kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


৫০ চাকরির আবেদনেও সাড়া পেলাম না, চাকরিদাতারা এত নিষ্ঠুর কেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:০১



৫০ চাকরির আবেদনেও সাড়া পেলাম না, চাকরিদাতারা এত নিষ্ঠুর কেন?

এক যুবক ৫০টি প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আবেদন করেছে। এর পরেও তার কোনো চাকরি জোটেনি।

এমনকি তার আবেদনপত্র পেয়েছে, এমনকি তাদের অধিকাংশের কাছ থেকে কোনো নিশ্চয়তাও পায়নি যে তারা আবেদনপত্রটি পেয়েছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস।
সম্প্রতি এক চিঠিতে চাকরির আবেদন বিষয়ে নিজের হতাশার কথা জানান সে যুবক। তিনি লিখেছেন, ‘তারা চাকরির জন্য আবেদন আহ্বান করেছে এবং আমি তাদের সে আবেদনে সাড়া দিয়েছি। এভাবে আমি ৫০টিরও বেশি চাকরির আবেদন করেছি গত জুনে চাকরিটি হারানোর পর থেকে। তবে এর পরেও আমি কোনো সাড়া পাইনি। চাকরিদাতারা এত নিষ্ঠুর কেন? তারা নিশ্চয়ই তাদের কাস্টমারদের সঙ্গে এভাবে ব্যবহার করে না, যা তারা চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে করে?”
এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন লিজ রায়ান। তিনি লিখেছেন, ‘আপনি ঠিকই বলেছেন। যে কোনো প্রতিষ্ঠানই চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে এমন ব্যবহার করে যেন তাদের চাকরিপ্রার্থীরা ব্যবসার বাইরের বিষয়। যদিও এটি খুবই দুঃখজনক।
চাকরির জন্য আবেদনপত্র গ্রহণের প্রক্রিয়াটি ভেঙে গিয়েছে। বহু বছর ধরেই এটি বাতিল হয়ে গিয়েছে। আবেদনকারীদের সঠিকভাবে বাছাই করার জন্য অ্যাপ্লিক্যঅন্ট ট্র্যাকিং সিস্টেম প্রযুক্তি ৯০ কিংবা ৮০ দশকেই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। আমরা আমাদের গ্রাহকদের বলতে পারি না যে, ব্যবসা করার জন্য ফর্ম ফিলাপ কর।
আমরা কেন চাকরিপ্রার্থীদের জোরপূর্বক অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করতে বলি? তাদের সবারই রয়েছে জীবন বৃত্তান্ত। অধিকাংশেরই লিংকডইন প্রোফাইল রয়েছে। রিক্রুটিং ও হিউম্যান রিসোর্স কর্মকর্তারা এ কাজটি করতে পারেন।
তবে এ সমস্যাটির মূল রয়েছে প্রতিষ্ঠানের সাংস্কৃতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে। হিউম্যান রিসোর্সের কর্মকর্তারা এ কাজটি সহজভাবে করার যোগ্য নন। তাদের সে ক্ষমতা নেই। তারা তাদের বসকে শুধু আইডিয়া দিতে পারেন যে, কিভাবে আরও মানবিকভাবে রিক্রুটমেন্ট করা যায়।
উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যতক্ষণ এ বিষয়টি উপলব্ধি করতে না পারবে ততক্ষণ কোনো পরিবর্তন হবে না। তারা যতক্ষণ এ কাজে সত্যিকার আগ্রহী হবে না, ততক্ষণ কিছুই হবে না।
তারা যখন দেখতে পাবেন ৫০ শতাংশ চাকরিপ্রার্থী, যারা ওয়েবসাইট থেকে চলে যাচ্ছে ঝামেলাপূর্ণ ফর্ম দেখতে পেয়ে তখন তারা বিষয়টি অনুসন্ধান করবে।
এক্ষেত্রে সমাধানও এটি। আপনি যখন অনলাইনে চাকরির আবেদন করে সময় নষ্ট করা বাদ দেবেন এবং সরাসরি হায়ারিং ম্যানেজারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আবেদনপত্র পাঠাবেন তখন বড় পার্থক্য দেখতে পাবেন। কিছু ম্যানেজারেরা আপনার এ যন্ত্রণাকে উপলব্ধি করতে পারবে। কিছু ম্যানেজারের কাছে অবশ্য আপনি পৌঁছাতেই পারবেন না। পথেই আপনার সেসব আবেদন হারিয়ে যেতে পারে। ’


মন্তব্য