kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বুড়িয়ে যাওয়ার ৭টি কঠিন সত্য যা সবার জানা দরকার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১২:২৩



বুড়িয়ে যাওয়ার ৭টি কঠিন সত্য যা সবার জানা দরকার

১. ছোট ছোট ব্যথা অনেক সময় অগ্রাহ্য করা যেতে পারে
বুড়িয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া বেদনামুক্ত নয়। হাঁটুগুলো শিথিল হয়ে আসে।

পায়ের আঙুলগুলোতে ব্যথা শুরু হয়। আর একসময় যে আঙুলগুলো কী বোর্ডের ওপর অনায়াসে দাপিয়ে বেড়াতো সেগুলোতে প্রায়ই এখন খিল লেগে যায়।
কিন্তু এর কোনোটির কারণেই আপনার মৃত্যু হবে না। সুতরাং সামনে এগিয়ে যাওয়া অব্যাহত রাখুন।

২. আপনার ডাক্তার তার অফিসের সামনের স্টাফের চেয়ে বেশি কিছু ভালো নন
অতীতে একটা সময়ে ডাক্তাররা একা একাই প্র্যাকটিস করতেন। আর তাদের স্ত্রীরা ফ্রন্ট ডেস্ক চালানোর দায়িত্বে থাকতেন। স্ত্রীই রোগীদের অ্যাপয়েন্টমেন্ট দিতেন এবং বিল তৈরি করতেন। এখন আর তেমন চল নেই। এখন ডাক্তাররা মেডিক্যালে বসে চিকিৎসা করেন। তাদের দেখা পাওয়াটাও এখন বেশ মুশকিলের ব্যাপার বটে। আর তাদের অফিসের সামনের স্টাফদেরকে হয় কাস্টমারদের সেবা করতে হবে কীভাবে সে সম্পর্কে কোনো প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়নি। আর নয়ত রোগীরা যাতে ডাক্তারকে কোনোভাবেই বিরক্ত করতে না পারে সে বিষয়েই মূলত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া এখন ডাক্তারদেরকে এমন চিকিৎসাসেবার জন্যও প্রচুর পরিমাণ অর্থ দিতে হয় যা হয়ত আগে বিনামূল্যেই দেওয়া হতো।

৩. প্রচুর লোক প্লাস্টিক সার্জারি করাচ্ছেন এই ভেবে যে এতে তারা হয়ত সুখী হবেন
অনেক নারী চেহারায় প্লাস্টিক সার্জারি করান এই ভেবে যে এত হয়ত তাদেরকে দেখতে আরো অল্প বয়সী মনে হবে। যার ফলে তারা নিজেরাও হয়ত আরো সুখী হবেন।
কিন্তু আপনি যখন কিম নোভাক এবং গোল্ডি হনকে অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ডে দেখেছেন তখন সত্যিকার অর্থেই আপনার কী অনুভূতি হয়েছিল।
আসলে ভেতরের সৌন্দর্যই হলো মূল সৌন্দর্য। যদি কেউ আপনার চোখের চারপাশে বলিরেখা পড়ে গেছে বলে নাট সিটকায় তাহলে তাদের আপনার জীবনে রেখে কী লাভ?

