kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ক্যারিয়ার সম্পর্কিত যে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হবে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২১



ক্যারিয়ার সম্পর্কিত যে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত আপনাকে নিতে হবে

আমাদের মধ্যে এমনটা ভাবার প্রবণতাই বেশি কাজ করে যে ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তটি হলো “আমি কোন খাতে কর্মে যোগদান করব?” এবং “আমার কি এই চাকরির প্রস্তাবটি গ্রহণ করা উচিৎ নাকি প্রত্যাখ্যান করব?”
এই ধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়টাতে আমরা বেশ মানসিক চাপে থাকি। আমাদের এমন অনুভূতি হয় যেন পুরো দুনিয়াটাই বুঝি আমাদের সামনে এসে বসে আছে। কোনো ভূল হয়ে যায় কিনা আমরা শুধু সেই ভয়েই থাকি।
আমাদেরকে হয় ডানে আর নয়তো বামে যেতে হবে। আর এ নিয়ে ভাবতে গিয়েও আমাদের ঘুম হারাম হয়ে যায়। অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে, জীবনের মোড় পরিবর্তনকারী এই মুহূর্তগুলো জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতার মুহূর্তও বটে।
ক্যারিয়ারের কোনো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় আপনার এই উপলব্ধি হয় যে, আপনাকে অবশ্যই আপনার মস্তিষ্ক, হৃদয় এবং ভেতর থেকে আসা প্রতিটি সঙ্কেত মনোযোগ দিয়ে শুনতে হবে। যাতে আপনি সঠিক সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে পারেন।
বিশেষ মুহূর্তে ক্যারিয়ার সম্পর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ইস্যুটি অনেক বড়। কিন্তু ক্যারিয়ার সম্পর্কিত তিনটি সিদ্ধান্তই সবচেয়ে মৌলিক এবং অনেক সুদূরপ্রসারি প্রভাব বিস্তারকারী। এই তিনটি সিদ্ধান্ত বিশেষ কোনো একটি মুহূর্তে গ্রহণ করার মতো নয়। বরং এই সিদ্ধান্তগুলো আপনাকে নিতে হবে জগত সম্পর্কে আপনার উপলব্ধি এবং নিজের সম্পর্কে আপনার বুঝ এবং উপলব্ধি বাড়ার পাশাপাশি।
আমরা প্রজ্ঞা অর্জন করি ফোঁটায় ফোঁটায়; বালতি ভরে নয়। দৃষ্টির অগোচরেই প্রজ্ঞা জমা হতে থাকে। এভাবে একদিন আমরা আবিষ্কার করি যে আমরা কোনো একটা কিছুর মর্ম উদ্ধার করে ফেলেছি। অথবা এমন কোনো কিছু সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি লাভ করেছি যা আগে আমাদেরকে মানসিকভাবে হয়রান করে রাখত।
ক্যারিয়ার সম্পর্কিত এই তিনটি সিদ্ধান্তই আপনার তৎপরতা সম্পর্কে উচ্চ পর্যায়ের তথ্য সরবরাহ করবে। এই তিনটি বিষয়ে ভাবতে গিয়ে আপনি যত বেশি সময় ব্যয় করবেন ততই আপনার মঙ্গল হবে!
আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে কী পেতে চান
আপনার কাছে যখন কোনো চাকরির প্রস্তাব আসবে তখন আপনাকে প্রথমেই যে বিষয়টি ভাবতে হবে তা হলো, “আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে আসলে কী পেতে চান?”
