kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আঘাত দেওয়া ছাড়াই লাজুক শিশুদের সাহায্য করার উপায়

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:১১



আঘাত দেওয়া ছাড়াই লাজুক শিশুদের সাহায্য করার উপায়

যেসব শিশু লাজুক প্রকৃতির এবং নতুন পরিস্থিতি সম্পর্কে অতি সাবধানী তাদের মধ্যে পরবর্তী জীবনে মানসিক উদ্বেগগত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির ঝুঁকি থাকে। আর এ ধরনের শিশুদেরকে সহায়তার জন্যই মনোবিজ্ঞানী এবং শিশু উন্নয়ন বিশেষজ্ঞরা নতুন কিছু পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন।


নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী স্যান্ডি ম্যাকক্লৌরি বলেন, এ ধরনের শিশুদেরকে তাদের মৌলিক স্বভাবের পরিবর্তন না ঘটিয়েই তাদের কমফোর্ট জোন বা সুবিধাজনক স্থান থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। অর্থাৎ তাদেরকে বাইরের দুনিয়ার সঙ্গে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে।
লাজুকতা এবং এর পরিণতি
মনোবিজ্ঞানীরা লাজুকতাকে এমন একটি প্রবণতা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যার ফলে কেউ নিজেকে সামাজিক  মেলামেশা থেকে দূরে সরিয়ে নেন। আর সামাজিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার সময় অস্বস্তি এবং মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন। শিশুরা প্রায়ই অনেক লোকের মাঝে এবং নতুন পরিস্থিতিতে লজ্জাবোধে আক্রান্ত হন।
গবেষণায় দেখা গেছে, যে শিশুটি ৪ বছর বয়সে লাজুক থাকে ৭ বছর বয়সে গিয়েও তার সেই লজ্জা কাটে না।
আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যে পুরুষরা ছোটবেলায় লাজুক ছিলেন, তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর বিয়ে করতে ও সন্তান জন্ম দিতে চান না। আর তাদের কর্মজীবনও বহির্মুখী স্বভাবের শিশুদের চেয়ে অনেক কম স্থিতিশীল হয়।
এর বিপরীতে লাজুক স্বভাবের নারীরা বিয়ে থা করে সন্তান জন্ম দিয়ে ঘরেই থাকতে পছন্দ করেন বেশি।
তবে সবচয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, যারা শিশুকালে লাজুক প্রকৃতির হন পরবর্তী জীবনে তারা সামাজিক উদ্বেগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হন। গবেষণায় দেখা গেছে, মানব শিশুদের ১৫ শতাংশ চরম মাত্রায় আচরণগত বিচ্যুতি প্রদর্শণ করে। আর এদের অর্ধেকই পরবর্তী জীবনে সামাজিক উদ্বগজনিত মানসিক বিশৃঙ্খলায় আক্রান্ত হন।
শিশুকালের মেজাজ-মর্জি এবং পরবর্তী জীবনে মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত হওয়ার মধ্যকার যোগসাজশ নিয়ে কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা করছেন সু হায়ুন রি। এই মনোবিজ্ঞানী বলেন, “সাধারণত আমাদের সমাজে বহির্মুখীনতা এবং উচ্চকণ্ঠে কথা বলতে ও মৌখিকভাবে নিজের ধারণাগুলো প্রকাশ করতে পারাকে অনেক গুরুত্ব দেওয়া হয়। ” গবেষণায় আরো দেখা গেছে, লাজুক শিশুরা শ্রেণিকক্ষের শোরগোলের মধ্যেও নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে।
চরম লাজুক শিশুদেরকে পেশাগত সাফল্যের জন্য সহায়তার পরামর্শ দিয়েছেন, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। একজন চিকিৎসক কোনো শিশুকে তার উদ্বেগগুলো মোকাবেলা করার কৌশল বা তাদের মেজাজ-মর্জির সঙ্গে মানানসই তৎপরতায় লিপ্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করতে পারেন।
যে শিশুদেরকে নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে রীতিমতো সংগ্রাম করতে হয় তাদেরকে সহায়ত করতে চাওয়াটা সহজ হতে পারে। কিন্তু গবেষকদের পরামর্শ হলো, এতে আবার বাড়াবাড়ি করা ঠিক হবে না।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশু ৩ বছর বয়সে আচরণগতভাবে অস্বাভাবিক ছিল তারা ৬ বছর বয়সে গিয়েও একই রকম রয়ে গেছে। এমনটা হয়েছে কারণ তাদের যত্নকারীরা অতি বেশি সংরক্ষণশীল বা প্রতিরক্ষামূলক ছিলেন। আগস্টে জার্নাল অফ রিসার্চ ইন পারসোনালিটিতে প্রকাশিত এক গবেষণায় এমনটিই বলা হয়েছে।
এ ধরনের শিশুদেরকে যে বাবা-মায়েরা অতি বেশি প্রতিরক্ষা দেন তারা মূলত তাদের উপকার না করে বরং ক্ষতিই করেন। এ ধরনের শিশুদের প্রকৃত উপকার হবে তাদের সঙ্গে ভারসাম্যমূলক আচরণ করলে। এ ধরনের শিশুদেরকে প্রথমে প্রচুর পরিমাণ সহযোগিতা করলেও পরে ধীরে ধীরে তাদেরকে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ করে দিতে হবে। এ পদ্ধতি অবলম্বন করলে লাজুক শিশুরা নিজেরাই একসময় তাদের খোলস থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
গবেষণায় আরো দেখা গেছে, লাজুক শিশুদের প্রয়োজনীয়তার প্রতি বাবা-মায়েরা উষ্ণ এবং সংবেদনশীল প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলে তারা আর পরবর্তী জীবনে মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হয় না।
২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যে লাজুক শিশুরা ছোটবেলায় তাদের লালন-পালনকারীদের সঙ্গে খুব একটা নিরাপত্তামূলক সম্পর্কে আবদ্ধ ছিল না তারাই পরবর্তীতে মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় বেশি। নিরাপত্তামূলক সম্পর্ক বলতে বুঝানো হয়েছে এমন সম্পর্ককে, যেখানে শিশুরা মুক্তভাবে নিজেদেরকে বিকশিত করার সুযোগ পায় এবং লালন-পালনকারীদের ওপর আস্থা রাখতে পারে।
সূত্র: লাইভ সায়েন্স ডটকম


মন্তব্য