kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা কখনোই যে ১০ কাজ করেন না

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:৪০



মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা কখনোই যে ১০ কাজ করেন না

অপ্রত্যাশিতভাবেই জীবন প্রায়ই আপনার মানসিক শক্তির পরীক্ষা নেবে। আপনি যা করেন সবসময় তার মধ্যেই আপনার মানসিক শক্তির চিহ্ন বিরাজ করে না।

বরং আপনি যা করেন না এবং কখনোই করবেন না তার মধ্য দিয়েই আপনার মানসিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ ঘটে। চ্যালেঞ্জ যত বড় হয় সহিষ্ণুতাপূর্ণ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করাও ততই কঠিন হয়।
যখন কোনো কিছুতে আটকে গেছেন বলে অনুভূতি হবে তখন আসলে মানসিকভাবে শক্ত হওয়াটা একটু কঠিনই বটে। পুরোনো ছাঁচ ভেঙ্গে নিজেকে নতুন কোনো সাহসী অভিমুখে পরিচালনা করার জন্য বাড়তি মনের জোর, স্পর্ধা, এবং তেজের দরকার হয়। যা একমাত্র মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকদের মধ্যেই থাকে।
থমাস এডিসন এক্ষেত্রে একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারেন। ১৯১৪ সালে তার কারখানাটি যখন পুড়ে ছাই হয়ে মাটিতে মিশে যায় তাতে তার ২৩ মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হয়। প্রতিক্রিয়ায় থমাস বলেছিলেন:
“ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, আমাদের ভুলগুলো সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এবার আমরা পুনরায় নতুন করে ঠিকঠাকমতো শুরু করতে পারব। ”
এডিসন নিজেকে ভেঙ্গে পড়তে দেননি। বরং তার প্রতিক্রিয়া থেকে তার মানিসক শক্তির পরিচয়ই পাওয়া যায়। একবার ব্যর্থ হওয়ার ফলে ভেঙ্গে না পড়ে বরং তিনি নতুন সুযোগের সন্ধান করছেন এবং নতুন করে সক্রিয় হচ্ছেন।
আপনিও আপনার মানসিক শক্তির উন্নয়ন ঘটাতে পারেন মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা কখনোই যে ১০টি কাজ করেন না তা জানার মাধ্যমে:
১. তারা কখনোই ভুলের রাজ্যে বাস করেন না
মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা জানেন তিনি যেখানে মনোযোগ নিবদ্ধ করেন তা তার আবেগগত অবস্থা নির্ধারণ করে দেয়। যখন আপনি কোনো সমস্যার মুখোমুখি হয়ে সেখানেই আটকে থাকবেন তখন আপনি আসলে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক অনুভুতি এবং অবসাদ সৃষ্টি করছেন। যা আপনার পারফর্মেন্সেও ব্যাঘাত ঘটাবে।
মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা নিজেদেরকে তাদের ভুলগুলো থেকে দূরে সরিয়ে রাখেন। তবে তারা তাদের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে নতুন করে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে থাকেন।
২. তারা কখনো নেতিবাচক লোকদের আশেপাশে ঘোরাঘুরি করেন না