কেউ আপনাকে এ ব্যাপারে সঠিক পরামর্শটি দিতে পারবেন না যদি তারা না জানেন আপনি আসলে কী করতে চাইছেন। অনেক চাকরিই আছে যেগুলো বেতনের কারণেই অনেক বড় মনে হয়। সেসব চাকরি থেকে এর বেশি কিছু পাওয়া যায় না। আসলে সেসব চাকরি এর বেশি কিছু দেওয়ার প্রস্তাবের ভানও করে না।
অনেক চাকরি আছে বেতন বেশি দেওয়ার চেয়েও বেশি কিছু দেওয়ার প্রস্তাব করে। আপনার মেধা এবং আগ্রহের সঙ্গে এসব চাকরির সঙ্গতি রয়েছে। যে আগ্রহের কারণেই আপনি প্রতিদিন কাজে যেতেও সবচেয়ে বেশি আগ্রহ বোধ করেন। অনেক চাকরি আছে আবার এর মাঝামাঝি অবস্থানে। আপনাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে আসলে কী চান। আর আপনি নিজেই সে সিদ্ধান্তটি গ্রহণ করতে বাধ্য।
তবে আপনি ক্যারিয়ার থেকে কী পেতে চান সে ব্যাপারে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ না করাও একটি সিদ্ধান্ত। এরপর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার অভিজ্ঞতার ঝুলি ভারি হতে থাকলে আপনি আপনার ক্যারিয়ার থেকে শুধু বেতনেরও বেশি কিছু পেতে চাইবেন। আর আপনি তা পাওয়ার যোগ্যও হবেন বটে।
আপনার ক্যারিয়ার চালাবে কে
বেশিরভাগ কর্মজীবিই এ ব্যাপারে সচেতন নন যে তারা একটি কম্পানি চালাচ্ছেন। আর এই কম্পানিটি হলো তাদের নিজেদের ক্যারিয়ার বা কর্মজীবন।
এটি একটি বড় কাজ। আর যে কেউই সহজে এই কাজে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। আপনি হয়তো ভাবতে পারেন আপনার যেহেতু এখন একটি ভালো চাকরি আছে সুতরাং আপনাকে আর কর্মজীবন নিয়ে বাড়তি কোনো ভাবনায় সময় ব্যয় করার দরকার নেই। এটা ভুল ধারণা। এটা আপনার ব্যবসা আর আপনাকেই এর পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আপনিই আপনার জীবনের সিইও। আর যে কোনো ব্যবসার সিইও তার ব্যবসার ভবিষ্যত সম্পর্কে দূরদৃষ্টি রাখেন এবং স্পষ্ট পরিকল্পনা অবলম্বন করেন। আপনি নিজেই কি নিজের ক্যারিয়ারের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করতে পারবেন এবং নিজের জন্য একটি সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা তৈরি করে সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণে সক্ষম?
ভবিষ্যত জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে ভাবার সময় যে প্রশ্নগুলো দিয়ে শুরু করবেন:
১. পেশাগতভাবে আমি এখন যা করছি এর কোন বিষয়টি আমি ভালোবাসি।
২. আমি কীসে আরো ভালো করতে চাই?
৩. আমি কোন বিষয়ে আরো বেশি শিখতে চাই?
৪. এক বছর পরে আমার ক্যারিয়ারের কোন বিষয়ে আমি আরো উন্নতি করতে চাই।
৫. এক বছর পরে আমি আমার জীবনটাকে কেমন দেখতে চাই?
৬. দশ বছর পরে আমি আমার জীবন ও ক্যারিয়ারকে কেমন দেখতে চাই?
৭. যতটা খুশি ততটা প্রশস্ত এবং বিস্তৃত পরিপ্রেক্ষিতে ভাবলে আমি পেশাগতভাবে কী করব? আমি যদি নিজের কোনো সীমা না টানি তাহলে পেশাগত জীবনে আমি আসলে কী করব?
