kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কঠোর মানসিক পরিশ্রমের পর কেন ক্ষুধা লাগে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:০৯



কঠোর মানসিক পরিশ্রমের পর কেন ক্ষুধা লাগে?

গভীর অধ্যায়নমূলক সেশনের পর যে তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হয় তা কি ট্রেডমিলে ১৫ মিনিটের ব্যায়ামের মাধ্যমে দমন করা সম্ভব? মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্স ইন স্পোর্টস অ্যান্ড এক্সারসাইজ জার্নালে প্রকাশিত নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, সংক্ষিপ্তকালীন কিন্তু শ্রমসাধ্য ব্যায়ামের মাধ্যমে কঠোর জ্ঞানগত বা মানসিক পরিশ্রমের ফলে যে তীব্র ক্ষুধা অনুভূত হয় তা দমন করা সম্ভব।

একটি স্প্রেডশিট পূরণ বা জটিল কোনো প্রতিবেদন তৈরি করার পর মস্তিষ্ক-ভাজা পনোৎসবের সঙ্গে আমাদের সকলেরই পরিচয় রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামের আলবামা বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্টডক্টরাল স্কলার উইলিয়াম নিউমেইয়ের ব্যাখ্যা করে বলেন, "মানসিক পরিশ্রমের ফলে মস্তিষ্কের জ্বালানি সম্পদের ক্ষয় হয়। আর তখনই মস্তিষ্ক নতুন করে জ্বালানির প্রয়োজনীয়তার কথা ক্ষুধার অনুভূতির মাধ্যমে জানান দেয়। এ সময় হাতের কাছেই খাদ্য পাওয়া গেলে মস্তিষ্ক তার সদ্ব্যবহার করে নিজের অতিরিক্ত জ্বালানি চাহিদা পূরণ করে। এর ফলে অতিরিক্ত খাবার গ্রহণ বা অতিভোজনের ঝুঁকিও তৈরি হয়। "

নেউমেইয়ের এবং তার সহকর্মীদের ধারণা, শারীরিক তৎপরতার মাধ্যমে এই ক্ষুধার অনুভূতি দমন করা সম্ভব। ড. নেউমেইয়ের বলেন, "ব্যায়াম, বিশেষ করে তীব্র শারীরিক পরিশ্রম হয় এমন ব্যায়ামের মাধ্যমে দেহের রক্তপ্রবাহে বিদ্যমান শক্তির প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব। এর ফলে সংক্ষিপ্ত মেয়াদের জন্য ক্ষুধার অনুভূতি অবদমিত হবে। "

গবেষকদের ধারণা, কঠোর জ্ঞানগত বা মানসিক পরিশ্রমের ফলে যে জ্বালানি ঘাটতি দেখা দেয় ব্যায়ামের মাধ্যমে উৎপন্ন শক্তির ব্যবহার করে মস্তিষ্ক সেই ঘাটতি মেটাতে পারে। ব্যায়ামের মাধ্যমে দেহে উৎপন্ন গ্লুকোজ এবং ল্যাকটেট ব্যবহার করে প্রাথমিকভাবে মস্তিষ্ক তার এই ঘাটতি মেটাতে সক্ষম। এর ফলে আর নতুন করে কোনো খাদ্যের চাহিদা অনুভূত হবে না।

এই তত্ত্বের সত্যতা যাচাই করার জন্য তারা ৩৮ জন স্বাস্থ্যবান কলেজ শিক্ষার্থীকে পিজ্জা খেতে দিয়ে একটি পরীক্ষা চালান। প্রথমে একদিন স্বাভাবিক অবস্থায় তাদেরকে পিজ্জা খেতে দিয়ে পরীক্ষা করা হয় তারা কী পরিমাণ শক্তি গ্রহণ করছেন।

অন্য একদিন, ওই ৩৮ শিক্ষার্থীকে ২০ মিনিট ধরে গণিত এবং রিডিং কম্প্রিহেনশন সমস্যার সমাধান করতে দেওয়া হয়, যাতে তাদের মস্তিষ্ক ক্লান্ত ও পরিশ্রান্ত হয়ে পড়ে। এরপর ওই শিক্ষার্থীদের একটি দল ১৫ মিনিট ধরে বিশ্রাম নেয়; আর অপর দলটি ট্রেডমিলে বিরতিকালীন প্রশিক্ষণ নেয়। পরে গবেষকরা, তাদেরকে দুপুরের খাবারের জন্য পিজ্জা খেতে দেন। এবং ওই শিক্ষার্থীরা কী পরিমাণ ক্যালরি গ্রহণ করছেন তার হিসেব রাখেন।

গবেষকদের প্রত্যাশা অনুযায়ীই গবেষণার ফলাফল আসে। সহকারী গবেষক অধ্যাপক ধুরান্দার বলেন, "মানসিক পরিশ্রমের পর যারা কোনো শারীরিক পরিশ্রম বা ব্যায়াম করেননি তারা ১০০ ক্যালরি বেশি খাদ্য গ্রহণ করেছেন। আর যারা মানসিক পরিশ্রমের পর ব্যায়াম করেছেন তারা স্বাভাবিক মাত্রায়ই খাদ্য গ্রহণ করেছন। "

তিনি আরো বলেন, "এই গবেষণা থেকে এটাই প্রমাণিত হয়, যারা মানসিক পরিশ্রমের পর অতিরিক্ত ক্ষুধা অনুভব করেন তাদের উচিত ব্যায়ামের মাধ্যমে তা কমিয়ে আনা। আর নয়ত অতিভোজনের ফলে তাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে। "
সূত্র : ফক্স ‍নিউজ


মন্তব্য