kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কাজে ফাঁকি দিয়েও আসে পেশাদার সফলতা!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৪৬



কাজে ফাঁকি দিয়েও আসে পেশাদার সফলতা!

কর্মক্ষেত্রটিকে দারুণ মজার করতে আগ্রহী তরুণ উদ্যোক্তা ব্রায়ান ওং। এই ২৫ বছর বয়সী কানাডিয়ানের মতে, মাসের অন্তত একটি দিন কাটানো উচিত কোনো কাজ না করে।

এই তত্ত্বে বিশ্বাসী মার্ক জাকারবার্গ এবং জ্যাক ডর্সির মতো উদ্যোক্তারা। তারা সময় করে যথেষ্ট পড়াশোনা করেন।

তবে এ তত্ত্বের সুবিধা পেতে বেবি বুমার্সরা ওংয়ের টার্গেট না। এই উদ্যোক্তা ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়া থেকে গ্র্যাজুয়েশন করেছেন। ফোর্বসের ৩০ বছরের কম বয়সীদের টপ ৩০ তালিকায় থেকেছেন ৩ বার। ২০১০ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রতিষ্ঠা করেন 'কিপ'। ইতিমধ্য ২০ মিলিয়ন ডলারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ হয়ে গেছে এখানে।

তার এই বিশাল সফলতার রহস্য জানান দিয়েছেন ওং। তার রহস্যে রয়েছে প্রতারণা। তবে অন্যের সঙ্গে নয়। আসলে এগুলো বাস্তবিক পদক্ষেপ যা গ্রহণে সময় ও অর্থ বেঁচে যায়। যেমন তিনি এমবিএ করেননি। এটা তার কাছে বিপুল অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়।

বলেন, আমি বলছি না যে ডিগ্রি নেওয়া উচিত নয়। এটা অবশ্যই ভালো। কিন্তু বাস্তবে সফল হতে এর প্রয়োজন নাও হতে পারে। ডিগ্রি অর্জনে আসলে কাগজে সফল হওয়া যায়। এখন সফল প্রতিষ্ঠানগুলো এমন বুদ্ধিমত্তা খোঁজে যারা অনলাইন থেকেই শিক্ষা অর্জন করেন এবং বাস্তবে কাজগুলো সম্পন্ন করেন।

আধুনিক যুগে শিক্ষা গ্রহণের প্রক্রিয়া পাল্টেছে। ভবিষ্যত প্রজন্মের বিল গেটস ভারতের ক্ষুদে মেয়েটা হতে পারে যার হাতে একটি ল্যাপটপ তুলে দেওয়া হয়েছে।

ব্রিটেনের ন্যাশনাল স্ট্যাটিস্টিক্সের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৬-২৪ বছর বয়সীরা অন্যদের তুলনায় বেকার থাকতে পছন্দ করে ৩  গুন বেশি। আভিভার আরেক গবেষণায় বলা হয়, ১৮-৩৫ বছর বয়সীদের এক-তৃতীয়াংশের বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়তে পেরে অনুতাপে ভোগেন।

ওংয়ের তত্ত্ব হলো, নিজেকে দাঁড়াতে হলে নিজের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। গতানুগতিক পন্থা আপনাকে অনেক ক্ষেত্রেই আটকে দিতে পারে। আপনাকে যে বৈশিষ্ট্যগুলো মূল্যবান করে তোলে তাই আপনাকে অনন্য কিছু দিতে পারে। এই বৈশিষ্ট্যই আপনাকে সবার মাঝে সেরা করে তুলতে পারে।

পারসোনাল ব্র্যান্ডিং করতে হবে। এর অর্থ ক্যারিয়ারকে অবহেলা করা যাবে না। পারসোনাল ব্র্যান্ডিংয়ের মাধ্যমে যেকোনো কাজে আপনি পেশাদার হয়ে উঠবেন। এটি করতে সোশাল মিডিয়ায় ঝড় তুলতে হবে না। একের পর এক শেয়ার দিতে হবে না।

ইমেইল অন্যতম উপায় হয়ে উঠতে পারে। এখানেও গতানুগতিক পদ্ধতির সঙ্গে প্রতারণা করতে পারেন। একটি বিষয় খেয়াল করে দেখবেন, যদি আপনি কাউকে কম কম ইমেইল করেন, তবে আপনার ইমেইল গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন তিনি।

বাবা-মায়েরা তার শিশুকে ভবিষ্য উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে তুলতে কি করতে পারেন? তাকে তার মতোই থাকতে দিতে হবে। তাকে খেলার সুযোগ দিতে হবে।   সে যা নিয়ে পরীক্ষা করতে চায় তা করতে দিতে হবে। নিজের পছন্দের বিষয়টা না বুঝে ওঠা পর্যন্ত তাদের সুযোগ দিন।

ওং বলেন, উদ্যোক্তারা জানেন যে তারা যে জিনিস তৈরি করেন তা যদি সফল না হয়, তবে সেখানে শিক্ষার আছে অনেক কিছু। আর এ শিক্ষা ভবিষ্যতে অনেক বেশি সফলতা এনে দেবে। এখানে সফলতার সংজ্ঞা কিছুটা বদলে যায়।

শেষ পর্যন্ত ওং মনে করেন,  সফল হতে যে দারুণ পরিশ্রমী হতে হবে এবং কাজে ফাঁকি দেওয়া চলবে না তা মোটেও নয়। মানুষ যখন তার মস্তিষ্ককে চাহিদা খুঁজতে ব্যস্ত রাখে, তখনই সম্ভাবনার দেখা মেলে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে মাথা খাটাতে হবে। কেবলমাত্র একটি বিষয়ে বিশেষজ্ঞ কেন হতে হবে? সূত্র : টেলিগ্রাফ

 


মন্তব্য