kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


যে ৬টি বিষাক্ত হুমকি অ্যালার্জির মহামারির জন্য দায়ী

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:১৬



যে ৬টি বিষাক্ত হুমকি অ্যালার্জির মহামারির জন্য দায়ী

প্রায় ৩ কোটি আমেরিকান শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। প্রতি বছর আরো ৫ লাখেরও বেশি মানুষ শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন।

যাদের মধ্যে ৪ হাজার জনই মারা যান।
৫০ শতাংশ রোগীই শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হন অ্যালার্জি থেকে। তবে আপনার শ্বাস কষ্ট থাকুক বা না থাকুক এবং অ্যালার্জি বা নিছকই অ্যালার্জি হোক; আপনি হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন আপনার পরিস্থিতি দিনকে দিন খারাপই হচ্ছে। গত ২৫ বছর ধরে শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত লোকের সংখ্যা চারগুন বেড়েছে। আর শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যাও দ্বিগুন হয়েছে। আর খড় জ্বরে আক্রান্ত লোকেরাও হয়তো লক্ষ্য করে থাকবেন প্রতিটি অ্যালার্জির মৌসুমই আগের চেয়ে অনেক বেশি খারাপ যাচ্ছে।
এমনটা কেন হচ্ছে? জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই হয়তো এমনটা ঘটছে।
জলবায়ু পরিবর্তন
জলবায়ু পরিবর্তনে ফলে বিভিন্ন ঋতুর দৈর্ঘ্য বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে পৃথিবীর উত্তর অক্ষাংশের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় অ্যালার্জিতে আক্রান্ত হওয়ার মতো মৌসুমের দৈর্ঘ্য বেড়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন বেশ কয়েকভাবে মানব স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। তবে অ্যালার্জির মতো সমস্যা সবার আগে দৃশ্যমান হচ্ছে। কারণ এটি সহজেই শনাক্ত করা যায়।
বাতাসে কার্বন ডাই অক্সাইড বেড়ে যাওয়ার কারণে পৃথিবীর উদ্ভিদগুলো স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি মাত্রায় অ্যালার্জিক উপাদান উৎপাদন করে।
ব্যাক্টেরিয়ারোধী রাসায়নিক
এনভায়রনমেন্টাল হেলথ পারসপেকটিভ নামক জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ব্যাক্টেরিয়ারোধী রাসায়নিক ট্রাইক্লোস্যান অ্যালার্জির মহামারি সৃষ্টিতে ভুমিকা পালন করে থাকতে পারে।
গবেষণায় গবেষকরা ৫ হাজার লোকের ৩ বছরের স্বাস্থ্য তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পেয়েছেন, প্রস্রাবে ট্রাইক্লোস্যান এর উপস্থিতির মাত্রার সঙ্গে অ্যালার্জির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এই গবেষণায় একটি “স্বাস্থ্যবিধি অনুমান”, “রাসায়নিক ব্যবহার করে ঘর এবং পরিবেশকে জীবাণু মুক্ত করে অতি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে গেলে মানবদেহের উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতিই হয় বেশি। এতে মানবদেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যার ফলে মানব দেহ ব্যাক্টেরিয়া এবং ভাইরাসজনিত হুমকি মোকাবেলার প্রাকৃতিক সক্ষমতা হারায়। ”
মিশিগান স্কুল অফ পাবলিক হেলথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ইরিন রিস-ক্লেটন বলেন, “কৃত্রিমভাবে স্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টির ফলে আমরা হয়তো সংক্রমণ থেকে মুক্ত থাকতে পারি। কিন্তু এজন্য যেসব রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হয় তার বেশিরভাগই উপকারের চেয়ে বরং ক্ষতিই করে বেশি। ”
বিপিএ
বিপিএ বা বিসফেনোল অ্যা, প্লাস্টিক খাদ্য ক্যানের আস্তরণ এবং থারমাল রিসিটে ব্যবহৃত হয়। কলাম্বিয়া সেন্টার ফর চিলড্রেনস এনভায়রনমেন্টাল হেলথ বলেছে, শিশু বয়সে শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হওয়ার সঙ্গে বিপিএ-র সংযোগ রয়েছে।
কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্রের সহকারি অধ্যাপক ক্যাথলিন ডোনোহিউ বলেন, গত ৩০ বছরে নাটকীয়হারে শ্বাস কষ্টের রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। সম্ভবত পরিবেশগত দূষণজনিত কোনো কারণে এটা ঘটে থাকতে পারে। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এর পেছনে বিপিএ-র ভুমিকা থাকতে পারে। ”
পরিচ্ছন্নতা দ্রব্য
কোন কোন পেশায় নিয়োজিত লোকেরা বেশি বেশি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন? ইম্পেরিয়াল কলেজ অফ লন্ডনের গবেষকরা এ প্রশ্নটি মাথায় রেখে ১০ হাজার লোকের ওপর একটি গবেষণা চালান। গবেষণায় মূলত কোনো পেশার লোকরা বেশি শ্বাস কষ্টে আক্রান্ত হন তা খতিয়ে দেখা হয়। এরকম ১৮টি পেশা শনাক্ত করা হয় গবেষণায়। যার মধ্যে ৭টি পেশাই প্রতিদিন পরিষ্কার করার জন্য রাসায়নিক পণ্য ব্যবহারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।
এনভায়রনমেন্টাল ওয়ার্কিং গ্রুপ এর এক বিশ্লেষণে বলা হয়, পরিষ্কার করার জন্য যেসব দ্রব্য ব্যবহার করা হয় তার ৫৩ শতাংশই ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর।
ভিনাইল ফ্লোর
৩ হাজার শিশুর ওপর ১০ বছর ধরে পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে যেসব শিশু ভিনাইল ফ্লোরের বেডরুমে বড় হয় কাঠের ঘরে বাসকারী শিশুদের চেয়ে তাদের শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা দেড়গুন বেশি। ভিনাইল এক ধরনের প্লাস্টিক বা পিভিসি যা নির্মাণ শিল্পে ব্যাপকহারে ব্যবহৃত হয়।
আর মায়েরা যদি গর্ভকালীন সময়ে ভিনাইল ফ্লোরে বাস করেন তাহলে তাদের সন্তানদের শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে দ্বিগুন। ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড হেলথে সুইডেনের গবেষকদের প্রকাশিত এক গবেষণা নিবন্ধে এ কথা বলা হয়।
ওয়েট টিস্যুতে ব্যবহৃত প্রিজারবেটিভ
আপনি হয়তো আগে কখনো এর নাম শোনেন নি। কিন্তু ২০১৩ সালে আমেরিকান কনটাক্ট ডার্মাটিটিসি সোসাইটির চর্মরোগবিশেষজ্ঞরা একে “অ্যালার্জেন অফ দ্য ইয়ার” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। এর রাসায়নিক উপাদানটি কী? মেথিলাইসোথায়াজোলিনোন (এমআই)। নারী ও শিশুদের ব্যবহার্য্য বেশিরভাগ ওয়েট টিস্যুতে বা ওয়াইপসে এই রাসায়নিকটি থাকে। এছাড়া বিভিন্ন তরল সাবান, চুলের প্রসাধনী পণ্য, সানস্ক্রিন, কসমেটিকস, লন্ড্রি পণ্য এবং পরিষ্কারকারক দ্রব্যেও এটি থাকে।
সূত্র: ফক্স নিউজ


মন্তব্য