নিজের পথ অনুসরণ করবেন কিনা
অনেক কর্মজীবিই নিজেদের কাছ থেকে আর কোনো কিছুই প্রত্যাশা করেন না। কারণ ইতিমধ্যেই তারা অনেক নির্মমতা ও রুঢ়তা এবং অনায্যতার অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
ক্যারিয়ারের বর্বর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার ফলে যে কেউই তাদের নিজস্ব চাওয়া পাওয়া ত্যাগ করতে পারেন।
তবে এরপরও আপনার রয়েছে প্রচুর শেখার সম্ভাবনা। এরপরও আপনি অনেক কিছুই অর্জন করতে পারেন এবং বিশ্বের জন্য অবদান রাখতে পারেন। আপনার রয়েছে এক মেধাবী নিয়তি যেখানে আপনাকে পৌঁছাতে হবে। আর ওটাই আপনার পথ।
আপনাকে অবশ্য খেয়ে-পরে বেঁচে থাকতে হয়। কর্মজীবন থেকে সর্বনিম্ন প্রত্যাশা এটাই। কিন্তু এই দুটি উপাদান কী করে বিভক্ত হয়- বাস্তব জীবন যেখানে লোককে বিল দিতে হয় আর যে বিষয়ে আপনার আবেগগত টান রয়েছে। আর এই বিষয়টি খুঁজে বের করার মধ্যেই আনন্দদায়ক অংশটুকু নিহিত রয়েছে! এটি জীবনব্যাপী এক প্রক্রিয়া- নিজের পথে যাত্রা করা।
আপনি সময় অতিবাহিত করতেই থাকবেন। সময় কারো জন্য বসে থাকে না। সুতরাং নিজের পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য কেন আপনি সময়কে ব্যবহার করছেন না?
আপনি হয়তো বলতে পারেন, “আমি কোনো ভুল পথে হাঁটতে চাই না” আর এটাই আপনার সুবিধা। কিন্তু বাতাসে যে প্রশ্নটি উড়ে বেড়াচ্ছে তা হলো “চেষ্টা করে দেখতে ক্ষতি কী?”
কেউই আপনার ব্যর্থতায় হাসবে না। আর যারা হাসবে তারা নিশ্চয়ই আপনার বন্ধু নন। সুতরাং তারা যদি আপনাকে একলা ফেলে চলেও যান তাতেও আপনার কিছুই যায় আসে না। আপনি তাদের ছাড়াই অনেক ভালো থাকবেন।
আপনি নিজের মতো কোনো একটি সুদূরপ্রসারি পরিকল্পনা তৈরি করতে পারেন এবং বিষয়টি নিয়ে চুপ করে থাকুন। বিশ্বের অনেক মেধাবী উদ্ভাবক এবং শিল্পীই এমনটি করেছেন।
যে কোনো একটি মুহূর্তে ছোট্ট একটি পদক্ষেপই আপনি গ্রহণ করতে পারেন এবং এগিয়ে যেতে পারেন। তা হতে পারে এমনকি এখনই। আপনার স্বপ্নের জীবন এবং ক্যারিয়ার নিয়ে আপনি কী করতে চান তা নিয়ে ভাবতে আপনি সেই ছোট্ট পদক্ষেপটি গ্রহণ করতে পারেন। দ্বিতীয় পদক্ষেপটি হতে পারে আপনার স্বপ্ন নিয়ে লিখুন।
কিন্তু যখন আপনি নিজের ভবিষ্যত নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন তখন হয়তো আপনার ভেতর থেকে নেতিবাচক স্বর ভেসে আসবে এবং আপনাকে বলবে, “তুমি স্বপ্ন দেখার কে?” অথবা “যাও, স্বপ্ন দেখতে থাকো; কিন্তু কোনোদিনই তোমার স্বপ্ন পূরণ হবে না?” এমনটা ঘটলে আপনি পাল্টা বলে উঠুন, “আমাকে রণে ভঙ্গ দিতে দেখে তোমার কি কোনো যন্ত্রণা হচ্ছে না?” আপনি নিজেকে যতটা ক্ষমতাবান ভাবতে অভ্যস্ত বাস্তবে আপনি তার চেয়েও অনেক বেশি ক্ষমতাবান। আর আপনি দিনকে দিন আরো বেশি শক্তিশালি হচ্ছেন?
সূত্র: ফোবর্স


মন্তব্য