kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কথা বলতে সাবধান!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৯:২৩



মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক কথা বলতে সাবধান!

অন্যের মন বুঝতে আমাদের বিবেচনা বোধ বেশ নাটকীয়। কোনো রাজনীতিকের সিদ্ধান্ত আমাদের মতের বিরুদ্ধে গেলেই তাকে বলি 'পাগল'।

টেলিভিশনে প্রিয় একটি অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাচ্ছে জেনে মন খারাপ হলে বলা হয় 'বিষণ্ন'। দিনে তৃতীয় বারের মতো পোশাক বদল করতে দেখলে কেউ বলে 'বাইপোলার'। মনের নানা অবস্থা বোঝাতে যেসব শব্দ ব্যবহার করা হয়, আসলে তা ঠিক নয়।

মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা বোঝাতে শব্দ চয়নে আরো সাবধান হতে হবে বলে মনে করেন সেভ-এর এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড্যান রেইডেনবার্গ। আত্মহত্যা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। মানসিক রোগ বা অন্যান্য অবস্থা প্রকাশে যে শব্দ প্রয়োগ করা হয় তা অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক নয়।

ড্যান বলেন, যারা সত্যিকার অর্থেই মানসিক রোগে ভুগছেন, তাদের জন্য এসব শব্দ আরো ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। এসব শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের কাছে আমরা অনেক বেশি নেতিবাচক হয়ে উঠি। এটা স্বাস্থ্যকর অবস্থা বলেই প্রকাশ করা যায়। মানসিক রোগ বলাটাও নেতিবাচক শোনায়।

শব্দের সামান্য হেরফেরেও বড় অর্থ প্রকাশ হতে পারে। মানসিক রোগ বলতে এমন কিছু বোঝা হয় যার মাধ্যমে কারো ক্ষতিকর অবস্থা বোঝানো হয় যা ঠিকঠাক করতে হবে। এসব শব্দের মধ্যে অপমানকর অর্থ লুকিয়ে আছে।

আর মানসিক সমস্যা আক্রান্ত মানুষদের মনের অবস্থা ঠিক রাখতে শব্দ বাছাইয়ে সাবধান হওয়া দরকার বলেই মনে করেন ড্যান।

বাইপোলার ডিসঅর্ডার এমন এক অবস্থা যা ক্ষোভে উন্মক্ত এবং এলোমেলো অবস্থাকে বোঝায়। কিন্তু যাদের মন ঘন ঘন পরিবর্তিত হয় তাদেরই বাইপোলার সমস্যা রয়েছে বলে মনে করা হয়। অথচ এটা কেবলই সিদ্ধান্তহীনতার বিষয় নয়।

এসব সমস্যা থেক উত্তরণের জন্য আমাদের সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরো শিক্ষিত হতে হবে। ক্যান্সার, লিভার, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের মতো দৈহিক রোগগুলো নিয়ে মানুষের মনে তেমন সমস্যা নেই, যেমনটা রয়েছে মানসিক সমস্যার ক্ষেত্রে। এ রোগে আক্রান্তকে ভিন্ন চোখে দেখা হয়।

'উন্মাদ' শব্দটা খুব বেশি ব্যবহার করা হয়। অথচ এই শব্দের মাধ্যমে এমন অবস্থা প্রকাশ পায় যা ক্ষতিকর নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপমানকর অর্থ হিসাবে প্রকাশ করা হয়।

আগের প্রজন্মের মানুষরা মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়ে রাখঢাক করতেন। তারা এসব নিয়ে খোলামেলা কথা বলতে অস্বস্তিবোধ করতেন। কিন্তু বর্তমান প্রজন্ম মানসিক অবস্থা প্রকাশের ক্ষেত্রে যেমন ইচ্ছা তেমন শব্দের ব্যবহার করছে। তা ছাড়া নিজেদের মানসিক অবস্থা নিয়েও সরাসরি কথা বলে তারা।

বিষণ্নতা বিষয়ে একটা ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে যে, এর মাধ্যমে কেবল মনের দুঃখ প্রকাশ করা হয়। অথচ আর মাধ্যমে আরো বিস্তৃত আকারে স্বাস্থ্যের অবস্থা প্রকাশ পায়। দুঃখবোধ বা হতাশার চেয়ে অনেক বেশি কিছু বিষণ্নতা। এই সমস্যা দৈহিকভাবে প্রকাশ পেতে পারে। যেকোনো মানসিক যন্ত্রণা বা দুঃখবোধকে বিষণ্নতা বলে চালিয়ে দেওয়া উচিত নয়।

আবার বিষণ্নতা বলতে দুঃখবোধ মনে করা হয় বলেই অনেকেই একে মারাত্মক কোনো অবস্থা বলে মনে করেন না। ফলে এই ভুল বোঝার কারণে রোগীর অবস্থা সবার অজান্তে চরমে পৌঁছতে পারে।

ওসিডি বলতে বোঝায় অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার। এটা এমন এক অবস্থা যখন এলোমেলো চিন্তা ও চরম দুশ্চিন্তা ভর করে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষকে ওসিডি'র সমস্যা রয়ছে বলে মন্তব্য করা হয়।

'আত্মহত্যার সামিল' কথাটা আমরা প্রায়ই ব্যবহার করি। কিন্তু একটা কথা মনে রাখতে হবে, আত্মহত্যা শব্দটি উচ্চারিত হওয়ামাত্রই এক ধরনের ভীতি কাজ করে। কাজেই এ শব্দ উচ্চারণের আগে ভাবার দরকার আছে। অথচ অন্যান্য কাজের বৈশিষ্ট্য প্রকাশেও বলা হয় 'এটা আত্মহত্যার শামিল' হবে।

তাই বিশেষ করে অপমানজনক কথা বলতে মানসিক অবস্থা সংশ্লিষ্ট শব্দ প্রয়োগে সাবধান হওয়া দরকার। ভুল প্রয়োগে সত্যিকার মানসিক রোগীর ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আবার যাকে তাকে যেভাবে ইচ্ছা বলে সিরিয়াস অবস্থাগুলোকে হালকা করা যায় না। সূত্র : হাফিংটন পোস্ট

 


মন্তব্য