kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


হার্ভার্ড মনোবিদের দৃষ্টিতে মানসিক চাপ কমানোর উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৫:২৪



হার্ভার্ড মনোবিদের দৃষ্টিতে মানসিক চাপ কমানোর উপায়

বিশ্বের অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হার্ভার্ড। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিদ সুসান ডেভিড।

তিনি হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের মনোবিদ। এছাড়া ‘ইমোশনাল এজিলিটি’ বইয়েরও লেখক তিনি। সম্প্রতি তিনি মানসিক চাপ কমানোর কয়েকটি উপায় জানিয়েছেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ করেছে বিজনেস ইনসাইডার।
মানসিক চাপ হঠাৎ করে যেমন আসতে পারে তেমন তা দীর্ঘদিন ধরেও সঞ্চিত হতে পারে। এক্ষেত্রে বিষয়টি নানা কারণে ও পরিস্থিতিতে তৈরি হয়। বর্তমানে নাগরিক জীবনে ক্রমাগত মানুষ ব্যস্ত থাকছে। আর এভাবে ব্যস্ত থাকতে গিয়ে অনেকেই প্রচণ্ড মানসিক চাপের মাঝে থাকছে।
মনোবিদ সুশান ডেভিডকে যখন তার কোনো ক্লায়েন্ট বলেন, আমি মানসিক চাপের মাঝে আছি তখন তিনি তাকে জিজ্ঞাসা করেন, ‘আপনার অন্য উপায়গুলো কী?’
এ অদ্ভুত প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য হলো, তার অনুভূতি জেনে নেওয়া। এর মাধ্যমে তিনি জেনে নিতে চান যে, ক্লায়েন্ট ক্লান্ত, হতাশ কিংবা দুঃখিত কি না।
সুশান বলেন, আপনি যদি মানসিক চাপের মাঝে থাকার কথা বলেন, তাহলে বিষয়টি অনুসন্ধান করা প্রয়োজন। আপনার এ মানসিক চাপের নিশ্চয়ই কোনো কারণ রয়েছে। এটি আপনার সময় ম্যানেজমেন্টের মাঝে যেমন থাকতে পারে তেমন ক্যারিয়ার বিষয়ে কোনো সমস্যার কারণেও হতে পারে। আর সঠিকভাবে সেই কারণটি নির্ণয় করার মাধ্যমেই তিনি চিকিৎসা শুরু করেন। এ বিষয়টিকে মনোবিদরা ‘ইমোশনাল গ্র্যানুলারিটি’ বলেন।
২০১৬ সালের জুনে মনোবিদন লিসা ফেল্ডম্যান ব্যারেট নিউ ইয়র্ক টাইমস-এ ‘ইমোশনাল গ্র্যানুলারিটি’ বিষয়ে একটি নিবন্ধ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, খুব বেশি নেতিবাচক আবেগ সহজাতভাবে খারাপ নয়। আপনি যদি নিজের অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, প্রচণ্ড মানসিক চাপে থাকার পর সে বিষয়গুলোকে ডায়েরিতে নিখুঁতভাবে লিপিবদ্ধ করে কাজে উন্নতি করা।
এক্ষেত্রে মানসিক চাপ কমানোর বিষয়টি কোনো জাদুমন্ত্র নয় বলেই তিনি মনে করেন। তাহলে কিভাবে মানসিক চাপ কমাতে হবে? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যদি সঠিকভাবে কাজ করছেন এ ধরনের সফল ব্যক্তিদের কথা বলি তাহলে বিষয়টি বোঝা সহজ হবে। বিশেষ করে কাজের ক্ষেত্রে আপনি সহজেই বলতে পারবেন না যে, কাজটি ভালো কিংবা খারাপ। এজন্য আপনার বুঝতে হবে আপনি সময় ব্যবস্থাপনায় কতটা দক্ষ, আপনার ইনবক্স এবং রিপোর্টে আপনি কতটা দক্ষ। আপনি কতখানি এ বিষয়গুলো সঠিকভাবে ম্যানেজ করতে পারেন, এটিও গুরুত্বপূর্ণ।
লিসা বলেন, ‘আমাদের ক্ষেত্রে উৎপাদনশীলতা ও সময়-ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত মনোযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু আমরা যদি বিষয়টিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে কার্যকরভাবে ফলাফল বয়ে আনতে না পারি, নিজের আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারি তাহলে বিষয়টি অর্থবহ হবে না। ’


মন্তব্য