kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নাম যেভাবে কারো জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতাকে প্রভাবিত করে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১৪:০২



নাম যেভাবে কারো জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতাকে প্রভাবিত করে

নামে কী আসে যায়? সম্ভবত আপনার শিশুর ভবিষ্যত প্রভাবিত হয়।
একদল গবেষক সম্প্রতি গবেষণা করে দেখিয়েছেন, কারো নাম তার জীবনকালের সাফল্যকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে।

এবং চাকরি পাওয়া এবং ব্যায়ের অভ্যাসও কী করে নাম দ্বারা প্রভাবিত হয়।
ফলে সন্তানদের নাম নিয়ে বাবা-মায়েদের মধ্যে অুনশোচনার প্রবণতা বাড়ছে। দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, প্রতি পাঁচজনের একজন মা তাদের সন্তানদের ভুল নাম রাখার বিষয়ে অনুতাপ করছেন।
এমনকি অনেক বাবা-মা তাদের সন্তানের একটি সুন্দর নাম রাখার জন্য হাজার হাজার ডলার ব্যয়ে পেশাদার নাম রাখিয়েও ভাড়া করছেন।
এক গবেষণায় কারো নাম কী করে তার জীবনের সাফল্যকে প্রভাবিত করতে পারে তা উঠে এসেছে:
১. আপনার নামের উচ্চারণ যদি সহজ হয় তাহলে লোকে আপনাকে বেশি আনুকূল্য দেখাবে
নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের নাম উচ্চারণ করা সহজ কর্মস্থলে তাদের জন্য উচ্চ মর্যাদাকর অবস্থান অর্জনও সহজ হয়। আর যেসব কম্পানির কর্মীদের নাম সহজ হয় সেসব কম্পানি স্টক মার্কেটেও ভালো করে।
২. আপনার নামটি যদি এমন হয় যা সচরাচর শোনা যায় তাহলে চাকরি পেতেও আপনার জন্য সহজ হবে
মারুকুয়েটে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, সচরাচর নামগুলোই বেশি পছন্দনীয়। সচরাচর নামের লোকরা সহজেই চাকরি পান। আর যাদের নাম বিরল তারা সহজে চাকরি পান না।
৩. বিরল নামের লোকদের অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা বেশি
শিপেনসবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০০৯ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, কারো নামের জনপ্রিয়তার সঙ্গে কিশোর অপরাধমূলক আচরণের শক্তিশালি সম্পর্ক রয়েছে। জাতিগত পরিচয় নির্বিশেষে অজনপ্রিয় নামের লোকদের অপরাধমূলক তৎপরতায় জড়ানোর সম্ভাবনা বেশি।
গবেষকদের ধারণা অজনপ্রিয় নামের তরুণরা তাদের সমবয়সীদের কাছ থেকে জনপ্রিয় নামের অধিকারীদের চেয়ে একটু ভিন্ন আচরণ পায় বলেই হয়তো তাদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা সৃষ্টি হয়। যে কারণে তাদের জন্য কোনো সম্পর্কে জড়ানোটাও কঠিন হয়। এছাড়া নিজেদের নাম অপছন্দনীয় হওয়ার কারণেও অনেক কিশোরের মনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। যার ফলে সে অপরাধপ্রবণ হয়ে ওঠে।
৪. নামের শেষ অংশে যদি বর্ণমালার শুরুর দিককার বর্ণমালা থাকে তাহলে ভালো স্কুলে ভর্তির সুযোগ হয়।
৫. নামের শেষ অংশে যদি বর্ণমালার শেষদিককার বর্ণ থাকে তাহলে তারা খরুচে স্বভাবের হয়।
৫. নামের মাঝখানে ইনিশিয়াল বা সংক্ষেপিত বর্ণ ব্যবহারকারীদেরকে লোকে বেশি বুদ্ধিমান ভাবেন।
৬. নামের ইনিশিয়াল বা সংক্ষেপিত বর্ণের সঙ্গে মিল আছে এমন কম্পানিতে সহজেই চাকরি পাওয়া যায়।
৭. যাদের নামে আভিজাত্যের ছাপ আছে তারা উচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন অবস্থানে কাজের সুযোগ পান।
৮. মেয়েলি নাম সম্পন্ন ছেলেরা স্কুল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে।
৯. যে নারীদের নাম শুনে তিনি নারী না পুরুষ তা বুঝা যায় না অর্থাৎ তার লিঙ্গ পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয় না তারা নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে সাফল্য লাভে সক্ষমতা প্রদর্শণ করেন।
১০. যেসব পুরুষের নামের প্রথম অংশ ছোট হয় তারা নির্বাহী দায়িত্ব পান বেশি। এক নাম বিশেষজ্ঞও বলেছেন, ক্ষমতায় থাকা লোকেরা বন্ধুত্ব পরায়ণতা এবং সরলতা প্রদর্শনের জন্য ডাকনাম ব্যবহার করেন।
১১. শীর্ষ অবস্থানে থাকা নারীরা তাদের পুরো নাম ব্যবহার করেন।
১২. নামোচ্চারণে একই ধরনের আওয়াজ হয় এমন নামের অধিকারী লোকদের মধ্যে বিয়ে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
১৩. সহকর্মীদের নামের ইনিশিয়াল বা সংক্ষেপিত বর্ণের সঙ্গে কারো নামের সংক্ষেপিত বর্ণ মিলে গেলে তারা একসঙ্গে ভালো কাজ করেন।
সূত্র: বিজনেস ইনসাইডার


মন্তব্য