ অনেক বিচিত্র কারণে আপনার প্রেমে পড়তে পারেন। এখানে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন এমনই কয়েকটি অদ্ভুত কারণের কথা।

১. পরিবেশ সচেতন আপনি : প্রকৃতি-পরিবেশকে কে না ভালোবাসে। কিন্তু সবাই কি আর সত্যিকার ভালোবাসে? ২০১৬ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, যে নারী-পুরুষ পরিবেশ ভালোবাসেন এবং এ সংক্রান্ত কাজে সময় দেন, তাদের প্রতি আকর্ষণ বোধ করেন অনেকে। তাদের দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্কের জন্য গ্রহণ করে নেয় মানুষ।

২. লক্ষ্য অর্জনে অটল : ২০১৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, যে সকল পুরুষ তার লক্ষ্য অর্জনে অটল থাকে তাদের প্রেমে পড়ে মেয়েরা। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এ ধরনের পুরুষকে নারীরা প্রতিশ্রুতিশীল বলে মনে করে। তবে এ পছন্দের বিষয়টি বিশেষ কয়েকটি পরিবেশে কার্যকর হতে পারে।

৩. মুখের প্রকাশভঙ্গী যখন একেবারে সঠিক : সুখকর অনুভূতি নারীদের কাছে খুব বেশি আকর্ষণীয়। কিন্তু পুরুষের ক্ষেত্রে ততটা নয়। ২০১১ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, পুরুষদের কাছে নারীর সুখী চেহারা আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। কিন্তু তাদের গর্বিত চেহারা আবার পুরুষের কাছে পছন্দসই নয়। অন্যদিকে, পুরুষদের গর্বিত চেহারা নারীদের কাছে প্রিয়। কিন্তু সুখী চেহারা আবার একেবারেই পছন্দ নয়।

৪. যদি অতীত বা বর্তমান সঙ্গী-সঙ্গিনীর সঙ্গে চেহারায় মিল থাকে : কোনো নারীর অতীত প্রেমিকের চেহারার সঙ্গে আপনার চেহারা মিল থাকলে তিনি প্রেমে পড়বেন। ২০১১ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, নারী-পুরুষ উভয়ই তাদের অতীত সঙ্গী-সঙ্গিনীর মতো দেখতে কাউকে পেলে তার প্রেমে পড়ে যান।

৫. হাতের ব্যবহারে নানা ভঙ্গী : এ বছরের এক গবেষণায় বলা হয়, আলাপচারিতায় হাতের ব্যবহারে নানা ভঙ্গী করে কথা বললে তা অপরের কাছে পছন্দনীয় হয়ে ওঠে। এ গবেষণায় জিপিএস-ভিত্তিক ডেটিং অ্যাপের সহায়তা নেওয়া হয়। দেখা যায়, যারা মুখের কতা বোঝাতে হাতের ব্যবহার ঘটান তাদের পছন্দ করেন শ্রোতা।

৬. যখন তাদের মতোই আপনি : ব্যক্তিত্ব, পছন্দ-অপছন্দ বা আচার-আচরণে মিল থাকলে আপনার প্রেমে পড়ে যাবেন অন্য কেউ। জীবনযাপনে মিল থাকলে একে অপরকে সহজে বুঝতে পারেন। যারা অন্যদের সঙ্গে নিজের মিল খুঁজে পায়, তারা প্রেমে পড়ে যান।

৭. ঘন ঘন চোখে চোখ : ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস এর মনোবিজ্ঞানী জোয়ান কেলারম্যান ৭২ জন শিক্ষার্থীকে একটি পরীক্ষা দেন। তারা একে অপরের চোখে টানা দুই মিনিট তাকিয়ে থাকেন। পরবর্তিতে তারা অপরের প্রতি আবেগ অনুভব করেন। সায়েন্টিফিক আমেরিকান এক প্রতিবেদনে বলে, বেশ কিছু সময়ের চোখে চোখ দুজনের মধ্যে ভালোলাগা সৃষ্টি করে।

৮. দৃষ্টি আকর্ষণ : একে অপরের প্রতি কেমন আচরণ করছেন তার ওপর নির্ভর করে দুজনের মধ্য সম্পর্ক গড়ে ওঠার বিষয়টি। ৪০ বছরের বেশি সময় ধরে জুটিদের ওপর গবেষণা করছেন মনোবিজ্ঞানী জন গটম্যান। তিনি জানান, কেউ দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলে তাতে সাড়া দেওয়া হলে দুজনের মধ্যে ভাব জমে ওঠে।

৯. সঠিক গন্ধ পেলে : ইউনিভার্সিটি অব সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ার গবেষণায় বলা হয়, পুরুষের গায়ের টি-শার্টের গন্ধে অনেক নারীর মনে ভালোলাগা তৈরি হয়। পুরুষের টেসস্টোটেরনের কারণে এ গন্ধের সৃষ্টি হয়। এটি সঠিকভাবে বুঝতে পারলেই ঘটনা ঘটে যায়। হরমোনঘটিত এসব কারণে ভালোবাসা সৃষ্টি হয়।

১০. বাবা-মায়ের সঙ্গে মিল থাকলে : ইউনিভার্সিটি অব সেন্ট পিটর্সবার্গের মনোবিজ্ঞানী ডেভিড পেরেট এবং তার সহকর্মীদের এক গবেষণায় বলা হয়, কোনো পুরুষের যদি কোনো মেয়ের মায়ের সঙ্গে মিল থাকে, তবে ওই মেয়ে পুরুষটির প্রেমে পড়ে যাবেন। এভাবে মেয়েটির কোনো ছেলের বাবার সঙ্গে মিল থাকলে একই ঘটনা ঘটবে।

১১. কুকুর পুষলে : ২০১৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়, যে পুরুষরা কুকুর পালেন তাদের প্রতি আকৃষ্ট হয় পুরুষরা। এমন পুরুষদের দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের জন্য যোগ্য বলে মনে করেন নারীরা। এমন পুরুষ তাদের চোখে দায়িত্ববান হয়ে ওঠেন যারা অন্যের দেখভাল করতে পারেন।

১২. চেহারার মিল থাকলে : যদি ওই নারী বা পুরুষের সঙ্গে আপনার চেহারার সামান্যতম মিল থাকে, তবে ভালোলাগা তৈরি হতে পারে। এক মানুষের সঙ্গে অন্যের চেহারার অনেক মিল থাকতে পারে। আবার সামান্য মিল থাকে। এ ধরনের মিল থাকলেই একে অপরের প্রেমে পড়ে যেতে পারেন। সূত্র : ইনডিপেনডেন্ট

 


মন্তব্য