kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘দ্য পুওরেস্ট অফ দ্য পুওর’

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০১:২৬



‘দ্য পুওরেস্ট অফ দ্য পুওর’

সেপ্টেম্বর ৪৷ ঊষা উথুপ থাকবেন মাদার টেরেসার 'ক্যানোনাইজেশন অনুষ্ঠানে৷ ভ্যাটিকানে৷ সেই অনুষ্ঠানে তিনি যে দুটি গাইবেন, তার মধ্যে একটি তিনি লিখেছিলেন মাদারের মৃত্যুদিনে৷ শীর্ষনাম হিসেবে সেটিই রইল৷ মাদারের সঙ্গে তাঁর ৪৭ বছরের সম্পর্কের কিছু ঘটনা ভ্যাটিকান উড়ে যাওয়ার আগে বললেন প্রখ্যাত গায়িকা৷

কাগজের অফিস থেকে যখন ফোন আসছে, আমি ইমোশনাল হয়ে পড়ছি৷ যতটা গুছিয়ে কথাগুলো বলা যায়, সেটাও বলতে পারছি কিনা, জানি না, কারণ মাদারকে নিয়ে আমার এত স্মৃতি...কোনটা ছেড়ে কোনটা বলি৷ কাল রাতে ব্যাঙ্গালুরুতে শো করছিলাম৷ আজ সকালে ফিরেই মিটিং৷ (প্রসঙ্গত ঊষা উত্থুপ কথা বলেন সোমবার, ২৯ অগস্ট) নিঃশ্বাস ফেলার সময় নেই৷ কিন্ত্ত সবকিছুর মধ্যেই মাদারের সঙ্গে কাটানো স্মৃতিগুলো মনে পড়ছে বারবার৷ মাদার নেই, কিন্ত্ত আমার কখনও এটা মনে হয় না, উনি নেই৷ উনি সর্বক্ষণ রয়েছেন আমাদেরই মধ্যে৷

দু' তিনটে ঘটনা বলতে চাই৷ মাদারের সঙ্গে তখন বেশ চোনাজানা তৈরি হয়ে গিয়েছে৷ মানে আমার মধ্যেও আর কোনও আড়ষ্টতা নেই, মাদারকে কিছু জিজ্ঞেস করার ব্যাপারে৷ একদিন পৌঁছে দেখি, সাংঘাতিক ছেঁড়া একটা সোয়েটার পরে মাদার ঘুরে বেড়াচ্ছেন৷ আমি অভিযোগ করার সুরে জিজ্ঞেস করেছিলাম, 'কেন এরকম ছেঁড়া সোয়েটার'? মাদার বলেছিলেন, 'পুওরেস্ট অফ দ্য পুওরদের নিয়ে আমার কাজ৷ আমাকে এটাই মানায়!'

যে লক্ষ্যে মাদার পৌঁছতে চেয়েছিলেন, তা নিয়ে ওঁর কী ভীষণ প্যাশন ছিল, সে কথা জানে সকলে৷ কিন্তু মাদারের সঙ্গে আমার মতো বছরের পর বছর জড়িয়ে থেকেছে যারা, তারাই বোঝে, মাদারের কী দারুণ 'সেন্স অফ হিউমার' ছিল৷

জীবনে বহু সময় এমন এসেছে, মানসিক দিক থেকে একেবারে ভেঙে পড়েছিলাম৷ তখন মাদারের কাছে গিয়ে পৌঁছেছি৷ কেঁদে ফেলেছি৷ সে সময় মাদার আমায় বোঝাতেন, কীভাবে কষ্ট সহ্য করার ক্ষমতা বাড়াতে হয়৷ নির্দিষ্ট কোনও ধর্ম নিয়ে মাদার কখনও কথা বলতেন না৷ ওঁর কাছে সব ধর্মই সমান৷ কিন্ত্ত খুব যখন কাঁদছিলাম, আমায় বলেছিলেন-একবার চিন্তা করো, ক্রুশবিদ্ধ হয়ে যিশু কতটা কষ্ট পেয়েছে৷ পরমুহূর্তেই অনুভব করেছি, আমি কতটা ভালো আছি৷

৪ তারিখ মাদারের ক্যানোনাইজেশনে আমি ভ্যাটিকানে উপস্থিত থাকতে পারব, এটা ভেবে আমি সত্যিই খুশি৷ আমি অবশ্য মাদারের সাধ্বীরূপ অনুভব করেছি আগেই৷ কিন্ত্ত এই যে ফর্ম্যাল ঘোষণা, যেখানে সারা পৃথিবী মাদারকে সেন্টরূপে স্বীকৃতি দেবে, সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকা আমার জীবনের বড় পাওনা৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার আমন্ত্রণ যখন পাই, আমি পাঁচ-ছ'টা গান পাঠাই ওঁদের৷ যে পাঁচ-ছ'টা গান আমার মন গাইতে চাইছিল৷ তার মধ্যে থেকে দু'টো গান নির্বাচন করে, ওঁরা আমায় জানান৷ প্রথম গান 'দ্য পুওরেস্ট অফ দ্য পুওর'৷ মাদার আমায় ছেড়ে চলে যাওয়ার দিনে এই গান লিখেছিলাম৷ অন্য গানটি 'লাখ লাখ হাজার হাজার', যেটি লিখেছেন সুনীল বরণ৷

মাদারের সঙ্গে আমার কতদিনের সম্পর্ক? মোটে ৪৭ বছর৷ আসলে সারা জীবনেরই অ্যাসোসিয়েশন এটা৷ এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার জন্য যে শহর ছাড়ছি, বার-বার মনে হচ্ছে, এ যে মাদারেরই ইচ্ছা!

সূত্র: এই সময়


মন্তব্য