kalerkantho


ভার্চুয়াল বাস্তবতা কি ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারবে?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৩:১১



ভার্চুয়াল বাস্তবতা কি ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে পারবে?

ডোয়ানা ডিউক চিকিৎসাগতভাবে প্রণোদিত কোমা থেকে জেগে ওঠেন। অগ্নিদগ্ধ হয়ে তার দেহের প্রায় এক তৃতীয়াংশ পুড়ে গিয়েছিল। আর তা থেকে সেরে উঠতেই তার এই কোমায় গমন। কোমায় থাকা অবস্থায় তার একটি চিকিৎসা ছিল ভার্চুয়াল বাস্তবতায় পেঙ্গুইনদের লক্ষ্য করে বরফের গোলা নিক্ষেপ।

১৩ বছর বয়সী ডোয়ানা এক অগ্নি উৎসবে বিস্ফোরণে অগ্নিদগ্ধ হন। অগ্নিদগ্ধ রোগীদেরকে সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে প্রতিনিয়ত ব্যান্ডেজ বদলাতে হয় এবং মরা চামড়াগুলো চেঁছে তুলে ফেলতে হয়।

অনেক সময় এমনকী মরফিনেও তাদের ওই যন্ত্রণা লাঘব করা যায় না। টেক্সাসের যে হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয় সেখানে তাকে চিকিৎসার সময় মনোযোগ অন্যদিকে সরাতে একটি ভার্চুয়াল বাস্তবতার হেডফোন দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে সে এক ভার্চুয়াল বাস্তবতার দুনিয়ায় হারিয়ে যায়। কল্পনায় সে এক 'বরফের জগতে' এক বরফে আবৃত ভূখণ্ডে বিচরণ করে। যেখানে সে বরফ মানুষদেরকে বরফের ঘর তৈরিতে বরফ দলা করে তুলে দেওয়ার কাজ করে।

এটি এখনও পরীক্ষামূলক স্তরে আছে। কিন্তু ভার্চুয়াল বাস্তবতার প্রবক্তারা বলছেন, এর মাধ্যমে তীব্র বেদনা থেকে শুরু করে মস্তিষ্কের স্মৃতিভ্রংশ রোগ আলঝেইমার, অ্যারাকনোফোবিয়া বা মাকড়সাভীতি ও মানসিক অবসাদের মতো রোগের চিকিৎসা করা সম্ভব হবে। ফেসবুক ইনকরপোরেশন, সনি করপোরেশন, এইচটিসি গ্রুপসহ আরো অনেকে ভার্চুয়াল রিয়েলিটি সেট তৈরির প্রতিযোগিতা শুরু করায় এই হার্ডওয়্যারটির মূল্য কমে এসেছে। ফলে রোগীদেরকে বেদনা থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য আরো সাশ্রয়ী ও বিকল্প কোনো উপায়ের অনুসন্ধানকারী হাসপাতালগুলোর জন্য এটি এখন আরো সহজলভ্য হয়েছে।

এ সম্পর্কিত ধারণাটি হলো, মানুষের মস্তিষ্কের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করে ভিন্ন দিকে তার মনোযোগ প্রবাহিত করার মাধ্যমে তাদেরকে তীব্র বেদনা থেকে মুক্তি দেওয়া সম্ভব। কারণ কেউ তার দেহের কোনো ব্যথার ওপর যত বেশি মনোযোগ দেবে ততই তা তার কাছে আরো তীব্রভাবে অনুভূত হবে।

সুতরাং মস্তিষ্ককে যদি একই সঙ্গে বেশি বেশি বিষয়ে ভাবনায় ব্যস্ত রাখা যায় তাহলে বেদনার অনুভূতি কমে আসবে। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বেদনানাশক ওষুধের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের ক্লিনিক্যাল সহযোগী অধ্যাপক বেথ ডার্নাল বলেন, "ভার্চুয়াল বাস্তবতা এমন একটি মনোবিদ্যাগত হাতিয়ার যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং মস্তিষ্কের ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টির প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। "

লস অ্যাঞ্জেলেসের সেডার-সিনাইয়ে রোনাল্ড ইয়ারব্রোর একটি পা পুনঃস্থাপন করা হয়। আগের কৃত্রিম পাটি ব্যর্থ হওয়ার পর তার এই পা পুনঃস্থাপনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাকে এখন মেশিনের মাধ্যমে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি তার বেদনা থেকে মুক্তির জন্য একটি স্যামসাং গিয়ার ভার্চুয়াল বাস্তবতার হেডসেট ব্যবহার করেন। যাতে অ্যাপ্লাইড ভিআর নামের একটি স্টার্টআপ থেকে বিশেষভাবে তৈরি করা সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে।

সাবেক এই ট্রাক চালক জানান, আমি বেদনা নাশক ওষুধ কম ব্যবহার করেই ব্যথা থেকে মুক্তি পেয়েছি। কারণ আমি আমারা শরীরের ব্যথা নিয়ে কোনো চিন্তাই করছি না। ৫৪ বছর বয়সী এই ট্রাকচালক হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বেদনা থেকে মুক্তির জন্য একটি ভার্চুয়াল বাস্তবতার হেডসেট কিনবেন বলেও জানিয়েছেন।
কিন্তু বেদনানাশক হিসেবে ভার্চুয়াল বাস্তবতার কার্যকারিতা এখনও পুরোপুরি প্রমাণিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। হেডসেট খুলে ফেলার পরও কি ভার্চুয়াল বাস্তবতার প্রভাব থাকে? নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের ইন্টিগ্রেটিভ পেইন ম্যানেজমেন্ট এর পরিচালক হোম্যান দানেশ বলেন, "ভার্চুয়াল বাস্তবতা অনেক প্রতিশ্রুতিই নিয়ে এসেছে। কিন্তু এর চিকিৎসার মানদণ্ড হয়ে ওঠার সময় এখনো আসেনি। "
সূত্র : টাইমস অফ ইন্ডিয়া


মন্তব্য