kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে খাদ্যগুলো আপনাকে দিনব্যাপী শক্তির যোগান দেবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪১



যে খাদ্যগুলো আপনাকে দিনব্যাপী শক্তির যোগান দেবে

প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় এমন কিছু খাবার রাখুন যেগুলো আপনাকে দিনব্যাপী শক্তি যোগাবে। প্রতিবেলা খাবার গ্রহণের সময় শুধু পেট পুরে খাওয়ার বদলে বরং যা আপনাকে দিনব্যাপী শক্তি যোগাবে এমন খাবারই বাছাই করুন।

কিছু কিছু খাদ্য আছে, যেগুলো শক্তিবর্ধক ভিটামিন, লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন বি'র মতো খনিজ পদার্থে ভরপুর। এখানে এমন কিছু খাদ্যের তালিকা তুলে ধরা হলো।

শক্তির জন্য এবং ক্লান্তি দূর করতে ভিটামিন ও খনিজ উপাদানে সমৃদ্ধ খাবার খান। নির্দিষ্ট কিছু ভিটামিন এবং খনিজ পদার্থ দৈহিক শক্তি বজায় রাখা এবং শক্তির মাত্রা বৃদ্ধির জন্য জরুরি। ফলমূল, সবজি, সবুজ শাক, বাদাম, শীম এবং বীজজাতীয় খাবার আপনাকে ভিটামিন এবং খনিজ উপাদান সরবরাহ করবে যা আপনাকে সারাদিন ধরে শক্তি যোগাবে।

আয়রন
লাল রক্তকোষ থেকে টিস্যু এবং মাংসপেশিতে অক্সিজেন সরবরাহ করে আয়রন বা লৌহ। যেসব খাদ্যে লৌহ পাওয়া যায়- শীম, ডাল, জলপাই, সয়াবিন, স্পিনাক সুইস চার্ড।

ভিটামিন বি সমুহ
ভিটামিন বি সমুহ খাদ্যের শক্তির রুপান্তর, বেড়ে ওঠা, উন্নয়ন এবং অন্যান্য দৈহিক ক্রিয়াকলাপের জন্য জরুরি।
এই গ্রুপের ভিটামিনের মধ্যে রয়েছে,
১. ভিটামিন বি ওয়ান। ভিটামিন বি ওয়ানের উৎসগুলো হলো, বার্লি, কালো শীম, নেভি শীম, মটরশুটি, ওট, সুর্যমুখী ফুলবীজ।
২. ভিটামিন বি টু। এর উৎসগুলো হলো, অ্যালমন্ড, অ্যাসপ্যারাগাস, বিট গ্রিনস, ক্রিমিনি মাশরুম, ডিম, সয়াবিন, স্পিনাক, দই।
৩. ভিটামিন বি থ্রি। গরুর মাংস, লাল চাল, মুরগীর মাংস, ভেড়ার মাংস, বাদাম, রুই মাছ, সার্ডিন, চিংড়ি, টুনা ও টার্কি।
৪. ভিটামিন বি ফাইভ। অ্যাভোকাডো, চিকেন, মসুর ডাল, মটরশুটি, শিটেক মাশরুম, মিষ্টি আলু, টার্কি ও দই।
৫. ভিটামিন বি সিক্স। কলা, গরুর মাংস, মুরগির মাংস, আলু, রুই মাছ, স্পিনাক, সুর্যমুখী ফুলের বীজ, মিষ্টি আলু, টুনা এবং টার্কি।
৬. ভিটামিন বি সেভেন। অ্যালমন্ড, ক্যারট, ডিম, ওট, পিঁয়াজ, বাদাম, রুই মাছ, মিষ্টি আলু, টমেটো এবং আখরোট।
৭. ভিটামিন বি নাইন। অ্যাসপ্যারাগাস, ব্রোকোলি, উন্নত রুটি,  শস্যদানা এবং অন্যান্য শস্য, গার্বাঞ্জো শীম, ডাল, নেভি শীম, পেপে, পিন্টো শীম, স্পিনাক এবং স্ট্রবেরি।
৮. ভিটামিন বি টুয়েলভ। গরুর মাংস, কড মাছ, ভেড়ার মাংস, দুধ, রুই মাছ, সার্ডিন মাছ, শামুক, চিংড়ি, টুনা, দই।

ম্যাগনেসিয়াম
স্বাস্থ্যকর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে এবং প্রদাহ রোধ করে। উৎসগুলো হলো, কালো শীম, হিজলি বাদাম, নেভি শীম, কুমড়ো বীজ, কুইনোয়া, তিলের বীজ, সয়াবিন, স্পিনাক, সুইস চার্ড, সুর্যমুখী বীজ।

পটাশিয়াম
এটি একটি ইলেকট্রোলাইট। যা রক্তচাপ, মাংসপেশীর তৎপরতা এবং জলপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। অ্যাভোকাডো, সবুজ শাক, লিমা শীম, ডাল, পিন্টো শীম, গোল আলু, সয়াবিন, স্পিনাক, মিষ্টি আলু, সুইস চার্ড।

ভিটামিন সি
কার্নিটিনিন নামের মলিকিউল উৎপাদনে সহায়ক। এটি এমন একটি অণু যা দেহের চর্বি পুড়িয়ে শক্তি উৎপাদন করে। এর উৎসগুলো হলো, ঘন্টা মরিচ, ব্রোকোলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট, ফুটি, কলি ফ্লাওয়ার, কিউই, কমলা, পেপে, আনারস ও স্ট্রবেরি।

জিঙ্ক
প্রোটিন সংশ্লেষণকে প্রভাবিত করে এবং লাল ও সাদা রক্তকোষের কর্মতৎপরতার জন্য জরুরি। এর উৎসগুলো হলো, গরুর মাংস, হিজলি বাদাম, গার্বাঞ্জো শীম, ভেড়ার মাংস, ডাল, কুমড়ো বীজ, কুইনোয়া, তিল বীজ, চিংড়ি ও টার্কি।

ক্যালসিয়াম
সবুজ শাকসবজি, দুধ, সার্ডিন, তিল বীজ, স্পিনাক, টফু, শালগম, দই।

কপার
দেহকে লৌহ শোষণে সহায়তা করে, লাল রক্তকোষ তৈরি করে, স্নায়ু কোষসমুহ এবং রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে স্বাস্থ্যকর রাখে। উৎসগুলো হলো, হিজলি বাদাম, গার্বাঞ্জো শীম, ডাল, লিমা শীম, তিল বীজ, শিটেক মাশরুম, সয়াবিন, সুর্যমুখী ফুলের বীজ, গাঁজনকৃত সয়াবিন ও আখরোট।
সূত্র : দ্য হাফিংটন পোস্ট


মন্তব্য