kalerkantho


যন্ত্রণা ভোলাতে দুঃখের গানই কি সবচেয়ে কার্যকর?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ১৪:০৩



যন্ত্রণা ভোলাতে দুঃখের গানই কি সবচেয়ে কার্যকর?

মনের যন্ত্রণা উপশম করতে আপনি যদি আনন্দ-উচ্ছাসপূর্ণ গান ব্যবহার করতে চান তাহলে তাতে ব্যর্থ হবেন। কারণ সম্প্রতি গবেষকরা অনুসন্ধানে জানতে পেরেছেন দুঃখের গানই দুঃখ ভোলাতে সবচেয়ে কার্যকর। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

গবেষকরা জানিয়েছেন, মনের যন্ত্রণাময় পরিস্থিতিতে ভালো অনুভূতি তৈরি করতে সহায়তা করে দুঃখের গান। এ ক্ষেত্রে অতীতে অনেকেই আনন্দের গান দিয়ে মনের দুঃখ ভোলানোর কথা বলতেন। তবে এবার গবেষকরা অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছেন, দুঃখের গানই মানুষের মনের দুঃখ উপশমে কার্যকর।

এ বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য গবেষকরা ৪৫০ জন ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেন। তারা এ জন্য তাদের বিভিন্ন ধরনের অনুভূতি ও পরিস্থিতির শিকার ব্যক্তিদের নিয়ে নিবিড়ভাবে গবেষণা করেন। এতে দেখা যায়, মনের দুঃখজনক পরিস্থিতিতে অংশগ্রহণকারীরা যখন আনন্দময় সংগীত শোনেন তখন তা পরিস্থিতিকে আরও দুঃখজনক করে তোলে। এতে পরিস্থিতি আরও আবেগঘন হয়ে ওঠে এবং দুঃখ আরও বেড়ে যায়।
এ বিষয়ে গবেষণাটির অন্যতম গবেষক অ্যানেমিকে ভ্যান ডেন টোল। তিনি যুক্তরাজ্যের ডি মন্টফোর্ট ইউনিভার্সিটি লেইসিস্টারের (ডিএমইউ) গবেষক।

টোল বলেন, 'দুঃখবোধ প্রায়ই আবেগগত ক্ষতির বিষয় হয়ে দাঁড়ায়, যা কখনো সমাধান করা যায় না কিংবা ফিরিয়ে আনা যায় না। '

তিনি আরও বলেন, 'এ ক্ষেত্রে বিষয়টি দূর করে ভালো অনুভূতি আনার একমাত্র বাস্তবসম্মত উপায় হলো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। আমরা দেখেছি যারা এ ধরনের পরিস্থিতিতে আনন্দের নয় বরং দুঃখের সঙ্গীত শোনেন তারা সহজে তা মানিয়ে নিতে পারেন। '

তিনি জানান, আমরা যখন বিভিন্ন মানুষদের দুঃখের সংগীত পছন্দ করার কথা জিজ্ঞাসা করি তখন তারা বিভিন্ন সংগীতের সন্ধান দেন, যেগুলো তাদের দৃষ্টিতে সত্যিই দুঃখের সংগীত। এগুলো মানুষের দুঃখের পরিস্থিতিতে তাদের স্বাভাবিক হতে সহায়তা করে।

সুখের সংগীত হিসেবে যেসব সংগীত পরিচিত, আনন্দময় সেসব সংগীত কখনোই দুঃখময় পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে যায় না। এতে বরং দুঃখবোধ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই গবেষকরা বলছেন, দুঃখময় পরিস্থিতির নেতিবাচক আবেগকে গ্রহণ করে নেওয়ার জন্য দুঃখের সংগীত শোনা উচিত।


মন্তব্য