kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিদিন এই ১০ কৌশল ব্যবহার করুন

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:৫৮



কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে প্রতিদিন এই ১০ কৌশল ব্যবহার করুন

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, আরভিন এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, অফিসে প্রতি তিন মিনিট পরপর একবার অযাচিতভাবে কর্মীদের মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে। আর একবার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটার পর পুনরায় মূল কাজে মনোযোগ ফিরিয়ে আনতে অন্তত ২৩ মিনিট সময় লাগে।


আপনার বেলায়ও যদি এমনটা ঘটে থাকে তাহলে এই ১০টি কৌশল ব্যবহার করে আপনি নিজের মনোযোগ এবং উৎপাদনশীলতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারেন।
১. একসঙ্গে একটিমাত্র কাজই করার চেষ্টা করুন
আপনি হয়তো ভাবতে পারেন বহুমুখী কর্মদক্ষতা বা একসঙ্গে অনেকগুলো কাজ করার মাধ্যমেই সবচেয়ে বেশি সাফল্য অর্জন সম্ভব। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে এই ধারণা একটি গুজব ছাড়া আর কিছুই নয়। আর একসঙ্গে একাধিক কাজ করাটা বরং আমাদের মস্তিষ্কের জন্য প্রকৃতপক্ষে মারাত্মক ক্ষতিকরও হতে পারে। অনেকগুলো কাজের ওপর নিজের মনোযোগকে ভাগ করে কাজ করতে গেলে বরং আপনার কাজের গুনগত মান কমে আসবে। এবং নির্ধারিত লক্ষ্যে পৌঁছাতেও অনেক বেশি সময় লেগে যাবে।
মানসিকভাবে শুধু একটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করতে সক্ষম লোকেরাই শুধু একটি বড় লক্ষ্য অর্জনের জন্য কয়েকটি ছোট ছোট বিষয়ে কাজ করতে পারেন। কিন্তু তারা একবারে শুধু একটি কাজই সম্পন্ন করেন। একটি শেষ করার পর আরেকটি কাজে হাত দেন। কখনোই একসঙ্গে একাধিক কাজ করেন না।
২. দিনের বেলায় নিজের সবেচেয়ে সেরা সময়টুকু চিহ্নিত করুন
অনেকে খুব সকাল বেলাতেই বেশি উৎপাদনশীল এবং মানিসকভাবে ধারালো থাকেন। নিজের বেলায়ও দিনের সেই সময়টি খুঁজে বের করুন যখন আপনি সবচেয়ে বেশি মনোযোগী হতে পারেন। আর সে সময়টুকুতেই মানসিকভাবে কঠোর পরিশ্রম করার দরকার হয় এমন কাজগুলো সম্পন্ন করুন।
৩. কাজ শুরুর আগে শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন
হার্ভার্ডে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুখ বিষয়ক গবেষক এবং শীর্ষ ব্যবসা সফল বই “দ্য হ্যাপিনেস অ্যাডভান্টেজ” এর লেখক শন অ্যাছর বলেছেন, কাজ শুরুর আগে গভীরভাবে শ্বাস গ্রহণ করুন। এবং দুই মিনিট ধরে দেহের ভেতরে শ্বাস-প্রশ্বাসের প্রবেশ এবং বের হওয়ার বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করুন।
তিনি বলেছেন, প্রতিদিনই এই ব্যায়ামটি করুন। এটি আপনার মস্তিষ্ককে একই সময়ে মাত্র একটি বিষয়ের ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করতে সহযোগিতা করবে। অ্যাছর বলেন, এতে আপনার কাজের সঠিকতার হারও বাড়বে, সুখের মাত্রা বাড়বে এবং অবসাদের মাত্রা কমে আসবে।
৪. নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে সচেতন হন
দিনজুড়ে নিজেকে বারবার পরখ করে দেখুন। যখন আপনার এমন অনুভূতি হবে যে, আপনার আত্মনিয়ন্ত্রণ কমে যাচ্ছে, তাহলে একটু থামুন, একবার জোরে শ্বাস নিন এবং নিজের উদ্দেশ্য পুনরায় পরখ করে দেখুন। প্রতি ঘন্টা পরপর পর্যবেক্ষণ করে দেখুন কী করে আপনার কাজের গুনগত মান পরিবর্তিত হচ্ছে। এতে আপনি নিজের উদ্দেশ্য সম্পর্কেও আরো বেশি সচেতন হবেন।