নেতিবাচক লোকেরা সবসময়ই খারাপ সংবাদ বহন করেন। কারণ তারা শুধু তাদের সমস্যাগুলোর মধ্যেই খাবি খান এবং কোনো সমাধান বের করতে পারেন না। তারা চান অন্যরাও তাদের দুঃখের ভাগিদার হোক যাতে নিজেদের সম্পর্কে তাদের ভালো অনুভুতি হয়। লোকে প্রায়ই নেতিবাচক লোকদের কথা শুনতে বাধ্য হন। কারণ তারা সমাজে নিজেদেরকে অনুভূতিহীন বা নিষ্ঠুর হিসেবে পরিচিত করাতে চাননা। কিন্তু কারো দুঃখ-দুর্দশার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা আর তার নেতিবাচক আবেগের বেড়াজালে আটকে পড়া এক কথা নয়।
আবেগতভাবে বুদ্ধিমান লোকেরা সীমা নির্ধারণের মাধ্যমে এ ধরনের বেড়াজালে আটকে পড়া থেকে নিজেকে রক্ষা করেন। আর যখনই দরকার হয় তখনই নেতিবাচক লোকদের কাছ থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নেন।
৩. তারা নিজেদের ওপর আস্থা হারান না
মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা অধ্যাবসায়ী হন। তারা কোনো কিছুতে ব্যর্থ হলেও উদ্যম হারান না। আর ক্লান্তি বা অস্বস্তিতে আক্রান্ত হওয়ার পরও তারা মনোবল হারান না। তারা নিজেদের চুড়ান্ত লক্ষ্যে সবসময়ই অবিচল থাকেন, সাময়িক কোনো অনুভূতি দ্বারা তাড়িত হন না। ফলে কঠোর পরিস্থিতিতেও তাদের অগ্রগতি অব্যাহত থাকে। একবার ব্যর্থ হলেই তারা নিজেদেরকে ব্যর্থ ভাবেন না। একইভাবে অন্যরা কী ভাববে সে ভয়েও তারা কখনো নিজেদের স্বপ্নের পেছনে দৌড়ানো বন্ধ করেন না। যখন কেউ তাদেরকে বলে, “আপনি কখনোই এটা করতে সক্ষম হবেন না,” তখন তারা এই মন্তব্যকে একান্তই সে ব্যক্তির নিজস্ব মতামত হিসেবে গণ্য করেন।
৪. কাউকে ক্ষমা করে দেওয়ার জন্য তারা কৈফিয়ৎ চান না মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা জানেন অসন্তোষ এড়িয়ে চললে এবং কেউ ক্ষমাপ্রার্থনা করার আগেই তাকে মাফ করে দিলে জীবনে পথচলা অনেক সহজ হয়ে আসে। অসন্তোষ জমা করে রাখলে অতীত জীবনের কোনো নেতিবাচক ঘটনা আপনার আজকের সুখ শান্তি বিনষ্ট করবে। ঘৃণা এবং রাগ হলো আবেগগত পরজীবি যারা জীবনের আনন্দ ধ্বংস করে।
অসন্তোষ জমা করে রাখার ফলে যে নেতিবাচক আবেগের সৃষ্টি হয় তা দেহে অবসাদমূলক চাপ সৃষ্টি করে। যা শারীরিক ও মানসিক উভয়দিক থেকেই ভয়াবহ পরিণতি বয়ে আনতে পারে। আপনি যখন কাউকে ক্ষমা করে দেবেন এতে তাদের অপকর্মের স্বীকৃতি দেওয়া হয় না। বরং এর মাধ্যমে আপনি নিজে তাদের চিরকালের বা অনন্ত শিকারে পরিণত হওয়া থেকে রেহাই পাবেন।
৫. তারা নিজেদের জন্য দুঃখবোধ করেন না
নিজের জন্য দুঃখবোধ করলে আপনি নিজের ওপর আত্মনিয়ন্ত্রণ হারাবেন। নিজের জন্য দুঃখবোধ করার প্রকৃত অর্থ হলো আপনি নিজেকে পরিস্থিতির অসহায় শিকার হিসেবে ঘোষণা করছেন। মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা কখনোই নিজেদের জন্য দুঃখবোধ করেন না। কারণ এর অর্থ হলো নিজের ক্ষমতা ত্যাগ করা।
৬. তারা অসন্তোষ পুষে রাখেন না
