kalerkantho

শুক্রবার । ২০ জানুয়ারি ২০১৭ । ৭ মাঘ ১৪২৩। ২১ রবিউস সানি ১৪৩৮।


ব্যস্ততা যখন কর্মক্ষমতা হ্রাস করে

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

৩০ মার্চ, ২০১৬ ১৮:২১



ব্যস্ততা যখন কর্মক্ষমতা হ্রাস করে

কর্মক্ষেত্রে সঠিক উপায়ে ব্যস্ত থাকা আপনার ক্যারিয়ারের উন্নতি এনে দিতে পারে। কিন্তু একইভাবে ব্যস্ততা কখনো কখনো ক্ষতির কারণও হতে পারে। এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে ফোর্বস।
আপনার ব্যস্ততার পরিমাণ যদি অনেক বেশি হয়ে পড়ে তাহলে তা স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে। অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে আপনি যতই কঠোর পরিশ্রমী হোন না কেন, এতে আপনার কাজের ক্ষমতা কমে যাবে।
ব্যস্ত একজন মানুষের কথা চিন্তা করলে যে বিষয়টি উঠে আসে তা হলো- টেলিফোনের ঘন ঘন রিং, ইমেইলের বন্যা ও অসংখ্য বড় ও ছোট প্রকল্প নিয়ে মাথা খারাপ করা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে একসঙ্গে একাধিক কাজ করতে গিয়ে গণ্ডগোল বেধে যায় অনেকেরই। আর এতে কর্মক্ষমতা বাড়ার বদলে কমে যায়।
এ বিষয়ে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব মিশিগানের গবেষক ডেভিড মেয়ার একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। এতে জানা গেছে, কোনো একটি কাজের মাঝপথে আপনি যদি তা থেকে উঠে যান কিংবা অন্য কাজ শুরু করেন তাহলে কর্মক্ষমতা ২৫ শতাংশ কমে যায়।
মেয়ার বলেন, ‘মাল্টিটাস্কিং বা একসঙ্গে একাধিক কাজ করা আপনার কর্মক্ষমতা ধীর করে দেয়। এতে ভুলের সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায়। ’
তিনি আরও বলেন, ‘কাজের মধ্যে বিঘ্ন ঘটা কাজকে খুবই বাজেভাবে প্রভাবিত করে এবং কাজের বিষয়ে মস্তিষ্কে তথ্য প্রক্রিয়াজাত করতে ব্যাঘাত ঘটায়। ’
সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান মাইক্রোসফট এ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করে। তারা দেখতে পায় এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটি বিঘ্ন ঘটার ফলে ১৫ মিনিট করে বাড়তি সময় ব্যয় হয়। যেমন ইমেইল করার সময় কোনো ফোন এলে কিংবা রিপোর্ট লেখার সময় বিঘ্ন ঘটলে এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ধরনের ব্যাঘাত ঘটার ফলে অনেকেই অনলাইনে সার্চ করতে বা অন্যান্য কাজে সময় ব্যয় করে।
এ বিষয়ে মাইক্রোসফটের গবেষক এরিক হরভির্জ বলেন, ‘আমি খুবই আশ্চর্য হয়েছি এটা দেখে যে, মানুখ কত সহজেই বিক্ষিপ্ত হয়ে যায় এবং তাতে কাজের বিঘ্ন ঘটে।
তিনি জানান, এ বিষয়টি কাজের ক্ষেত্রে খুবই ক্ষতিকর।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, ব্যস্ততার কারণে উৎপাদনশীলতা কমে যাওয়ার মূল কারণ মস্তিষ্কের ‘বটলনেক’ প্রবণতা। এটি একসঙ্গে একাধিক কাজে ব্যস্ত থাকার কারণে ঘটে। আপনি হয়ত একাধিক বিষয়ে এগিয়ে নেওয়ার চিন্তা করছেন। কিন্তু আপনার মস্তিষ্ক একসঙ্গে শুধু একটি কাজই করতে পারে। এ কারণে আপনার একাধিক কাজের ইচ্ছে থাকলেও মস্তিষ্ক সব কাজ বন্ধ করে দিয়ে একটি কাজে মনোযোগী হতে পারে।
আমরা অনেকেই মনে করি ব্যস্ততা আমাদের কাজের গতি বাড়িয়ে দেবে। কিন্তু তা একটি নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত কাজ করে। একসঙ্গে যখন সব কাজ করার কথা চিন্তা করা হয় তখন তা মস্তিষ্কের কাজে ব্যাঘাত তৈরি করে। এতে কাজের গতি কমে যায় এবং মস্তিষ্কের অন্যান্য প্রক্রিয়াও ধীর করে দেয়। এ কারণে একসঙ্গে একাধিক কাজ করার বিষয়টি এড়িয়ে চলতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।


মন্তব্য