kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাবধান! ভারী স্কুলব্যাগে অসুস্থ হয় শিশু

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১১:০৮



সাবধান! ভারী স্কুলব্যাগে অসুস্থ হয় শিশু

বিভিন্ন স্কুলে এখন নানা ধরনের বই বহন করার বাধ্যবাধকতা থাকে। আর এসব বইয়ের ভারে শিশুর স্কুলব্যাগ যে প্রচণ্ড ভারী হয়ে যায়, সে বিষয়ে অভিভাবক ও স্কুল কর্তৃপক্ষের কোনো মাথাব্যথা থাকে না।

যদিও বিষয়টি শিশুর জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ও গবেষকরা। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।
বহু বাবা-মা তাদের শিশুকে ভারী স্কুলব্যাগ দেন। এ স্কুলব্যাগ বহন করতে গিয়ে সে পড়ছে শারীরিক ঝুঁকিতেও। এই ঝুঁকি শুধু শিশু বয়সে নয়, তাকে মেরুদণ্ড, ঘাড়ব্যথা, পিঠব্যথাসহ কিছু অসুখের ঝুঁকিতে ফেলছে সারা জীবনের জন্য।
সম্প্রতি এক গবেষণায় গবেষকরা শিশুর ভারী স্কুলব্যাগ বহনের ক্ষতিকর দিকগুলো জানতে পেরেছেন। গবেষকরা বলেন, ভারি স্কুলব্যাগ শিশুর পিঠব্যথা ও শিশুর কুঁজো হয়ে যাওয়ার জন্য দায়ী। কোনো কোনো গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, বয়ঃসন্ধিকালে যেসব শিশু পিঠে ব্যথাজনিত সমস্যায় পড়ে তারা বেশি বয়সে ঘাড়, কাঁধ ও মেরুদণ্ড বাঁকা হওয়ার মতো ব্যথার জটিলতায় ভোগে।

ভারতীয় গবেষকদের এক গবেষণায় দেখা যায়, সাত থেকে ১৩ বছর বয়সী ৬৮ ভাগ শিশু পিঠব্যথা ও কুঁজো হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ গবেষণাটি করেছে অ্যাসোসিয়েটেড চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অব ইন্ডিয়া (অ্যাসোচ্যাম)।
যে শিশুরা বেশিমাত্রায় কম্পিউটার-স্মার্টফোনে সময় কাটাচ্ছে, তাদের মধ্যে এ ঝুঁকি বেশি। এ ধরণের অলসতার সঙ্গে শারীরিক পরিশ্রমহীন কর্মচঞ্চলতা হ্রাস পাওয়ার কারণে পিঠের মাংসপেশির টানশক্তি ক্রমেই কমে যাচ্ছে। সে পরিণত হচ্ছে দুর্বল মানুষে। শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যাচ্ছে। সে কারণে বহু ধরণের অসুখের ঝুঁকিও বাড়ছে।
শিশুর পিঠ ব্যথার সঙ্গে স্কুলব্যাগ ওজনের কোনো সম্পর্ক আছে কি না তা নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। এর মধ্যে আর্কাইভস অব চিলড্রেনে একটা গবেষণাপত্রে দেখা গেছে ভারী স্কুলব্যাগ বহনকারী শিশুদের মধ্যে যারা অতিরিক্ত ওজনের ব্যাগ বহন করছে তারা বেশি সমস্যায় পড়ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্কুলব্যাগ হোক আর সাধারণ ব্যাগ হোক-তা একটি শিশুর মোট ওজনের ১০ ভাগের বেশি হতে পারবে না। সে হিসাবে একটি শিশুর ওজন যদি ১৫ কেজি হয়, তবে তার স্কুলব্যাগের ওজন যেন অবশ্যই ১.৫ কেজির নিচে থাকে।
অতিরিক্ত ওজন বহন থেকে শিশুদের দূরে রাখতে সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা। অন্যথায় তা শিশুর নানা শারীরিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।


মন্তব্য