৫. কিছুক্ষণ পরপর বিরতি নিন
সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বিরতি খুব কাজে দেয়। কারণ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধারালো মনোযোগ সম্পন্ন লোকও ক্লান্ত এবং পরিশ্রান্ত হয়ে পড়েন। এটি আসলেই শক্তি ক্ষয়কারী। সুতরাং অন্তত প্রতি ৩০ মিনিট পরপরই সামান্য বিরতি নিন। এতে আপনার মন অবসাদে আক্রান্ত হওয়া থেকে রেহাই পাবে। এই বিরতি হতে পারে- পাঁচ মিনিটের জন্য বাইরে খোলা বাতাসে হাঁটাহাঁটি এবং কিছু রোদের তাপ গ্রহণ করা। এতে আপনি পুনরায় নতুন করে গভীরভাবে কাজে মনোযোগ নিবদ্ধ করতে পারবেন।
৬. ঘন ঘন ইমেইল চেক করার অভ্যাস বাদ দিন
এটি একটি বড় সমস্যা। ঘন ঘন ইমেইল চেক করার অভ্যাস আপনার উৎপাদনশীলতা ধ্বংসের সবচেয়ে দ্রুততম এবং সহজ উপায়। দুপুরের খাবারের আগ পর্যন্ত ইমেইল চেক করার অভ্যাস ত্যাগ করার চেষ্টা করুন। সকাল বেলাতেই ছোটবড় সকল সমস্যা এবং ইমেইলে চেক করতে গিয়ে মনটাকে বিক্ষিপ্ত করে ফেলবেন না। তারচেয়ে বরং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় কাজের পেছনেই সকাল বেলার সময়টুকু ব্যয় করুন। এতে আপনি বেশি উৎপাদনশীল উপায়ে কাজ করতে পারবেন।
৭. হ্যাঁ, সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজটিই প্রথমে করুন
এতে দিনশেষে যদি কোনো কাজ পুরোপুরি নাও সম্পন্ন হয় তথাপি আপনার অনুভূতি হবে যে দিনটি যথেষ্ট উৎপাদনশীলই ছিল। দিনের শুরুতেই সবচেয়ে বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজটি দিয়ে অফিস শুরু করার পেছনে মস্তিষ্কঘটিত কোনো কারণ নেই। বরং সকালে বেলাতেই শক্তির মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকে। আর দুপুরের খাবার গ্রহণের আগে তা অটুট থাকে। সুতরাং বার্ষিক বাজেট প্রণয়ণের মতো কঠিন প্রকল্পের কাজটি সকাল বেলাতেই সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিন।
৮. কাজের ধরন বদল করুন
উচ্চ এবং নিম্ন মনোযোগের দরকার হয় এমন কাজগুলো পাল্টাপাল্টি করে করলে আপনার মস্তিষ্ক ভারী মনোযোগের ফলে যে ক্লান্তি সৃষ্টি হয় তা থেকে বিশ্রামের সুযোগ পাবে। প্রথমে একটি কঠিন কাজ দু্ই তিন ঘন্টা ধরে করার পর ৩০ মিনিটে শেষ করা সম্ভব এমন একটি সহজ কাজ করুন। এরপর পুনরায় কঠিন কাজটি করুন।
৯. দিনের জন্য তিনটি লক্ষ্য নির্ধারণ করুন
বিষয়টি একটু বেশি কৌশলপূর্ণ। কারণ আপনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই দিনের কাজগুলো নিয়ে একটি কর্মতালিকা তৈরি করে ফেলেন। কিন্তু এই তালিকায় এমন কিছুও রাখতে হবে যা আপনাকে বহুতরফে বা সার্বিকভাবে উন্নত করবে। আপনাকে একজন বস, একজন উদ্যোক্তা এবং বিশেষ খাতে সফল হিসেবে গড়ে তুলবে। সবচেয়ে সফল ব্যক্তিরা তাদের দিনটি শুরু করেন এমন কিছুর ওপর মনোযোগ নিবদ্ধ করে যা তাদেরকে আরো ভালো করবে। আপনিও খুঁজে বের করুন কীসে আপনাকে আরো বড় করে তুলবে, আপনাকে আরো বেশি শক্তি যোগাবে, বেশি সুখী করবে এবং একটি মহাকাব্যিক উৎপাদনশীল দিনের সুচনা ঘটাবে?
১০. পানি পান করুন
পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না খাওয়ার কারণে সহজেই দেহমনে ক্লান্তি এসে যায় এবং কাজের গতি কমে আসে। যথাযথ তরল ছাড়া মস্তিষ্কও শীর্ষ পারফর্মেন্স দেখাতে পারে না। সুতরাং কাজে মনোযোগ ধরে রাখার জন্য দিনের বেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য