kalerkantho


৩ কারণে আপনি কি বাড়তি খাচ্ছেন?

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩১ মার্চ, ২০১৬ ১৩:১৩



৩ কারণে আপনি কি বাড়তি খাচ্ছেন?

খাবারকে সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করার অভাবে অনেকেরই দেহের ওজন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয় না। এ ক্ষেত্রে শুধু শরীরের খাবারের প্রয়োজন নয়, নানা কারণে ক্ষুধা ছাড়াই আমরা বাড়তি খেতে পারি।

এ ক্ষেত্রে মজার খাবার দেখে লোভ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা কিংবা অন্যমনস্কভাবে বাড়তি খেয়ে ফেলার মতো ঘটনা অনেকেই ঘটান। এ লেখায় রয়েছে তিনটি কারণ, যে কারণে অনেকেই বাড়তি খাবার খেয়ে ফেলেন। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফক্স নিউজ।
১. মজাদার খাবার
বর্তমানে কেউই এক বাটি চিনি বা লবণ খেতে চান না। কিন্তু এ চিনি, ফ্যাট ও লবণ ব্যবহার করে যখন নানা মজাদার খাবার তৈরি করা হয় তখন তা অনেকেই বাদ দিতে পারেন না। এ বিষয়ে লেখক ড.  ডেভিড কেসলার ‘দ্য অ্যান্ড অব ওভারইটিং’ নামে একটি বই লিখেছেন। তিনি জানান, চিনি/লবণ/ফ্যাট ইত্যাদি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকর হিসেবে পরিচিত খাবারকেও বাড়তি আকর্ষণীয় করে তোলা হয়। এতে এসব খাবার বাদ দিতে অনেকেই অপারগ হয়ে পড়েন। ফলে এসব খাবার বাড়তি খাওয়ার অনুপ্রেরণা যোগায়।
তিনি জানান, এসব মজাদার খাবার আপনি একবার একটু খেলেই আরও খাওয়া শুরু করেন। এতে খাওয়ার পরিমাণ বাড়তে থাকে।
বহু খাবারই আপাতদৃষ্টিতে স্বাস্থ্যকর বলে প্রচলিত। কিন্তু বিক্রেতারা এসব খাবারে বাড়তি চিনি, লবণ ও ফ্যাট যোগ করে উপাদেয় করে তোলেন। ফলে এটি আর স্বাস্থ্যকর খাবারের তালিকায় পড়ে না। তবে এটি ভোক্তাদের বাড়তি খাওয়ার প্রবণতা সৃষ্টি করে।
২. কৃত্রিম চিনি
বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতনতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে জিরো ক্যালরি খাবার ও পানীয়। এসব খাবার আপনার মেদ কমানোর জন্যই তৈরি, এমনটাই প্রচার করা হয়। যদিও এ ধরনের পণ্যে ব্যবহৃত হয় কৃত্রিম চিনি। যেমন আইস টি। অনেকেই জিরো ক্যালরির আইস টি পান করতে চান। এটি সুক্রালোস নামে কৃত্রিম একধরনের চিনি ব্যবহার করে মিষ্টি করা হয়। এটি দেহের জন্য মোটেই ভালো নয়। কারণ এর কিছু উপাদান দেহে ক্যালরির গণ্ডগোল ঘটায়। এতে আপনার দেহের নানা সমস্যা হতে পারে।
আপনি যখন চিনি দ্বারা তৈরি খুব মিষ্টি কোনো খাবার গ্রহণ বা পানীয় পান করবেন তখন দেহ স্বাভাবিকভাবেই তা বেশি গ্রহণ করতে গেলে প্রতিক্রিয়া দেখাবে। অর্থাৎ প্রাকৃতিক চিনির খাবার স্বাভাবিকভাবেই বেশি খাওয়া যায় না। কিন্তু কৃত্রিম চিনির বিষয়টি আলাদা। দেহ এ জিনিসটি বেশি খেলেও তাতে বাধা দেয় না। ফলে কৃত্রিম চিনির সঙ্গে দেহে বাড়তি খাবার প্রবেশ করতে পারে। এতে দেহের নানা প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ওজন বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।
৩. অপর্যাপ্ত ঘুম
ঘুমের সঙ্গে খাবারের একটি নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম কম হলে মানুষের খাওয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়। শুধু ঘুমের পরিমাণ কম হলেই নয়, ঘুমে যদি ব্যাঘাত ঘটে তাহলেও তাতে খাওয়ার মাত্রা পরিবর্তিত হতে পারে। এ কারণে দেহের সঠিক ওজন বজায় রাখার জন্য চিকিৎসকরা পর্যাপ্ত ঘুমাতে বলেন।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের পরিমাণ কমে গেলে কিংবা অপর্যাপ্ত ঘুম হলে তা খাওয়ার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। এতে ওজনবৃদ্ধি ও স্থূলতার মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া ঘুমের পরিমাণ কমে গেছে দেহের ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সও বেড়ে যায়। ফলে দেহের ওজন বৃদ্ধি পেতে পারে।


মন্তব্য