kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আমার স্বামী আমাকে তার ফোনটি ছুঁতেও দেন না!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:১১



আমার স্বামী আমাকে তার ফোনটি ছুঁতেও দেন না!

প্রশ্ন: আমি ৪০ বছর বয়সী একজন নারী। মুম্বাইয়ের বাসিন্দা।

গত ১০ বছর ধরেই আমি যুক্তিসঙ্গতভাবেই সুখি বিবাহিত জীবন যাপন করছি। আমার স্বামী জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পুরণের জন্য প্রয়োজনীয় সবই আমাকে সরবরাহ করেন। কিন্তু একমাত্র সামান্য ত্রুটিটুকু হলো আমাদের জীবনে কোনো স্বচ্ছতা নেই। আমি তাকে আমার জীবনের প্রতিটি দিনের ঘটনাপ্রবাহ বিস্তারিতভাবে জানাই। কিন্তু তিনি আমার ও তার ব্যক্তিগত জীবনের মাঝখানে একটি কঠিন দেয়াল তৈরি করে রেখেছেন। যেখানে আমার কোনো প্রবেশাধিকার নেই।
যখনই আমি তার ভেতরে ঢোকার কোনো চেষ্টা করি তখনই পরবর্তী কয়েকদিনের জন্য মেজাজ খারাপ করে রাখেন। আমি তার মোবাইল ফোন ছুঁতেও পারি না। আর আমি যদি তার হোয়াটস অ্যাপ অ্যাকাউন্ট চেক করতে যাই তখন যেন পুরো জাহান্নাম ভেঙ্গে নেমে আসে। আমি এমনকি তাকে তিনি সারাদিন কোথায় ছিলেন তাও জিজ্ঞেস করতে পারি না। আমাদের কথপোকথন শুধু সাধারণ যোগাযোগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কোনো হাসি-তামাশা নেই, কোনো সুখ-দুঃখ ভাগাভাগি নেই।
তিনি অনুভব করেন তিনি যেহেতু আমাকে জীবনের মৌলিক চাহিদাগুলো পুরণের জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছু সরবরাহ করে যাচ্ছেন সেহেতু আমি আমার সীমা অতিক্রম করতে পারব না। সৌভাগ্যক্রমে আমি একজন কর্মজীবি পেশাদার মানুষ। আর আমার কাজ আমাকে মানসিকভাবে সুস্থ থাকতে সহায়তা করছে। আমি সেসব যুগলকে দেখে বিস্মিত হই যারা নিজেদের মাঝে সবকিছু ভাগাভাগি করেন। এই সম্পর্কে আটকে থেকে আমি হাঁপিয়ে উঠেছি। আমাকে শুধু আমার ঘরের কাজের জন্যই স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। আর এর বেশি কিছু বলা বা জিজ্ঞেস করার কোনো অনুমোদন নেই আমার।
আমি কী তার এই স্বভাবকে তার একটি স্থায়ী স্বভাব হিসেবেই মেনে নেব নাকি তার সঙ্গে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসব। কারণ আমার অনুভুতি হচ্ছে যে, নিজেকে আমি অন্যের দ্বারা ব্যবহৃত হতে দিচ্ছি।

উত্তর দিচ্ছেন শিবানি মিশ্র সাধু
আপনার জিজ্ঞাসায় আপনি একটি বিষয় পরিষ্কার করেননি। আপনি যখন বলেছেন, আপনি আপনার নিয়মিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আপনার স্বামীকে জানান কিন্তু তখন আপনার স্বামী কী প্রতিক্রিয়া দেখান সে ব্যাপারে আপনি কিছুই জানাননি।
দয়া করে বাস্তবতাটা বুঝতে চেষ্টা করুন। নিজের সম্পর্কে বলার চেয়ে অন্যের কথা শুনতে অনেক বেশি ধৈর্যের দরকার হয়। কোনো দম্পতির সদস্যরা যখন পরস্পরের সঙ্গে প্রতিদিনের ঘরকন্যার কাজ ভাগাভাগি করেন তখন তারা তাদের মানসিক চাপ থেকে মুক্তির একটা সুযোগ পান। কিন্তু প্রথম থেকেই যদি এটি একটি একতরফা বিষয় হয়ে দাঁড়ায় তাহলে এমনও হতে পারে, আপনার স্বামীর মনে হয়তো এই বিশ্বাস জন্মেছে, আপনি তার নিজের মধ্যকার না বলা মানসিক চাপ এবং পীড়নের ব্যাপারে ওয়াকিবহাল নন।
অথবা আরেকটি সম্ভাবনাও থাকতে পারে। আপনার স্বামী হয়তো অ্যালেক্সিথমিয়া রোগে আক্রান্ত। অ্যালেক্সিথমিয়া এমন একটি বৈশিষ্ট সম্পন্ন ব্যক্তিত্ব যা নিজের আবেগ শনাক্ত করতে এবং নিজের আবেগের বিবরণ দিতে অক্ষম।
অ্যালেক্সিথমিয়ার মূল বৈশিষ্ট হলো, আবেগগত সচেতনতা, সামাজিক সংশ্লিষ্টতা এবং আন্তঃব্যক্তিগত যোগাযোগে অকার্যকারিতা। সাধারণ জনসংখ্যার ১০% অ্যালেক্সিথমিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এবং ব্যক্তি বিশেষে এ রোগের তীব্রতার মাত্রাও বিভিন্ন হয়ে থাকে।
অথবা এমনও হতে পারে যে কোনো কারণে হয়তো তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন কিন্তু তা তিনি কারো কাছে প্রকাশ করতে পারছেন না। আর এ কারণেই হয়তো তিনি আপনাকে তার ফোন ধরতে দেন না বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অ্যাকাউন্টও চেক করতে দেন না।
আমার বিশ্বাস সমস্যাটি হয়তো এমন এক জায়গায় পৌঁছেছে যে, এটি আপনার বিবাহিত এবং ব্যক্তিগত জীবনের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। আর এতে আপনার আত্মবিশ্বাসেও ঘাটতি দেখা দিতে শুরু করেছে। সুতরাং আমার পরামর্শ হলো, আপনারা দুজনেই কোনো মনোচিকিৎসকের কাছে যান বা কোনো বিয়ে বিষয়ক পরামর্শকের কাছে যান যিনি হয়তো আপনাকে পরামর্শ বা থেরাপি দিয়ে সহায়তা করতে পারবেন। আশা করি এতে আপনার ভালোই উপকার হবে।
শিবানি মিশ্রি সাধু একজন সম্পর্ক ও বিয়ে বিষয়ক পরামর্শক


মন্তব্য