kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খুনি বাবাকে মেয়ের নিরাপদ ঠিকানা দিয়েছেন আইনজীবি!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৭:৪৬



খুনি বাবাকে মেয়ের নিরাপদ ঠিকানা দিয়েছেন আইনজীবি!

সাত বছর বয়সী এক মেয়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থলের ঠিকানা ভুল করে মেয়েটির খুনি বাবাকে সরবরাহ করেছিল মেয়েটির মায়ের আইনজীবি। আর এতেই খুন হয় মেয়েটি।

ব্রিটেনের একটি মামলার গুরুতর এক পর্যালোচনা থেকে এমনটাই বেরিয়ে এসেছে।
ম্যারি শিপস্টোন নামের মেয়েটি বিদ্যালয় থেকে তার মায়ের সঙ্গে ঘরে ফিরছিল। আর ঠিক ঘরের দরজায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই তারা বাবা ইয়াসের অ্যালরোমিসে তার মাথায় গুলি করেন। এরপর ওই বাবা আত্মহত্যার জন্য নিজেকেও গুলি করেন।
চাঞ্চল্যকর ওই মামলার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে, পাঁচ মাস আগে লিন্ডসে শিপস্টোন তার মেয়েকে নিয়ে সহিংসতা ও গৃহনির্যাতন থেকে রেহাই পেতে স্বামীর বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। কিন্তু তার আইনজীবি মামলার কাগজে থাকা তাদের নতুন ঠিকানা অসাবধানতাবশত তার স্বামীকে সরবরাহ করেন।
এছাড়া একটি ব্যাংক এবং শিশু সহায়তা সংস্থা থেকেও তাদের এর আগের ঠিকানা বা পরিচিতি খুনি বাবা অ্যালরোমিসোর (৪৬) কাছে সরবরাহ করা হয় বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
তবে গুরুতর ওই মামলার পর্যালোচনা শেষে উপসংহারে বলা হয়, মেয়েটি এবং তার মায়ের ঠিকানা সরবরাহের সময় কেউই আসলে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি অনুমান করতে পারেননি। ২০১৪ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ইংল্যান্ডের পূর্ব সাসেক্সের রাইয়ের কাছে নর্থিয়ামে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পর্যালোচনা শেষে বলা হয়, আইনজীবি বা কোনো সংস্থার কাছ থেকে ঠিকানা পাওয়ার ফলেই ওই খুনি বাবা তার মেয়ের নিরাপদ আশ্রয়স্থল শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
কারণ মেয়েকে হত্যার আগে ওই খুনি বাবা আরো নানা উপায়ে তাদের প্রকৃত অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা চালান। তদন্তে দেখা গেছে, অ্যালরোমিসে তার স্ত্রী ও মেয়ের অবস্থান শনাক্তের জন্য বিভিন্ন ধরনের গোপন এবং বেআইনী তৎপরতা চালান।
মামলার পর্যালোচনায় আরো বেরিয়ে এসেছে, সামাজিক গণমাধ্যম এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনের ফলে সহিংসতা থেকে লোকের পালিয়ে বাঁচাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। কারণ এসব প্রযুক্তির ফলে অসহায় লোকদের পক্ষে নিজেদের অবস্থান গোপন রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
গুরুতর ওই মামলার পর্যালোচনা শেষে, সংস্থাগুলোকে অসহায় লোকদের অবস্থান সম্পর্কিত তথ্য গোপন রাখার জন্য শক্তিশালি পদ্ধতি প্রতিষ্ঠার আহবান জানানো হয়।
তবে ওই পর্যালোচনায় এও বলা হয় ওই পরিবারের সঙ্গে কাজ করা কোনো পেশাদার সংস্থার পক্ষেই আসলে ওই বাবাকে তার মেয়ের হত্যাকাণ্ড থেকে ঠেকানো সম্ভব ছিল না। কারণ এর আগে তিনি কখনোই এ ধরনের কোনো হুমকিও দেননি। ফলে বিষয়টি কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি।
পর্যালোচনা প্রতিবেদেন আরো বলা হয়, ম্যারি নামের ৭ বছর বয়সী মেয়েটিকে হত্যা করার মধ্য দিয়ে তার বাবা নিজ স্ত্রীকে সন্তানহারা করতে চেয়েছেন। এছাড়া স্ত্রীকে সন্তান হারানোর স্থায়ী স্মৃতি দিয়ে আজীবন বেদনাহত করাও তার একটি উদ্দেশ্য ছিল।
তবে স্ত্রী শিপস্টোনের বিশ্বাস তার স্বামী অ্যালরোমিসে তাদের মেয়েকে হত্যা করেছেন, কারণ তিনি হয়তো ভয় পাচ্ছিলেন যে, পরবর্তী শুনানিতে আদালত তাকে মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার অধিকার কেড়ে নেবেন।
তবে মামলাটির পর্যালোচনা শেষে যে বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয় তা হলো, সামাজিক গণমাধ্যম এবং শক্তিশালি ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনের ফলে এখন সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাঁচার জন্য কারো পক্ষে নিজেকে লুকিয়ে রখাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। ৭৩ পৃষ্ঠার পর্যালোচনা প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়, “এই পর্যালোচনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি বের হয়ে এসেছে, এবং আমরাও সকল সংস্থাকে যে বিষয়ে সতর্ক করে দিতে চাই তা হলো, সামাজিক গণমাধ্যম এবং উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিনের কারণে যেসব পরিবার সহিংসতা থেকে পালিয়ে বাঁচতে চায় তাদের জন্য নিজেদের অবস্থান গোপন রাখাটা এখন অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে। যাদের জীবন ঝুঁকির মধ্যে আছে তাদের জীবনের নিরাপত্তায় গৃহীত পরিকল্পনা এবং দিকনির্দেশনার ক্ষেত্রে এই বিষয়টি অবশ্যই গুরত্বের সঙ্গে বিবেচনায় রাখতে হবে। ”
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


মন্তব্য