kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


“লাভ হরমোন” পুরুষের আধ্যাত্মিকতা বা পরমার্থিকতা বাড়ায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:৩৯



“লাভ হরমোন” পুরুষের আধ্যাত্মিকতা বা পরমার্থিকতা বাড়ায়

ভালোবাসার হরমোন হিসেবে পরিচিত অক্সিটোসিন হরমোন পুরুষদের মধ্যে পরমার্থিকতা বা আধ্যাত্মিকতা বাড়ায়। নতুন এক গবেষণায় এমনটিই প্রমাণিত হয়েছে।

এই হরমোনটি সামাজিক বন্ধন শক্তিশালি বা উৎসাহিত করনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপুর্ণ চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে যা আগেই জানা ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ওই গবেষণায় দেখা গেছে, অক্সিটোসিন হরমোন গ্রহণের অল্প সময় এবং এক সপ্তাহ পরে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী পুরুষদের পরমার্থিকতা বা আধ্যাত্মিকতা বেড়েছে।
গবেষণাটির নেতৃত্বে থাকা ডিউক বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক মনোচিকিৎসক প্যাটি ভ্যান ক্যাপেলেন বলেন, এছাড়া ধ্যান করার সময়ও তারা অনেক বেশি ইতিবাচক আবেগগত অভিজ্ঞতা লাভ করেছেন।
ভ্যান ক্যাপেলেন বলেন, “এর আগের গবেষণায় দেখা গেছে, পরমার্থিকতা এবং ধ্যান সুস্বাস্থ্য এবং মেজাজ-মর্জি ভালো রাখার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। এবার আমরা পরমার্থিক বা আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতা শক্তিশালি বা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালনকারী জৈবিক উপাদানগুলো কী তা বুঝার চেষ্টা করছি। ”
“পরমার্থিকতা জটিল একটি বিষয়। এর পেছনে নানা উপাদান সক্রিয় থাকে। তথাপি অক্সিটোসিন হরমোন জগতকে আমরা কীভাবে উপলব্ধি করি এবং আমরা কী বিশ্বাস করি তার ওপরও প্রভাব ফেলে। ”
ওই গবেষণায় শুধু পুরুষরাই অংশগ্রহণ করেছেন। আর এর ফলাফলও শুধু পুরুষদের বেলায়ই প্রযোজ্য।
সাধারণত, নারী ও পুরুষদের মাঝে অক্সিটোসিন একটু ভিন্নভাবেই কাজ করে। নারীদের ওপর অক্সিটোসিন কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে এখনো কোনো গবেষণা হয়নি।
প্রাকৃতিকভাবেই মানবদেহে অক্সিটোসিন উৎপন্ন হয়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস থেকে উৎপন্ন হয়ে একটি হরমোন এবং নিউরোট্রান্সমিটার হিসেবে কাজ করে এটি। এছাড়া এটি মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশকে প্রভবিত করে।
দৈহিক মিলন, সন্তান প্রসব এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই হরমোন সবচেয়ে বেশি নিঃসরিত হয়। সাম্প্রতিক গবেষণায় সহানুভূতি ও সহমর্মিতা, আস্থা, সামাজিক বন্ধন এবং পরপোকারিতার ক্ষেত্রে অক্সিটোসিন উচ্চ ভুমিকা পালন করে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের একদলের দেহে অক্সিটোসিন হরমোন আর আরেক দলের দেহে মন খারাপ করার ওষুধ প্রয়োগ করা হয়।
অক্সিটোসিন গ্রহণকারীরা জানান, তাদের জীবনে পরমার্থিকতা বা আধ্যাত্মিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর মানবজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্থ এবং উদ্দেশ্যও আছে।
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের যারা অক্সিটোসিন নিয়েছেন, তারা নিজেদেরকে অন্যদের সঙ্গে যুক্ত বা এক করে দেখতে এবং প্রাণবন্ত জিনিস হিসেবে দেখতেই বেশি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। “জগতের সকল প্রাণই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত” এবং “আত্মসচেতনতা বা পরমার্থিকতার এমন একটি সর্বোচ্চ পর্যায় রয়েছে যা সকল মানুষকে একক বন্ধনে আবদ্ধ করে। ” ওই গবেষণায় অংশগ্রহণকারীরা একটি দিক নির্দেশিত ধ্যান প্রক্রিয়ায়ও অংশগ্রহণ করেন।
যারা অক্সিটোসিন গ্রহণ করেছেন ধ্যানের সময় তারা অনেক বেশি ইতিবাচক আবেগগত অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা বলেছেন। এই অভিজ্ঞতার মধ্যে রয়েছে, সম্ভ্রম, কৃতজ্ঞতাবোধ, আশা, অনুপ্রেরণা, আন্তরিকতা, ভালোবাসা এবং নির্মল প্র্রশান্তি।
তবে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী সকলকেই অক্সিটোসিন হরমোন সমানভাবে প্রভাবিত করেনি। যেসব লোকের দেহে সিডি৩৮ জিন আছে তাদের মধ্যেই শুধু অক্সিটোসিন পরমার্থিকতার বোধ বাড়িয়েছে বা আরো বেশি শক্তিশালি করেছে। এই জিনটি মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামিক নিউরন থেকে অক্সিটোসিন হরমোন নিঃসরণ প্রক্রিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করে।
তবে ভ্যান ক্যাপেলেন সতর্ক করেছেন, ওই গবেষণার ফলাফলকে যেন অতি সাধারণীকৃত করে দেখা না হয়। কারণ পরমার্থিকতা বা আধ্যাত্মিকতার আবার বহু ভিন্ন ভিন্ন অর্থ বা সংজ্ঞা আছে।
সোশ্যাল কগনিটিভ অ্যান্ড অ্যাফেকটিভ নিউরোসায়েন্স নামের জার্নালে ওই গবেষণার ফলাফল সম্বলিত প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে।
সুত্র: এনডিটিভি


মন্তব্য