kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কর্মক্ষেত্রে আপনি কি ফিট?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:২১



কর্মক্ষেত্রে আপনি কি ফিট?

মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল গোলম্যানের মতে, কর্মক্ষেত্রে চরম পারফরমেন্সের জন্য কৌশলগত ও বিশ্লেষণী দক্ষতার চেয়ে আবেগগত বুদ্ধিমত্তা দ্বিগুণ ভূমিকা রাখে। প্রাতিষ্ঠানিক পদের যত ওপরে ওঠে মানুষ, তার আবেগগত বুদ্ধিমত্তা তত বেশি জটিল হতে থাকে।

একটা সময় ছিল যখন মানুষ নিজের পছন্দমতো কাজ বাছাই করে নিতে পারতো। কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে। কর্মীদের পছন্দের কাজ বাছাইয়ের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি কাজ শেষ করার সময়ও কমিয়ে আনা হয়েছে। এর সঙ্গে চাকরিতে নিরাপত্তা হ্রাস পেয়েছে।

এই অবস্থা স্বাস্থ্যের জন্য ব্যাপক হুমকি হয়ে উঠেছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের দৈহিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি মাথায় রেখে কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে। তারা কর্মীদের ভালো থাকার বিষয়ে তদারকি করে।

স্টেপাথলনের সিইও এবং সহ-প্রতিষ্ঠাতা রবি কৃষ্ণানের মতে, কর্মক্ষেত্রের এই পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব ও জীবনযাপনের সঙ্গে ফিট হতে মানসিকতা তৈরি করতে হবে। ভারত ও আশপাশের দেশগুলোর ইতিহাস বলছে, এ দেশগুলোর প্রতিষ্ঠান কর্মীদের অসুস্থতা বিবেচনায় আনে। কিন্তু ভালো ও সুস্থ থাকার বিষয়টি মাথায় আনে না। কিন্তু উন্নত দেশগুলোতে পরের বিষয় নিয়ে কাজ করছে আরো দুই যুগ আগে থেকে।

কর্মীদের দৈহিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার বিষয়টি নীতিমালায় আনার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানগুলোকে সকলের আস্থাভাজন হওয়া উচিত। উন্নত দেশগুলো এর প্রয়োজনীয়তা অনেক আগেই বুঝে ফেলেছে। এ বিষয়টি কর্মীদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির জন্য জরুরি। সুইডেন কর্মদিবস ৫-৬ ঘণ্টার মধ্যে রেখেছে। এতে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা অনেক বেড়ে গেছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোতেও এমন পদক্ষেপ নেওয়া দরকার।

জীবনযাপনে নানা বদভ্যাসও তাদের উৎপাদনশীলতা কমিয়ে দেয়। অ্যালকোহল, সিগারেট এবং অন্যান্য বাজে অভ্যাসে স্বাস্থ্যহানি ঘটে। এগুলো ত্যাগ করতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। কাজের ফাঁকে একটু হাঁটাহাঁটি করতে হবে। এতে কর্মক্ষেত্রের চাপ কর্মীদের উৎপাদনশীলতা কমাতে পারবে না।

তাই ভালো অভ্যাস গড়ে তোলাই একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত। জ্ঞান, দক্ষতা ও তাগিদের সমন্বয়ে সুঅভ্যাসগুলো গড়ে তোলা সম্ভব। লক্ষ্য হাসিলে বিভিন্ন উপায় খুঁজে বের করতে হবে। পেশাজীবনে ফিট থাকতে উদ্দীপনা ধরে রাখতে হবে। কাজটা সহজ নয়। কারণ সাইকোথেরাপিস্ট আলফ্রেড অ্যাডলার বলেছেন, মানুষের জন্য সবচেয়ে কঠিন কাজটি হলো নিজেকে বোঝা এবং বদলে ফেলা।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া

 


মন্তব্য