kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৬ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৬:৩৪



ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো

ক্ষুধামান্দ্য, ওজন কমে যাওয়া, চোখের কিছু সমস্যা এবং শ্রোণীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ভর্তি হন জেসি কুইন (৩৬)। সময়টি ২০১০ সাল।

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ধরা পড়ে তিনি তীব্র মায়েলয়েড লিউকোমিয়ায় আক্রান্ত। এটি এমন এক ধরনের ব্লাড ক্যান্সার যা দ্রুত বাড়ে। ডাক্তরারাও বলে দিয়েছিলেন শুধূ কেমোথেরাপিতে তিনি সুস্থ হবেন না। তার বোন-ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করানোরও দরকার হতে পারে।

কিন্তু বিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষার্থী কুইনও জানতেন রক্তদাতা খুঁজে পাওয়াটা একটু কঠিনই হবে বটে। কলেজে থাকার সময় তিনি নিজে একবার বোন-ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের জন্য রক্ত দান করতে নাম নিবন্ধন করিয়েছিলেন।

অথচ কুইন এবং তার ডাক্তার যখন তার নিজের জন্য রক্তদাতার অনুসন্ধান করছিলেন তখন মাত্র একটি নামই পাওয়া যায়। তাও আবার কুইনের নিজের নামটিই!

কুইন বলেন, আমি কাঁদব না হাসব বুঝতে পারছিলাম না।

ইতিমধ্যেই পাঁচ মাস পার হয়ে গেছে। এই পাঁচ মাসে কুইনকে চারবার কেমোথেরাপি দেওয়া হয়।

ঘটনাক্রমে তিনি তার শিশুর নাভিকেন্দ্র থেকে সংগৃহীত রক্তের স্টেম সেল ব্যবহার করে পরীক্ষামূলকভাবে পরিচালিত ট্রান্সপ্ল্যান্টেশনের ফলে বেঁচে যান। রক্তের গ্রুপ পুরোপুরি না মিললেও এটি করা সম্ভব।

এই থেরাপি এবং আরেকটি হ্যাপ্লোআইডেন্টিক্যাল ট্রান্সপ্লান্টেশন যেটি করতেও বোন-ম্যারো কোষ ব্যবহার করা হয় (যা রোগীর সাথে অর্ধেক মিললেই চলে)। এই দু্ই চিকিৎসা পদ্ধতি গত কয়েক বছর ধরে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যবস্থায় বিপ্লব ঘটিয়ে দিয়েছে। প্রতিটি শিশুর কোষই বাবা-মায়ের সঙ্গে অর্ধেক মিলে যায়। আবার বাবা-মায়ের কোষও তাদের সন্তানের কোষের সঙ্গে অর্ধেক মেলে।

অনেক ব্লাড ক্যান্সারের রোগীই রক্তের গ্রুপ ও কোষ না মেলায় অতীতে প্রাণ হারিয়েছেন। এমন রোগীদের অনেকেই এখন বেঁচে যাচ্ছেন।

কারণ এখন সকলেরই ডোনার আছে। বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানদের আর সন্তানদের সঙ্গে বাবা-মায়ের বোন-ম্যারো কোষে মিল আছে। ভাই-বোনদের মাঝেও এই মিল আছে। আর দ্বিতীয় পর্যায়ের স্বজন-নাতি-নাতনি, ভাতিজা-ভাতিজি, ভাগিনা-ভাগ্নি এদের সঙ্গেও রোগীর বোন-ম্যারো কোষ মিলে যাওয়ার সম্ভাবনা ৫০%। ফলে যে কোনো রোগীর জন্যই এখন বোন-ম্যারো কোষ সংগ্রহ করা সম্ভব।

তবে বোন-ম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতেও যে ব্লাড ক্যান্সারের চিকিৎসা করা সম্ভব সে ব্যাপারে ডাক্তার এবং রোগীরা এখনো সচেতন হননি।
আর এই চিকিৎসা পদ্ধিতিতে সব রোগীই যে বেঁচে যাবেন তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। কারণ কুইনসহ আরো ১১ জন ব্লাড ক্যান্সারের রোগী পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত নতুন এই চিকিৎসা পদ্ধতিতে বেঁচে গেছেন। কিন্তু একই চিকিৎসা পদ্ধতির প্রয়োগ করা হয়েছিল আরো দুজন রোগীর ওপর। যারা সুস্থ হওয়ার পর পুনরায় ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন এবং মারা যান।

এই চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে গবেষণাগারে এখন একটি বড় ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে।
সূত্র : দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট


মন্তব্য