৪. অবসরপ্রাপ্তি এখন আগের চেয়ে ভিন্ন
আগে নিজের সিদ্ধান্তেই অবসর গ্রহণ করা যেত এবং কেউ কখন অবসরে যাবেন তা তিনি নিজেই নিয়ন্ত্রণ করতে পারতেন। অবসর ছিল এমন একটি বিষয় যার জন্য আপনি অর্থ সঞ্চয় করেছেন, পরিকল্পনা করেছেন এবং নিয়োগদাতার কাছ পেনশন নিয়েছেন। এরপর সময় হলেই আপনি অবসরে চলে যেতে পারতেন।
কিন্তু এখন বিষয়টি অনেক জটিল হয়ে পড়েছে। এর একটি কারণ আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি দিন বাঁচি, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করি। আর আমাদের সঞ্চয়ও শেষ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
বয়সের তুলনায় নিজেদেরকে এখন বেশি তরুণ মনে হয়। আর এ কারণে আমরা নিজেরাও কর্মজীবনকে দীর্ঘায়িত করতে চাই। আর আর্থিক মন্দার মধ্যে পড়ে সঞ্চয় এবং সম্পদেরও ক্ষয় হয়। যার ফলে অবসরে আর যাওয়া হয়ে ওঠে না।
এখন অবসরে যাওয়ার সময় হয়ে আসা লোকদেরকে তাদের পরবর্তী চ্যাপ্টার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। কেউ কর্মজীবন দীর্ঘায়িত না করলেও শখের কোনো ব্যবসাও হয়ত করতে পারেন।

৫. বয়স বাড়লে মনোভঙ্গি এবং আচরণের উন্নতি হয়
আগে হয়ত আপনি ভ্রমণে যাওয়ার সময় আগেভাগেই সব কাপড়-চোপড় প্যাকআপ করতেন। কিন্তু আরামদায়ক কাপড়টি খুঁজে বের করার জন্য আপনাকে পুরো আলমারি তোলপাড় করতে হতো। এরপর হয়ত আপনি কয়েকটি কাপড় বাছাই করে সেগুলো সঙ্গে নিতেন। এতে কয়েক ঘন্টা সময় লাগতো। দেখা যেত আপনি হয়ত প্রতিদিন যে পোশাকগুলো পরে আরাম পেতেন সেগুলোই বছাই করেছেন।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনোভঙ্গিরও পরিবর্তন আসে। ফলে আপনি অনায়াসেই আরামদায়ক পোশাকগুলো বাছাই করতে পারেন। আর সবকিছু এলোমেলো না করেই তা করতে পারছেন। সম্পর্কের ক্ষেত্রেও আপনি একইভাবে বাছাই করতে সক্ষম হচ্ছেন। সহজেই আপনি বিষাক্ত সম্পর্ক এড়িয়ে যেতে পারছেন। আপনি এমন একটি গাড়ি চালান যা শুধু আপনারই কাজে লাগে, প্রতিবেশীদের জন্য নয়। আপনি এমন জায়গার বসবাস করেন যা শুধু আপনাকেই মুগ্ধ করে অন্য কাউকে নয়। আর আপনি আপনার সময় এবং অর্থের ওপর অন্য কারো চাহিদা বা অনুরোধের ব্যাপারেও না বলতে পারেন সহজে।

৬. রাজনীতিবিদরা এখনো বুড়োদের ইস্যুগুলো নিয়ে কথা বলেন না
এমনকি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনেও কোনো দলের প্রার্থীরাই বুড়ো আমেরিকানদের ইস্যুগুলো নিয়ে কোনো কথা বলেননি। বুড়োদের সামাজিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ, শ্রমশক্তিতে বুড়ো লোকের সংখ্যা বেড়ে চলা এবং দেশটিতে বৃদ্ধ লোকের সংখ্যা বাড়ছে সুনামির বেগে। এসবের কোনোটি নিয়েই রাজনীতিবিদদের মধ্যে কোনো উদ্বেগ নেই।

৭. খুব বেশিদিন বেঁচে থাকা সত্যিকার অর্থেই একটি সমস্যা
অনেক মানুষই ১০০ বছরের বেশিদিন বেঁচে থাকার মধ্যে কোনো অর্থ খুঁজে পান না। আসলে মানুষ যতদিন জীবনটাকে উপভোগ করতে পারে ততদিনই বাঁচতে চায়। সুস্বাস্থ্য এবং আর্থিক নিরাপত্তা বেশিদিন বেঁচে থাকার ক্ষেত্রে প্রধানত প্রেরণা যোগায়। এসব ছাড়া বেঁচে থাকার আর কোনো মানে কী আছে?
সূত্র : হাফিংটন পোস্ট


মন্তব্য