অসন্তোষ পুষে রাখার ফলে যে নেতিবাচক আবেগ সৃষ্টি হয় তা দেহের ওপর মারাত্মক অবসাদমূলক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। এতে দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে। এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা গবেষণা করে দেখিয়েছেন, অসন্তোষ পুষে রাখার ফলে দেহের ওপর যে চাপ তৈরি হয় তার পরিণতিতে উচ্চ রক্তচাপ এবং হৃদরোগের মতো সমস্যা তৈরি হয়। অসন্তোষ পুষে রাখার মানে হলো আপনি ক্রমাগত নিজেকে চাপের মধ্যেও রাখছেন। আর মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা যে কোনো মূল্যে তা এড়িয়ে চলেন।
৭. অন্য কাউকে তারা নিজেদের আনন্দ নষ্ট করতে দেন না…
যখন আপনি অন্যের সঙ্গে তুলনা করে নিজের জন্য আনন্দ ও সন্তুষ্টি অর্জন করতে চাইবেন তখন বুঝতে হবে আপনি নিজে আর নিজের সুখের স্রষ্টা নন। মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা যখন কোনো কাজ করে শান্তি পান, অন্য কারো মতামত বা সাফল্যে তারা সে শান্তি নষ্ট হতে দেন না। মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা জানেন কোনো বিশেষ মুহূর্তে লোকে তাদের ব্যাপারে কী ভাবলো বা না ভাবলো তাতে তাদের কিছুই যায় আসে না। একটি বিষয়ে তারা নিশ্চিত থাকেন- লোকে তাদেরকে যতটা খারাপ বা ভালোই বলুক না কেন তারা আসলে ততটা ভালো বা ততটা খারাপ নন।
৮. তারা নিজেরাও কখনো অন্যদের আনন্দ নষ্ট করেন না
মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা অন্যদের বিষয়ে কখনো চুড়ান্ত দেন না। কারণ তারা জানেন সকলের মধ্যেই কিছু না কিছু অজানা বা নতুন সম্ভাবনা থাকে। আর তারা কখনো অন্যকে ছোট করে নিজের ব্যাপারে ভালো অনুভূতি পেতে চান না। অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করার মাধ্যমে আসলে নিজের সম্ভাবনাগুলোকেই সীমাবদ্ধ করে ফেলা হয়।
হিংসা এবং অসন্তোষ মানুষের জীবনি শক্তি নষ্ট করে। হিংসা করে নিজের শক্তির অপচয় না করে বরং অন্যদের মূল্যায়নে তা ব্যয় করুন। আপনি যখন অন্য কারো সাফল্য উদযাপন করবেন তখন আপনারা দুজনেই উপকৃত হবেন।
৯. তারা কখনো আলস্য প্রদর্শন করেন না
ইস্টার্ন অন্টারিও রিসার্চ ইনস্টিটিউটে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতি সপ্তাহে অন্তত দু’বার করে টানা ১০ সপ্তাহব্যাপী ব্যায়াম করেছেন তারা নিজেদেরকে সামাজিক, বু্দ্ধিবৃত্তিক এবং ক্রীড়াগত দিক থেকে অনেক বেশি যোগ্য হিসেবে অনুভব করেন। তারা নিজেদের দৈহিক চিত্র এবং আত্ম-সম্মানবোধের ব্যাপারেও উচ্চ মূল্যায়ন করেন।
১০. তারা কখনো নেতিবাচক হন না
আপনি যখনই সংবাদ দেখবেন তখনই শুধু বিরামহীন যুদ্ধ, সহিংস হামলা, ভঙ্গুর অর্থনীতি, ব্যর্থ কম্পানি আর পরিবেশগত বিপর্যয় দেখতে পাবেন। ফলে এটা ভাবাটাই সহজ যে দুনিয়াটা বুঝি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কে জানে? হয়তো তাই ঘটছে। কিন্তু মানসিকভাবে শক্তিশালি লোকেরা এসব নিয়ে মাথা ঘামান না। কারণ নিজেরা ব্যক্তিগতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন না এমন বিষয় নিয়ে তারা পড়ে থাকতে চান না। তারা রাতারাতি কোনো বিপ্লবী পরিবর্তন সাধনের চিন্তা করেন না। বরং নিজেদের সাধ্যের মধ্যে থাকা দুটি বিষয়ে তারা নিজেদের শক্তি ব্যয় করেন- মনোযোগ এবং প্রচেষ্টা।
সূত্র: ফোবর্স


মন্তব্য