kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে ৮ কারণে কর্মীরা কর্মস্থল ত্যাগ করে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০৯:২৯



যে ৮ কারণে কর্মীরা কর্মস্থল ত্যাগ করে

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের নানা কারণে ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়। প্রায়ই দেখা যায় কর্মদের চাহিদা যথাযথভাবে পূরণ না করা কিংবা পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে না পারায় কর্মীরা প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে।

কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে ভালো কাজের পরিবেশের অভাবেও কর্মীরা কর্মক্ষেত্র ত্যাগ করতে পারে। এ লেখায় তুলে ধরা হলো কর্মীদের কর্মস্থল ত্যাগের তেমন কয়েকটি কারণ।
১. অযাচিত নিয়ম
সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার জন্য নিয়ম প্রয়োজন রয়েছে। তবে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি অপ্রয়োজনীয় কিংবা অযাচিত নিয়ম তৈরি করে তাহলে তা হিতে বিপরীত কাজ করতে পারে। কোনো কোনো নিয়ম নিষ্ঠাবান কর্মীদের সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করে এমনকি সঠিকভাবে কাজ করায়ও ব্যাঘাত তৈরি করে। এ ধরনের অযাচিত নানা নিয়মের ফলে বিরক্ত হয়ে চাকরি ত্যাগ করে তাদের কেউ কেউ।
২. সবাইকে সমান দৃষ্টিতে দেখা
কর্মঠ ও পরিশ্রমী কর্মীদের পাশাপাশি যদি অকর্মণ্য ও অলস কর্মীদের একই সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয় তাহলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মাঝে হতাশা দেখা দেয়। স্কুল শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে এ নিয়ম কার্যকর হলেও কর্মক্ষেত্রের উন্নতিতে তা মোটেই ভালো নিয়ম নয়। কারণ প্রতিষ্ঠানে ভালো কাজের বিনিময়ে কর্মীরা ভালো সুযোগ-সুবিধা চাইবেন, এটাই স্বাভাবিক।
৩. কাজ না করেও উন্নতি
প্রতিষ্ঠানে কাজ না করেও যদি উন্নতি করা যায় তাহলে কর্মীরা কাজ করতে চাইবে না। এক্ষেত্রে কোনো প্রতিষ্ঠান যদি আলসে ও কর্মবিমুখ কর্মীদের উন্নতির সুযোগ করে দেয় তাহলে তা প্রতিষ্ঠানের অন্য কর্মীদের নিরুৎসাহিত করে।
৪. কাজ করে উন্নতির অভাব
প্রতিষ্ঠানে যারা পরিশ্রমী কর্মী স্বভাবতই তারা নিজের কর্মদক্ষতা প্রদর্শন করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার আশা করবে। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান পরিশ্রমী ও সফল কর্মীদেরও কোনোধরনের প্রণোদনা দেয় না। এক্ষেত্রে পরিশ্রমী কর্মীরা নিরুৎসাহিত হয় এবং কখনো কখনো প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করে সুবিধাজনক কোনো স্থানে চলে যায়।
৫. যথাযথ সম্মান না পাওয়া
বহু প্রতিষ্ঠানই কর্মীদের চাকরি ত্যাগ করার কারণ হিসেবে বসের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের কিছু নীতি রয়েছে যা প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের ম্যানেজারের সঙ্গে অন্য কর্মীদের বিরুপ সম্পর্ক তৈরি করে।
৬. সঠিক দৃষ্টিভঙ্গির অভাব
বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মীদের শুধু কাজ দেওয়া ও তা আদায় করে নিতেই আগ্রহী। প্রতিষ্ঠানের গড়ে ওঠা ও সামনে এগিয়ে যাওয়ার বিষয়ে কোনো দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলে না তারা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে কর্মীরা প্রায়ই কাজের কোনো অর্থ খুঁজে পায় না।
৭. আগ্রহের বিষয়ে কাজের অভাব
প্রত্যেক মানুষেরেই কিছু বিষয়ে আগ্রহ থাকে। সবাই চায় নিজের আগ্রহের বিষয়ে সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতা প্রদর্শন করে সামনে এগিয়ে যেতে। কিন্তু কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান কর্মীদের নিজের আগ্রহের বিষয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করে না।
৮. আনন্দের অভাব
কর্মক্ষেত্রেও বিনোদন ও আনন্দের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এ আনন্দ কর্মীদের কর্মক্ষেত্রে উৎসাহিত করে এবং কাজের ক্লান্তি দূর করে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এ বিষয়টিকে উপেক্ষা করে, যা কর্মীদের কাজের জন্য আকর্ষণীয় পরিবেশ গড়ার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে।
--ফোর্বস অবলম্বনে ওমর শরীফ পল্লব


মন্তব্য